× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ নভেম্বর ২০২০, রবিবার
আরব নিউজের রিপোর্ট

বাংলাদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরবের ভিসা নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার, ১১:৩১

করোনা ভাইরাস মহামারিতে আটকে পড়া সৌদি আরব ফেরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভিসা নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে তাদের ভিসার মেয়াদ ২৪ দিন বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত জানায় সৌদি আরব। তারপর আজ রোববার থেকে ঢাকায় অবস্থিত সৌদি আরবের দূতাবাসে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। অনলাইন আরব নিউজকে কর্মকর্তারা এমনটাই জানিয়েছেন। শ্রমিকদের সৌদি আরবে পৌঁছে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের যথাক্রমে বিমান ও সাউদিয়া ১৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ফ্লাইট বৃদ্ধি করার মাধ্যমে তারা আটকে পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরবে ফিরিয়ে নেবে।
আরব নিউজের খবরে আরো বলা হয়, সরকারি তথ্য অনুসারে গত ডিসেম্বর থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিব ফিরেছেন দেশে। এরপর করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে দুই দেশই লকডাউন দেয়।
স্থগিত করে ফ্লাইট। ফলে এসব শ্রমিকের বেশির ভাগই ফিরে যেতে পারেন নি। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি শনিবার বলেছেন, আটকে পড়া সব অভিবাসীর ভিসার মেয়াদ বর্ধিত করার প্রয়োজন নেই। যারা করোনা ভাইরাস মহামারির শুরুতে এবং ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এ বছর মার্চ মাসের মধ্যে দেশে এসেছেন, শুধু তাদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সৌদি আরব বলেছে, ঢাকার অনুরোধের প্রেক্ষিতে ১৪ই অক্টোবর পর্যন্ত ভিসা নবায়নের সময়সীমা বর্ধিত করেছে তারা। ২৩ শে সেপ্টেম্বর থেকে যাত্রীবাহী দুটি এবং ভাড়া করা দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সাউদিয়া। অন্যদিকে ১লা অক্টোবর থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরবে পৌঁছে দেবে বিমান। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)-এর চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান বলেছেন, প্রাথমিকভাবে চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। কিন্তু বর্তমানে আটকে পড়া অভিবাসী শ্রমিকদের তীব্র চাপ প্রত্যক্ষা করা যাচ্ছে। ফলে যতটা প্রয়োজন ফ্লাইট পরিচালনা করা যেতে পারে। তিনি আরো জানান, এখনও সৌদি আরবের কাছ থেকে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর অনুমতি পায় নি সিএএবি। তবে তারা আশা করছেন, শিগগিরই এই অনুমতি পাবেন।
ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি আরব নিউজকে বলেছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী ফ্লাইটের অনুমতির বিষয়ে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি আমি। অফিস খুললেই এই অনুমতি পেয়ে যাবো বলে আশা করছি।
২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি শ্রমিক আরমান হোসেন আরব নিউজকে বলেছেন, ফ্লাইটের ৪৮ ঘন্টার মধ্যকার কোভিড-১৯ রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে আমাদের। কিন্তু বর্তমানে আমরা ফ্লাইট শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে টিকেট পাচ্ছি হাতে। এর ফলে কোভিড-১৯ টেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ঢাকায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আগেভাগে টিকেট দিতে, যাতে সংশ্লিষ্ট যাত্রী সময় নিয়ে তার পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন।
সিভিল সার্জন ড. মইনুল আহসান বলেছে, ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১০ থেকে ১২ ঘন্টা আগে  কিছু যাত্রী আমাদের কাছে আসছেন। কারণ, তারা শেষ সময়ে হাতে পাচ্ছেন টিকিট। কিন্তু কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট করতে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা সময় লাগে। শুক্রবার ঢাকায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ সেন্টারে ১৫২৫ জনের পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়েছে। ড. মইনুল আহসান আরো বলেন, শনিবার আমরা সংগ্রহ করেছি ৭৯৭ জনের নমুনা। তখনও নমুনা দেয়ার জন্য অভিবাসীরা আসছিলেন। আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি। টেস্ট রিপোর্টের কারণে কেউই ফ্লাইট মিস করেন নি।
বাংলাদেশি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের শরীফুল হাসান সৌদি আরবমুখী এসব শ্রমিককে আবাসন সুবিধা দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এসব শ্রমিকের বেশির ভাগই রাজধানীর বাইরে থেকে এসেছেন। এই শহরে তাদের আবাসনের কোনো সুবিধা নেই। সফরের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে যেহেতু তাদেরকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হচ্ছে, তাই সরকারের উচিত তাদেরকে আবাসিক সুবিধার ব্যবস্থা করা, যাতে তাদের এই কার্যক্রম কিছুটা সহজ হয়। আমরা আশা করি, ১৪ই অক্টোবরের মধ্যে আটকে পড়া সব অভিবাসী শ্রমিক ফিরে যেতে সক্ষম হবেন।
বাংলাদেশে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট এন্ড ট্রেনিংয়ের ডাটা অনুসারে, বিদেশি রেমিটেন্স আয়ের সবচেয়ে বড় একক উৎস হলো সৌদি আরব। গত বছর প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক দেশে পাঠিয়েছেন ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর