× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২০, বুধবার

গদখালীর ফুলে হাসে কোটি মুখ

মন ভালো করা খবর

নূর ইসলাম, যশোর থেকে | ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার, ৯:৩৩

যশোরের ফুলের রাজ্য গদখালী-পানিসারার ফুল চাষীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিনরাত বাগানের পরিচর্যা চলছে। এখন ফুলের ভরা মৌসুম। তার ওপর ধরতে হবে সামনের ৩টি উৎসব। লক্ষ্য কোটি টাকা উপার্জনের। সে কারণেই তাদের এতো তোড়জোড়। নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। নেই কোন ফুসরত।
ফুলের পরিচর্যার পাশাপাশি ফুল সংরক্ষণেও বাড়তি সময় ব্যয় করছেন চাষীরা।
 
সামনেই যে
 
ন যশোরের গদখালীর ফুল চাষীদের ঈদ উৎসব। আনন্দে মাতোয়ারা গোটা এলাকা। সর্বত্রই সাজ সাজ রব। বাড়তি দাম ধরতে চাষীরা গোলাপের কুঁড়িতে সাদা ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছেন। ফুল যেন ফোটে দেরি করে। আগামী ১৩, ১৪ ও ২১শে  ফেব্রুয়ারির বাজার ধরতেই তাদের এ আপ্রাণ চেষ্টা। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার তারা এই তিন মৌসুমে ৮০ কোটি টাকার ফুলের বিকিকিনি করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

আসলে ফেব্রুয়ারিতে রয়েছে বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস আর মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আগামী ১৩ই  ফেব্রুয়ারি ১লা পহেলা ফাল্গুন বসন্ত উৎসব, পরের দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দুটি দিবসে প্রিয়জনের মন রাঙাতে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে দেশের তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীসহ সব বয়েসীরা। প্রিয়জনের ভালোবাসা প্রকাশে ফুলই শ্রেষ্ঠ। সেইসব মানুষের মনের খোরাক মেটাতে গদখালীতে চাষীরা এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন। পুরুষের পাশাপাশি কোমর বেঁধে ক্ষেতে কাজ করছেন নারীরাও।

যশোর শহর থেকে ঐতিহাসিক যশোর রোড ধরে পশ্চিমে ৩০ কিলোমিটার এগুলেই গদখালী বাজার। এই বাজারকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে দেশের ফুলের রাজধানী। লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে এই অঞ্চলের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে দেশি বিদেশী হরেক জাতের ফুল।  ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা ইউনিয়নের ২০ গ্রামের প্রায় অধিকাংশ চাষী তাদের জমিতে ধান,পাটের চাষ চুকিয়ে সারা বছরই ফুলের আবাদ করছেন। তাদের উৎপাদিত রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকাসহ ১১ ধরনের ফুল সারাদেশের মানুষের মন রাঙাচ্ছে। বিশেষ করে বসন্ত দিবসে, ভালোবাসা দিবসে এসব ফুলের বিকল্প নেই। এর ৭ দিন পরেই অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি । আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস।  ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেও রয়েছে এ ফুলের ব্যাপক চাহিদা। তাই বছরের এ তিনটি দিবসকে ঘিরেই হয় মূল বেচাকেনা।
 
পাটুয়াপাড়ার বাসিন্দা ফুলচাষী সাহিদা বেগম বলেন, ‘আমরা গোলাপের কুঁড়িতে ক্যাপ পরিয়ে রাখি, যাতে ফুল একটু দেরি করে ফোটে। বসন্ত দিবস, ভালোবাসা দিবস আর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে যাতে ফুল বাজারে দেয়া যায়। প্রতিটি গোলাপে ক্যাপ পরানোসহ খরচ প্রায় পাঁচ টাকার মতো। যদি ৮-১০ টাকা বিক্রি করা যায় তাহলে ভালো মুনাফা হবে।
ফুলচাষী ও ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার আমি ১৫ বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা, ডাবল রজনীগন্ধা (ভুট্টা) ও হাইব্রিড রজনীগন্ধা (উজ্জ্বল), গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা এবং গ্লাডিওলাস চাষ করেছি। গত ২মাস ফুলের বাজার একটু খারাপ গেছে। আবার এসএসসি পরীক্ষার কারণে দাম কিছুটা কম। কিন্তু বসন্ত উৎসব, ভ্যালেনটাইনস ডে এবং মহান শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে ২০ লাখ টাকার ফুল বিক্রির আশা করছি।

ফুলচাষী সোহাগ হোসেন বলেন, ‘তিনটি দিবসকে সামনে রেখে ফুলের বাগান পরিচর্যা করছি। এবার প্রতি  বিঘা জমির গোলাপ এক লাখ টাকা বিক্রির আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
জারবেরা ফুল ব্যবসায়ী আশরাফুল আলমের ম্যানেজার রনি ইসলাম বলেন, এখন প্রতি সপ্তায় ৬-৭ হাজার পিস ফুল বিক্রি হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ২উৎসব ও একুশে  ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে আমরা কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।’

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ারস সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘সারাদেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে এই ফুল চাষকে কেন্দ্র করে। প্রায় ৩০ হাজার কৃষক ফুলচাষের সঙ্গে  সরাসরি সম্পৃক্ত। এরমধ্যে কেবল যশোরেই রয়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষক। যারা মানুষের মনে আনন্দ দিতে উৎসবকে রঙিন করতে সারা বছর ফুলের উৎপাদন ও বিকিকিনি করে থাকে। সারা বছর টুকটাক ফুল বিক্রি হলেও মূলত  ফেব্রুয়ারি মাসের তিনটি দিবসকে সামনে রেখেই জোরেশোরে এখানকার চাষিরা ফুল চাষ করে থাকেন। এবার এ তিনটি দিবসকে সামনে রেখে এখানকার চাষিরা প্রায় ৮০কোটি টাকার ফুল বিক্রি করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি অধিদপ্তর জানায়, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে। আগামিতে আরো এর চাষ বৃদ্ধি পাবে। কেননা, ফুল চাষ বেশ লাভজনক ।
ঝিকরগাছা আমীর হামজা মাস্টার জানান, যশোরের ফুল চাষের জনক পানিসারার শের আলী। ১৯৮৩ সালে গদখালীতে মাত্র ৩০ শতক জমিতে ফুল চাষ শুরু করেন শের আলী। তখন অনেকেই তাকে দেখে উপহাস করতো। কেউ কেউ গালমন্দ করতো। প্রথম দিকে ক্ষেতে ফুল তেমন একটা দামে বিক্রি হতো না। কিন্তু কালক্রমে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। এখন বানিজ্যিক ভাবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে এই অঞ্চলের কৃষি বলতেই এখন ফুল চাষ। দেশে উৎপাদিত ফুলের প্রায় ৮০ শতাংশের যোগান দিচ্ছেন গদখালী অঞ্চলের চাষীরা। দেশের গন্ডি পেরিয়ে গদখালীর ফুল এখন যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ  কোরিয়াসহ বিশে^র নানা দেশে। ইতিমধ্যে গদখালীতে উৎপাদিত ফুল সংরক্ষণের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি অত্যাধুনিক ফুল হিমাগার। চাষীরা তাদের উৎপাদিত ফুল মৌসুম ধরার জন্য স্বল্প খরচে সেই হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারছেন। ফলে চাহিদার ভিত্তিতে এখানকার চাষীরা এখন ফুল সরবরাহ করে বাড়তি লাভবান হচ্ছেন। অফ সিজনে আর কম দামে ফুল বিক্রি করতে হচ্ছে না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর