× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার
বিদেশি পাত্রী সেজে প্রতারণা

কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

এক্সক্লুসিভ

রুদ্র মিজান | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার, ৮:৫৮

সুন্দরী। চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ। ব্যবহার করেন বিলাসবহুল গাড়ি। চেহারা দেখে মনে হতেই পারে তিনি বিদেশে থাকেন। নিজের এই সুদর্শনা চেহারাকে পুঁজি করেই বারবার পাত্র খুঁজেন। ‘প্রবাসী পাত্রীর জন্য পাত্র চাই’। এই শিরোনামে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপনে উল্লেখ থাকে, ‘প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কানাডার সিটিজেন ডিভোর্সি সন্তানহীন, ৩৭ বছর বয়সী, পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা, নামাজি পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক পাত্র চাই।’ যোগাযোগের জন্য বারিধারা, গুলশানের মতো অভিজাত এলাকার ঠিকানা উল্লেখ করেন।
কখনো তিনি কানাডার সিটিজেন। কখনো আমেরিকার। নানা পরিচয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে আকৃষ্ট করেন পাত্রদের। বিয়ে করে উন্নত দেশের বাসিন্দা হতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাত্ররা। সকল পাত্রকেই নানা প্রলোভন দেখিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন। বিদেশের মাটিতে তার বিপুল অর্থ সম্পদের প্রলোভন দেখান। জানান, ব্যবসাও রয়েছে তার। মূলত পাত্রীবেশী এই নারী একজন প্রতারক। তার নাম সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস। তার রয়েছে একটি চক্র। এই চক্রের মূল হোতা এই সাদিয়া জান্নাত। অন্যতম সহযোগী তার স্বামী এনামুল হাসান জিহাদ। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র।
গত বুধবার সাদিয়া জান্নাতকে বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এ সময় তার স্বামী জিহাদকে পাওয়া যায়নি। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, পত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কৌশলে প্রতারণা করে পাত্রের কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেয়ে সাদিয়া জান্নাতের প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ী নাজির হোসেন। নাজির হোসেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে মোবাইল ফোনে জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাজির। জান্নাতের সঙ্গে বিয়ের আলাপ-আলোচনা হয়। শিগগিরই বিয়ে করে নাজিরকে কানাডা নিয়ে যাবেন বলে জানান সাদিয়া জান্নাত। গত ১২ই জুলাই গুলশান-২ এর একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করেন তারা। প্রাথমিকভাবে ১৫ লাখ টাকা ও নিজের পাসপোর্ট দেন জান্নাতের কাছে। পরবর্তীতে সাদিয়া জান্নাত জানায় কানাডায় তার ২শ’ কোটি টাকার ব্যবসা আছে। কিন্তু কানাডায় অনেক শীত নাজির সেখানে থাকতে পারবেন না। তাই টাকাগুলো বাংলাদেশে এনে নাজিরকে দিতে চান। দেশে ব্যবসা করে দু’জনে সুখে থাকবেন। এই প্রলোভন দিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ট্যাক্স, ভ্যাট, ডিএইচএল বিল ইত্যাদির খরচের কথা বলে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
তারপর ফোনসহ সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ঠিকানাও পরিবর্তন করে। নাজিরের মতো অনেকের কাছ থেকে এই চক্র ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে সিআইডি।
কুমিল্লা দেবিদ্বারের মেয়ে জান্নাত এসএসসি’র গণ্ডি পার হয়নি। তবে পোশাক এবং কথাবার্তায় স্মার্টনেসের কারণে আমেরিকা, কানাডা প্রবাসী বলে লোকজনের বিশ্বাস অর্জন করতে সমর্থ হয়। প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে এই প্রতারক চক্র গড়ে তোলে। প্রায় ১০ বছর যাবৎ প্রতারণা করে যাচ্ছে সাদিয়া জান্নাত। প্রতারণা করে অল্প দিনেই ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশে প্রায় ২০ কোটি টাকার জমি কিনেছে এই চক্র।
সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. জিসান জানান, জান্নাতের নিজ হাতে লেখা ২০১৫ ও ২০১৬ সালের হিসাবের খাতা জব্দ করেছে সিআইডি। এতে কোন্‌ পাত্রের কাছ থেকে কত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তার তথ্য রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় জান্নাতের কাছ থেকে তিনজনের পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, তিনটি মেমোরি কার্ড, সাতটি সিল, অসংখ্য ব্যবহৃত সিম ও হিসাবের খাতাসহ গত ২রা সেপ্টেম্বর ব্যাংক এশিয়ায় ৪৮ লাখ টাকা জমা দেয়ার স্লিপ জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সাদিয়া জান্নাতের স্বামী এনামুল হাসান জিহাদ। তাদের বাড়ি বরিশালের মুলাদির বাহাদুরপুর গ্রামে। ঢাকায় রামপুরার বনশ্রীর তিন নম্বর ব্লকের দুই নম্বর সড়কের ১৭/২০ নম্বর বাড়িতে থাকতো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর