× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ নভেম্বর ২০২০, রবিবার

মস্কোতে রবীন্দ্রনাথ পেয়েছিলেন ‘ডেথ মাস্ক’

শিক্ষাঙ্গন

ড. মাহফুজ পারভেজ | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার, ৭:০৭

করোনার বৈশ্বিক মহামারির সঙ্কুল পরিস্থিতিতে ‘মাস্ক প্রবল আলোচিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধির আবশ্যিক অঙ্গ এখন ‘মাস্ক’। কিন্তু আজ থেকে ঠিক ৯০ বছর আগে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ায় গিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উপহার পেয়েছিলেন ‘ডেথ মাস্ক’।

১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার পর বিশ্বের নানা দেশ থেকে ভ্রমণের আমন্ত্রণ আসতে থাকে। ১৯২৫ থেকে ১৯২৮ সালের মধ্যে পাঁচ বার সোভিয়েট ভ্রমণের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। শেষ অবধি ১৯৩০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মস্কো পৌঁছান তিনি।

রবীন্দ্রনাথ সেদেশে অবস্থান করেছিলেন ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে তাঁর ঠাসা কর্মসূচি ছিল। কবির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল রুশ সমাজের নানা স্তরের মানুষ তথা কৃষক, শ্রমিক, শিল্পী, লেখক, শিক্ষক, ছাত্র, সংস্কৃতি কর্মী, মৈত্রী সমিতির নেতৃবর্গের।
রবীন্দ্রনাথের সেই ভ্রমণের প্রাঞ্জল বিবরণ আছে কবির রচিত ‘রাশিয়ার চিঠি’ গ্রন্থে।
 
১৯৩০ সালের সফরে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের তরফে কবির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল লেভ তলস্তয়ের মৃত্যুর পর স্মারক হিসেবে নেওয়া মুখের ছাঁচ বা ‘ডেথ মাস্ক’। মস্কোতে আনুষ্ঠানিকভাবে তা তুলে দেওয়া হয় কবির হাতে। বর্তমানে  তা রাখা আছে শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবন মিউজ়িয়ামে। অনেক পরে, ১৯৯১ সালে মস্কোর ফ্রেন্ডশিপ পার্কে স্থাপিত হয় কবির মূর্তি, যা বাঙালি ভাস্কর গৌতম পালের গড়া।

এ বছর, ২০২০ সালে, রবীন্দ্রনাথের সোভিয়েট সফরের নব্বইতম বার্ষিকীতে (১৯৩০-২০২০) করোনার কারণে ‘মাস্ক’ সারা বিশ্বেই প্রবলভাবে দৃশ্যমান। খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রাচীন গ্রিসে সর্বপ্রথম 'মাস্ক' বা মুখোশ ব্যবহৃত হয়। গ্রিক নাটকে বিভিন্ন চরিত্রের জন্য 'মাস্ক' ব্যবহার ছিল বাধ্যতামূলক। কারণ, নাটকে খুনি, চোর, নায়ক, বা খল চরিত্রে অভিনয় করার সময় 'মাস্ক' ব্যবহার করতে হতো চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে। এতে ঐ চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হতো দর্শকদের কাছে।

প্রাচীন গ্রিস দেশের নাটকে 'মাস্ক' পরিধানের আরেকটি কারণও ছিল। তা হলো, নাটকে কোনো আপত্তিকর চরিত্রে অভিনয় করলেও 'মাস্ক'-এর কারণে প্রকৃত লোকটিকে চেনার উপায় ছিল না। এর মাধ্যমে সমাজে কোনো অভিনেতার মান-মর্যাদা হানির সুযোগ বন্ধ করা হয়েছিল।  

পরবর্তীতে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় নিরাপত্তা বিধানের জন্য 'সায়েন্টিফিক মাস্ক'-এর প্রচলন হয় ল্যাবরেটরিতে। আরো পরে অক্সিজেন প্রদানের সুবিধার্থে ও নানা চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে উদ্ভব হয় 'মেডিকেল মাস্ক'।

এর বাইরেও নানা অপরাধমূলক কাজ, ডাকাতি, অপহরণের সময় দুর্বৃত্তরা 'মাস্ক' বা মুখোশ ব্যবহার করে আসছে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন কাপড়ের 'মাস্ক' ছাড়াও নানা ধরনের 'সিনথেটিক মাস্ক' মুখের চামড়ার সঙ্গে লেপ্টে দিয়ে অপরাধীরা চেহারা সম্পূর্ণভাবে বদলে ফেলে। ক্রাইম থ্রিলার চলচ্চিত্রে তেমনটি আকছার দেখা যায়।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর 'মাস্ক' ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক দৃশ্যপটে চলে আসে। প্রথমদিকে একটি দ্বিধা ছিল যে, 'মাস্ক' আক্রান্তরা নাকি সবাই ব্যবহার করবে। স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা ও  বিতর্কের পর এখন করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধিতে সকলের জন্য 'মাস্ক' ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে পাবলিক প্লেসে, ভিড়ে, ঘরের বাইরে, সামাজিক-ব্যবসায়িক-প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে 'মাস্ক' অতি অবশ্যই পরিধান করতে হবে। কোনো কোনো দেশে গণপরিসরে 'মাস্ক' বাধ্যতামূলক করে আইন প্রণীত হয়েছে।

কিন্তু অসচেতনতা, গাফিলতি, অশিক্ষা বা হটকারিতার কারণে অনেকেই 'মাস্ক' ছাড়া চলাফেরা করছেন। বিশেষ করে অনুন্নত দেশগুলোতে 'মাস্ক' ব্যবহার না করার প্রবণতা অধিক। বাংলাদেশের পথে, ঘাটে, বাজারে, রাস্তায় এমন চিত্র সচরাচর দেখা যাচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয় বরং নিজের এবং অপরের জন্য মারাত্মকভাবে বিপজ্জনক।        

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর