× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার
দ্য থার্ড পোলের রিপোর্ট

তিস্তা নিয়ে চীনের প্রস্তাব বিবেচনা করছে বাংলাদেশ, আলোচনা হতে পারে শর্ত নিয়ে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:২৬

ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি করতে ব্যর্থ হওয়ার পরে চীনের সমর্থন নিচ্ছে বাংলাদেশ। তারা তিস্তা বিষয়ক একটি প্রকল্পে চীনের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ নিচ্ছে। তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি সংরক্ষণ বিষয়ক চীনের এমন প্রস্তাব এখন বিবেচনা করছে বাংলাদেশ সরকার। তিস্তা হলো বাংলাদেশের চতুর্থ সর্ববৃহৎ নদী। ভারত থেকে তা বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়েছে। অনলাইন দ্য থার্ড পোল ডট নেট-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে সাংবাদিক পিনাকী রয় লিখেছেন, ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত করতে প্রায় এক দশক ব্যয় করেছে বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় চীনের ওই প্রস্তাব এলো।
ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ২০১১ সালে শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে স্থগিত হয়ে যায়। তারপর থেকে ভারতের সঙ্গে দরকষাকষিতে আর কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ দেখতে পেয়েছে, উজানে ড্যাম নির্মাণ, সেচ ক্যানাল খনন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির স্তর নাটকীয়ভাবে কমে যায়। এ অবস্থায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে আরো টান ধরেছে।  

শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে পারেন না। ২০১৬ সালে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে দাঁড়ায় ৩০০ কিউসেক। দুই দশক আগের চেয়ে এই পরিমাণ ২০ গুণেরও বেশি কম। তাই চীন সমর্থিত নতুন তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্প বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারীদের মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে। এসব মানুষ বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদীভাঙনের শিকারে পরিণত হন। আবার শুষ্ক মৌসুমে মারাত্মক পানি সংকটে ভোগেন। দ্য থার্ড পোল’কে পানিসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার চীনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, আমরা একটি প্রস্তাব পেয়েছি। এখন একটি চুক্তি চূড়ান্ত করতে তাদের সঙ্গে আমাদের শর্ত ঠিক করতে আলোচনায় বসার প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলে জন্ম নিয়ে তিস্তা প্রথমে ভারতের সিকিম রাজ্যের ভিতর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। তারপর তা বাংলাদেশে এসে মিশে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে। এরপর সম্মিলিত স্রোতধারা গিয়ে পতিত হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। এই নদীর ৩১৫ কিলোমিটার চলার পথে ১০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি রয়েছে বাংলাদেশে। এই চলার পথে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ তাদের জীবনজীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য নির্ভর করেন তিস্তার ওপর।

তিস্তা শাসন: ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট এন্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্ট’ বাস্তবায়নের জন্য গত জুলাইয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ঋণ চায় চীনের কাছে। এতে বলা হয়, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের শতকরা ১৫ ভাগ বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। বাকিটা তারা চীনের কাছ থেকে সহায়তা হিসেবে চায়। প্রতি বছর হিমালয় থেকে বিপুল পরিমাণ পলিমাটি বহন করে তিস্তার পানি। এর ফলে এর নেটওয়ার্কে ছোট ভোট খাল ও দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে ঘন ঘন বন্যা হয় এবং বর্ষাকালে নদীর পাড় ভাঙে মারাত্মকভাবে। অন্যদিকে, বিপরীত চিত্র শুষ্ক মৌসুমে। কিন্তু সুরক্ষার অভাবে হাজার হাজার মানুষ তাদের জমিজমা, বাড়িঘর, জীবন জীবিকা হারান।

ওদিকে, এই প্রকল্পের জন্য ২০১৬ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বরে একটি বাধ্যতামূলক নয় এমন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না (পাওয়ার চায়না)। পাওয়ার চায়না চীনের রাষ্ট্র মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এরপর এ প্রকল্পের একটি মাস্টারপ্লান এবং উপযোগিতা বিষয়ক পর্যবেক্ষণ জমা দিয়েছে পাওয়ার চায়না। প্রাইমারি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজালে বলা হয়,  তিস্তা নদীর উভয় পাশে পুরো ১০০ কিলোমিটারে তীর মেরামত বা বাঁধ দেয়া হবে। সীমান্তে ভারতের কাছে যেখানে বাংলাদেশে এই নদী প্রবেশ করেছে সেখান থেকে শুরু করে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত এই বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে নদীর তীররক্ষা প্রকল্প। গ্রোয়েন নির্মাণ করে নদীভাঙ্গন রক্ষা। তবে সবার আগে এই প্রকল্পে ড্রেজিং করা হবে এবং পুরো ১১০ কিলোমিটার তিস্তা নদীকে আরো গভীর করা হবে। এর ফলে নদীর গতিতে স্থিতিশীলতা থাকবে। সেখান থেকে পানি নিয়ে কৃষিকাজে ব্যবহার করা হবে। নির্মাণ করা হবে খাল ও পুকুর। সেখানে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য পানি সংরক্ষণ করা হবে। ড্রেজিং করা মাটি দিয়ে হারানো জমি পুনরুদ্ধার করা হবে। নদীর পাড় ঘেঁষে নির্মাণ করা হবে সড়ক, স্যাটেলাইট শহর ও শিল্প পার্ক। এছাড়া থাকবে গার্মেন্ট প্রসেসিং কারখানা ও সার কারখানা।

তিস্তা সেচ প্রকল্প: বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই প্রকল্প তিস্তা অববাহিকায় কৃষিকাজে ব্যাপক উন্নতি ঘটাবে। কবির বিন আনোয়ার স্থানীয় মিডিয়ায় বলেছেন, আমরা যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে সঙ্কটের সময় বাংলাদেশের বিশাল একটি অংশ পানি পাবে।   বর্তমানে বছরে কমপক্ষে দু’মাস ভয়াবহ পানি সঙ্কটের মুখে পড়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল। কারণ, এ সময়ে তিস্তায় পানি থাকে সামান্য। পানি সঙ্কটের কারণে এ সময়ে বাংলাদেশে তিস্তা অববাহিকায় এক লাখ ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমির বেশির ভাগই থেকে যায় চাষের বাইরে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এসব জমির শতকরা মাত্র ৩৫ ভাগে কৃষিকাজ করা হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি ছিল প্রায় ৬৫০০ কিউসেক। কিন্তু ২০০৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৩৪৮ কিউসেক। ২০১৬ সালে আরো কমে তা দাঁড়ায় মাত্র ৩০০ কিউসেকে।

পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্ট নয়: বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল ল’য়ারস এসোসিয়েশনের ( বেলা) প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সতর্ক করে বলেছেন, সতর্ক হওয়ার কারণ আছে। এই প্রকল্পের অবকাঠামো, ঋণের শর্ত এখনও জানা যায়নি। এমনকি তা প্রকাশ্য বিতর্কেও দেয়া হয়নি। ফলে এই প্রকল্পে পরিবেশগত স্থিতিশীলতায় কি প্রভাব পড়বে তা স্পষ্ট নয়। কিছু বিশেষজ্ঞ চীনের নেতৃত্বাধীন এই পরিকল্পনার সফলতা নিয়ে সন্দিহান। ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার এন্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট, বুয়েট-এর প্রফেসর মনসুর রহমান বলেন, যেহেতু তিস্তা নদীর আচরণ জটিল তাই এই প্রকল্পের সফলতা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তিনি বলেন, পানি ধরে রাখার জন্য একটি ব্যারেজ নির্মাণ করা সহজ হতে পারে। হাজার বছর ধরে তিস্তায় পলি পড়েছে। দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সেই তিস্তাকে একটি সংকীর্ণ ক্যানেলে পরিণত করা হবে একটি কঠিন কাজ। বর্তমানে তিস্তার তলদেশ ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার চওড়া। কিন্তু পরিকল্পনামতো এই নদীকে এক কিলোমিটার চওড়া খালে পরিণত করা হবে। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, এই প্রকল্প সফল নাকি ব্যর্থ হবে তা বলা কঠিন। কারণ, এ বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি। যদি ড্রেজিং করার পর বর্ষা মৌসুমের পানি ধরে রাখতে চান তারা, তাহলে ভাটিতে একটি অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। তাই কোনো মন্তব্য করার আগে আমাদেরকে জানতে হবে কি নির্মাণ করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ এবং তা কীভাবে করবে।

আন্তঃনদী রাজনীতি: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আন্তঃনদী বিষয়ক অধিকারের পক্ষে কথা বলা উচিত বাংলাদেশের। রাজ্য পর্যায়ে বিরোধের কারণে ভারত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি এক দশকেরও বেশি সময় ঝুলিয়ে রেখেছে। এই প্রথম বাংলাদেশে কোনো নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে জড়িত হচ্ছে চীন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে অভিন্ন ৫৪টি নদী। তার মধ্যে কৌশলগত দিক দিয়ে তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ ভারতের কাছে। এ কারণে আঞ্চলিক শত্রুর বিরুদ্ধে সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে এই প্রকল্পকে লুফে নিয়েছে চীন। আর এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। বাংলাদেশের মিডিয়ায় তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ভারত তার পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাকে ঢাকা পাঠায়। তবে তিনি আলোচনার সময় এসব ইস্যু তুলেছিলেন কিনা সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোন নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি। ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন যে, শ্রিংলার সফরের পর পানি বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি ভারত।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
shofina
৩ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ২:০৩

very good.

shofina
৩ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১:৫৮

অবহেলিত উত্তরবঙ্গের জন্য এটা একটা সর্বোত্তম পরিকল্পনা।

afsar
১ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১১:৫৪

good amount

মোঃ আসাদুজ্জামান
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ১০:১৩

চীন প্রস্তাবে সারা দেয়া জরুরী। কারন সারা পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দিয়েছে চীন। তারাই শুধু পারবে উত্তরাঞ্চলের গরীব অভাবী মানুষের দৃর্দশা লাঘব করতে। তাছাড়া চীনের প্রযুক্তি সম্বন্ধে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের জ্ঞান নাই। পদ্মা সেতুই তার জ্লন্ত প্রমাণ। বারবার ভারতের পা ধরে নাড়াচাড়ার চেয়ে চীনের প্রস্তাব সাচ্ছন্দে মানাই ভাল। চীন-ভারত উত্তেজনা এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। যে আমাদের উপকারে আসবে তাকেই আমরা সাদরে গ্রহনক্ষত্রের করবো।

Prince
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ৩:০৬

Varotar aca ke R debai bake.

Abul Sarker
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ৫:১৯

@Abul Kashem, your thought and analysis is really appreciated. Yes, Bangladesh can play a tremendous role to achieve her interest by using both country. We need very intelligent and patriotic diplomat. Thanks once again for your nice comments.

Helal
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ১২:৫১

ভারত তিস্তা চুক্তি করলেও পানি ঠিকমত কখনোই দিবেনা কাজেই চীনের প্রস্তাব অনুযায়ী আমাদের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে। তবে ১ কিলোমিটার না করে কমপক্ষে দুই কিলোমিটার প্রসস্থ করা উচিত।

মোঃআলছাবা আদনান
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:২০

বাংলাদেশে ভারতের দালাল এর সংখ্যা একে বারে খারাপ না।আমাদের উচিত ভারত চুক্তি করতে সম্মত হলেও চীনের সাথে চুক্তিটা করে ফেলা।কারণ ভার সকালে এক কথা বলে আর বিকালে আরে কথা।চীন আমাদের রোজ রোজ এই রকম অফার দিবে না।

আফনান পারভেজ
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৩:০৫

ভারতের এন্টিডোট হৈল চীন, তিস্তা প্রকল্পের আইরনি হৈল ভারত যেই সমস্যা তৈরি কৈরা আমাদের ক্ষতি করতেছে সেই ক্ষতি কাটানোয় চীনা সাহায্য নিতেছি আমরা। ভারত এবং ভারতের দালালদের গায়ে হিংসা এবং রাগের চোটে ফোঁসকা পড়ার মত একটা ব্যাপার।

Rouf Munshi
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৩:০২

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মনসুর হাসান, আইনুন নিশাত এরা কার কাছ থেইকা "পে স্লিপ" পায়?

liakat
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১:৪৬

good project and less budget

আবুল কাসেম
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার, ১১:৫১

চীন ও ভারত কেউ-ই বাংলাদেশের প্রকৃত, আসল, অকৃত্রিম ও আন্তরিক বন্ধু নয়। তারা মিয়ানমারের বন্ধু। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা মিয়ানমারের পক্ষে। আসল কথা হলো, বর্তমান বিশ্বে নিজের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক স্বার্থ ছাড়া সম্ভবত কেউ কারো বন্ধুও নয়, শত্রুও নয়। এটাই বাস্তবতা। অন্যদিকে ভারত ও চীন দুদেশই সম্প্রসারণনীতিতে আগ্রাসী এবং উগ্র জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। আবার তারা মুসলিম বিদ্বেষীও। দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় দেখে আসছি, পৃথিবীর ইতিহাসে সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রগুলো কখনো কোনো দেশের স্থায়ী বন্ধুও হয়না, শত্রুও হয়না। যখন যেখানে তাদের স্বার্থ হাসিলের দরকার পড়ে তখন সেখানে সুযোগ বুঝে তারা বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয় এবং যেখানে স্বার্থ ফুরিয়ে যায় ও স্বার্থে আঘাত আসে সেখানে দ্রুত গতিতে বন্ধু থেকে শত্রুতায় বাঁক নিতে দেরি করেনা। আর আশেপাশের ছোটো দেশগুলোকে ছলেবলে কলেকৌশলে কব্জায় নিয়ে কিভাবে চাপে রেখে স্বার্থ হাসিল করতে হয়, বিশ্বে তার ভূরি ভূরি নজির রয়েছে। ভারত এবং চীনও তেমনি রাষ্ট্র। বিশেষ করে ভারতের আশেপাশের ছোটো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। তাহলে বুঝা যাচ্ছে, পৃথিবীতে অকৃত্রিম বন্ধু বলে কেউ কারো নয়। এখন কথা হলো বাংলাদেশের দিকে চীনের সহযোগিতার দৃষ্টি পড়ার কারণ কী ! কারণটা হলো উপমহাদেশে ভারতকে একঘরে করা। ভারতকে সাইড লাইনে রেখে বাংলাদেশকে পরিপূর্ণ স্বাবলম্বী করে দেয়ার ক্ষমতা চীনের রয়েছে বটে, কিন্তু তা ভারতের নেই। আবার অভিজ্ঞতায় বলে তারা কেউই আমাদের স্থায়ী, অকৃত্রিম ও নিঃস্বার্থ বন্ধু নয়। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক বহু সমস্যা তার উদাহরণ হতে পারে। এখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, চীন ও ভারতের রেষারেষির মাঝখানে বাংলাদেশের জন্য একটা সুযোগ এনে দিয়েছে। বাংলাদেশ বিচক্ষণতার সঙ্গে চীনের কাছ থেকেও সুবিধা নিতে হবে এবং ভারতের কাছ থেকেও। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বিচক্ষণ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাপ মরবে, লাঠি ভাঙবেনা, নীতিতে চলতে হবে। সুযোগ যখন এসেছে তখন দু'দেশ থেকেই দু'হাতে নিতে হবে। তবে নিজের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বিচক্ষণ ও কৌশলী না হলে পরে পস্তাতে হতে পারে। ভারতের দিক থেকে এই হুমকিটা বেশি বৈকি !

