× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার

রমিজউদ্দিন আন্ডারপাস উদ্বোধনের অপেক্ষায়

দেশ বিদেশ

নূরে আলম জিকু | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার, ৮:১৯

২০১৮ সালের ২৯শে জুলাই। এদিন দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মীম নিহত হন। গুরুতর আহত হন আরো ১০ জন। মুহূর্তেই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে। এ খবর পাওয়া মাত্রই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভটি মূহুর্তে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। চলে টানা কয়েক দিন।
সে সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে হামলার শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থী দিয়া ও রাজীব হত্যা মামলার বিচার হয়েছে। অপরাধীরা শাস্তিও পেয়েছে। ওই সময় আন্দোলনের মুখে বিমানবন্দর সড়কে আন্ডারপাস করার প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১২ই আগস্ট ঢাকা-এয়ারপোর্ট মহাসড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ সংলগ্ন পথচারী ‘রমিজউদ্দিন আন্ডারপাস’ নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২ বছর পর আন্ডারপাসটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের শেষ চেষ্টা। চলতি বছরের যে কোনো সময় এটি খুলে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত এটিই দেশের সবচাইতে বড় ও অত্যাধুনিক আন্ডারপাস। বাংলাদেশে প্রথম পুশব্যাক পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হচ্ছে এটি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন- নানা কারণে আন্ডারপাসটি স্মৃতিবিজড়িত হয়ে থাকবে।
এদিকে, রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে মহাখালী-বিমানবন্দর সড়কটি অন্যতম। এমইএস মোড় হয়ে কয়েকটি রুটের যানবাহন চলাচল করে। সেনা এলাকায় প্রবেশ মুখসহ এখানে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল এবং হাসপাতাল। ফলে প্রতিনিয়ত দ্রুতগতির গাড়ি থামিয়ে সড়ক পাড়াপার হতে হয় পথচারীদের। প্রায় সময়ই ঘটে নানা দুর্ঘটনা। আন্ডারপাসটি খুলে দেয়া হলে পথচারীদের ভোগান্তি আর থাকবে না। এছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের কষ্ট লাঘব হবে। ২০১৮ সালের ১২ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আন্ডারপাসটির দৈর্ঘ্য ৪২ মিটার, উচ্চতা ১৫ মিটার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ও ২৫ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
‘রমিজউদ্দিন আন্ডারপাস’ ঘুরে দেখা যায়, এস্কেলেটর ও লিফট সংযোজনের কাজ শেষ হয়েছে। জেনারেটর মেশিন ও বৈদ্যুতিক তার সেটাপের কাজ চলছে ত্বরিতগতিতে। নির্মাণাধীণ প্রকৌশলীরা সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছেন। আন্ডারপাসের ভিতরে রয়েছে অন্য এক জগৎ। ভিতরের চিত্র অনেকটা প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভর মিউজিয়ামের মতো ডিজাইন করা হচ্ছে। ত্রিভূজ আকৃতির মিউজিয়াম ‘সুরসপ্তক’-এর দেয়ালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৭ বীর শ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। দেয়ালের অন্য প্রান্তে শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি। মধ্যবর্তী দেয়ালে ডিজিটাল ডিসপ্লে-বোর্ড লাগানো হয়েছে। এছাড়া আন্ডারপাসের ভিতরে নানা ধরনের চিত্রকর্মের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ‘রমিজউদ্দিন আন্ডারপাস’ এ রয়েছে চারটি সুড়ঙ্গ। এটিকে এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে ২৪ ঘণ্টাই আলোর ব্যবস্থা থাকে। সুড়ঙ্গ পথে প্রবেশ করতে পারবে সূর্য ও চাঁদের আলো। ভিতরে রাখা হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। এছাড়া উভয়পাশে চারটি প্রবেশ ও বহির্গমন পথ রয়েছে। বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও শিশুরা সহজেই এটিকে ব্যবহার করতে পারবেন। সড়কের পূর্বপাশে পথচারীদের বিশ্রামের জন্য জায়গা রাখা হয়েছে। অসুস্থ রোগীদের জন্য সড়কের একপাশে থেকে অন্যপাশে হুইল চেয়ার ব্যবহার করে যাওয়ার জন্য রয়েছে পৃথক ঢালু পথ। নির্মাণাধীণ প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ না ঘটলে নির্মাণকাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। এখন বিদ্যুৎ সংযোগের কাজসহ ডিজিটাল আঙ্গিকে সাজানোর কাজ চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘রমিজউদ্দিন আন্ডারপাস’ নির্মাণ প্রকল্পের এক কর্মকর্তা জানান, আন্ডারপাসটি শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে। নির্মাণ কাজ চলতি বছরের জুনের মধ্যে সমাপ্তি হওয়ার কথা ছিল। আমাদের ইচ্ছা ছিল মার্চ মাসে উদ্বোধন করা। কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে আমাদের বিলম্ব হয়েছে। বাহির থেকে মালামাল সঠিক সময়ে আসতে পারেনি। যার কারণে বিলম্ব হয়েছে। এখন কাজ প্রায় শেষের দিকে। সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। চলছে ভিতরে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা। আন্ডারপাসটি নির্মাণ করছি কোনো প্রকার রাস্তা কাটা ছাড়াই। মাটির নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ করে তারপর করা হয়েছে। আন্ডারপাসটি সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বাইরের যানবাহন চলাচলের কোনো শব্দ ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীরা র‌্যাম (ঢালু পথ) দিয়ে একাকী আন্ডারপাস ব্যবহার করে উঠানামা করতে পারবেন। এটির সৌন্দর্য অব্যাহত রাখতে অ্যাওয়ারনেস ব্যবস্থা থাকবে। কিছু দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করে আমরা প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর