ঢাকা, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার

তবুও থেমে নেই চিকিৎসা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার, ১:৪২

কেউ গুলিবিদ্ধ। কারও ঝলসানো শরীর। যন্ত্রণায় ছটফট করছে। চিকিৎসা ব্যয়ের কোন অর্থ নাই। তবুও থেমে নেই চিকিৎসা। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা আহত রোহিঙ্গাদের গত ২৬শে আগস্ট থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। হাসপাতালের বার্ন ও প্লাষ্টিক সার্জারিসহ কয়েকটি ইউনিটে মোট ৯৬ জন রোহিঙ্গার চিকিৎসা চলছে। টাকা না থাকলেও মানবিক কারণে তাদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেকের শরীরে লাগানো আছে স্যালাইন। খাওয়ানো হচ্ছে ওষুধ। গুলির ক্ষতস্থান ও ঝলসানো শরীর ব্যান্ডেজে মুড়িয়ে রাখার গজ থেকে সবরকম প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে ওরা। খাবারও সরবরাহ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আবুল কালাম জানান, চমেকের বার্ন ইউনিটে ১৭ জন রোহিঙ্গা চিকিৎসাধীন রয়েছে। যাদের বেশিরভাগেরই ৫০ ভাগ ঝলসে গেছে। ফলে প্রত্যেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ অবস্থায় চিকিৎসা ব্যয়বহুল। কিন্তু এদের কোনো অর্থ নেই। তবুও থেমে নেই এদের চিকিৎসা। তিনি বলেন, রোগী কল্যাণ সমিতির তহবিলের অর্থে চলছে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগেও কারও কারও চিকিৎসা হচ্ছে। হাসপাতালের ২৬ নং ওয়ার্ডের চিকিৎসক শাহনাজ পারভিন বলেন, এ ওয়ার্ডে ৫৬ জনের মতো রোহিঙ্গা রয়েছে। যাদের বুকে, পিটে, পায়ে, উরু, হাতে গুলিবিদ্ধ। এদের অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, গত ২৬শে আগষ্ট থেকে এ পর্যন্ত চমেক হাসপাতালে ৯৬ জন রোহিঙ্গা চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া দু‘জন মারা গেছে। চারজন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছে। একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় পালিয়ে গেছে।  রোগী কল্যাণ সমিতির সমাজসেবা কর্মকর্তা অভিজিৎ সাহা জানান, হাসপাতালে যেসব ওষুধ আছে, কর্তৃপক্ষ থেকে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বাইরে বিভিন্ন পরীক্ষা, এমআইআর, সিটিস্ক্যান অর্থাৎ সুই-সুঁতো থেকে সব ধরনের খরচ রোগী কল্যাণ সমিতি থেকে দেয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন খরচ না হলেও সামনে অনেক খরচ হবে। তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত ওষুধপত্র সরবরাহ করা হলেও সামনের সপ্তাহ থেকে তাদের অস্ত্রোপচার শুরু হবে। তখন অনেক খরচ হবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।