Md Rifad Siddiquey
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:৩৪

It is clear that, India had a great need to divide Pakistan to weaken their enemy and they derive that. So it is not a question of greatfulness. We must take the chance of Chaina proposal. But the river must be atleast two kilometers wide.

আহসান কবির
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:৪৮

আমরা চীনকেও বিশ্বাস করি না,পাকিস্তানকেও না,তবে মোদির সময়ের ভারতের প্রতিও আমরা বাংলাদেশীরা ভীষণ বিরক্ত।এক মুখী বাণিজ্য নীতি ও বিদেশনীতর কারণে।নদী,সীমান্ততো আছেই, কোন একটা সেক্টরে আমাদের ছাড় দেয়নি,শুধু সুবিধা নিছে। এ ভাবে বার বার ৭১ এর কথা মনে করিয়ে দিয়ে চিরকাল একটা জাতিকে কৃতজ্ঞ রাখা যায় না।ভারতের পাকিস্তানকে দুর্বল করে দেয়ার সুযোগ তৈরী হইছিল যা আমরা করে দিছি আর তার বিপরীতে আমাদের স্বাধীমতার প্রয়োজন ছিল যা ভারত সহায়তা করছে,এতে দু'পক্ষেরই স্বার্থ হসিল হইছে,এখানে আজকের বাস্তবতায় কৃতজ্ঞ থাকার কিছু নাই চিরকাল।এই জন্যই অনিচ্ছাতে হলেও বাংলাদেশ একটু একটু করে চীনের দিকে ঝুকছে,যার জন্য ভারতই দায়ী।ধর্ম নিয়ে কু রাজনীতি করে যারা সস্তা জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় থাকে তাদের আর যাই হোক বিদেশনীতিটা ভালো হয় না।

Amir
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:৪৪

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন যে, শ্রিংলার সফরের পর পানি বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি ভারত।-----তিস্তা ছারা ভারতের আলোচনা করার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্তমানে সামনে আছে !

মোঃ রিয়াদ হুসেন খান
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:১১

বাংলাদেশের উচিত হবে আমাদের স্বার্থ দেখা। ভারত কখনো ওদের নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কখনো আমাদের কিছু দেবে না। তবে চিনের সাথে ও কিভাবে চুক্তি হবে সেটা ও আমাদের ভেবে দেখা উচিত। কিন্তু এইটা সত্যি যে ভারত আমাদের কে কখন ও কিছু দেয় নি আর কিছু দেবে ও না। তাদের এদের কাছে থেকে এখন ও কিছু আশা করা সময় নষ্ট করা আর কিছু নয়।

Abulkalam Mohammed Z
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:১১

There are more than 8 hydroelectric dams constructed on Tista in Sikim and India. All these dams were built and are still run by Indian Companies such as Tata Heavy Industries. We all know that Mamata Banarji is objecting to sign agreement with Bangladesh. This is not true, even Delhi is NOT willing to sign any agreement, Delhi is portraying as "good boy" putting the blame on Mamata of West Bengal.

Meshkat munna
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার, ৯:০৯

Enough is enough..Indian vaider r birokto korar dorkar nai...ja korar amader e joldi korte hobe ..

মোঃবখতিয়ার হুসাইন
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার, ৮:৩৬

চীনের সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশের কাজ করা উচিৎ।

অন্যান্য খবর