× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার

এশিয়ায় তৃতীয় সর্বোচ্চ জলাতঙ্ক রোগী বাংলাদেশে

বাংলারজমিন

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ৮:৪৩

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য অনুযায়ী এখনো পৃৃথিবীতে প্রতি ১০ মিনিটে ১ জন এবং প্রতি বছরে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ জলাতঙ্ক রোগে মারা যায়। বাংলাদেশে এই রোগ শূন্যের কোটায় নামাতে স¦াস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা কুকুরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণায় বেশি জোর দিয়েছে। আর সেই প্রচারণার অংশ হিসেবেই প্রতি বছর ২৮শে সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। বগুড়া সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী সভাপতিত্বে এই দিবস পালিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন হযরত আলী, এনামুল হক, সাজ্জাদুল হক, নাজনীন আক্তার, খায়রুল বাশার এবং সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান প্রমুখ।
জলাতঙ্ক রোগটি মূলত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এ ছাড়াও বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও এ রোগ হতে পারে।
একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ মানুষ উল্লিখিত প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক শিশু। এ ছাড়াও বছরে প্রায় ২৫ হাজার গবাদিপশু এ রোগে আক্রান্ত হয়।
বাংলাদেশে ২০১০ সালের আগে প্রতি বছর প্রায় ২০০০ মানুষ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতো। তবে ২০১৫ সালের পরে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শতকরা ৯০ ভাগ কমিয়েছে। সেই সঙ্গে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জলাতঙ্ক মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো।
একটি পরিসংখ্যান বলছে, জলাতঙ্ক রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয় সর্বোচ্চ। জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম, সিডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মকৌশলের মাধ্যমে এই অবহেলিত রোগটির বিরুদ্ধে জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর ফলে জলাতঙ্কজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২০০৯ সালে আনুমানিক ২০০০-এর অধিক থেকে কমে ২০১৯ সালে সারা দেশে ২০০তে নেমে এসেছে। ঢাকার মহাখালীস্থ জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল মৃত্যুর সংখ্যা ২০০৯ সালে ১৪৮ থেকে ২০১৮ সালে শতকরা ৬৮ ভাগ কমে ৪৯-এ নেমে এসেছে। ২০১২ সালে বিনামূল্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার রোগী বেশি টিকা পেয়েছে যা ২০১৮ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪০৯তে ঠেকেছে। সেই সঙ্গে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সিডিসি কর্তৃক সারা দেশে প্রায় তিন লাখ ভায়াল ভ্যাকসিন দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রদান করা হয়েছে।
জলাতঙ্ক নির্মূলে ব্যাপকহারে কুকুর টিকাদান কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী ব্যাপকহারে কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলা সদর, পৌরসভা ও ১০টি সিটি করপোরেশন এবং ৬০টি জেলার সকল উপজেলায় ১ম রাউন্ড, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, পাবনা, নীলফামারী জেলায় ২য় রাউন্ড এবং সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা জেলায় ৩য় রাউন্ড টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩০ সংখ্যক কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪টি জেলায় প্রথম রাউন্ড ও ১৬টি জেলায় দ্বিতীয় রাউন্ড আরো আনুমানিক ৫ লাখ কুকুরকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন মানবজমিনকে বলেন, জলাতঙ্ক রোগীরা পানির জন্য ছটফট করে কিন্তু পানি পান করতে পারে না। প্রচ- কষ্ট করেই মৃতু্যুবরণ করে এসব রোগী। তিনি এই রোগ থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
বগুড়া সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে জলাতঙ্ক রোগে যতো আক্রান্ত হচ্ছে তার মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। শিশুদের কুকুর- বিড়াল থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গে এসব প্রাণীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর