× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার

এমসি’র ছাত্রাবাসে বেপরোয়া তারেক

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ৮:৫৩

পিস্তলে হাত বুলাচ্ছেন তারেক। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন পিস্তলের দিকে। এমন ছবি তার ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পিস্তলের বদৌলতে সবার কাছে পরিচিত মুখ সিলেটের ধর্ষক, ছাত্রলীগ তারেক। এদিকে গতকাল রাতে তাকে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের জাগদল ইউনিয়নের গরমা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সে খুব ‘ধুরন্ধর’ প্রকৃতির ছাত্রলীগ কর্মী। এমসি কলেজের ছাত্র নয় সে। এরপরও বসবাস করতো ছাত্রাবাসেই।
একটি কক্ষও তার জন্য বরাদ্দ ছিল। ধর্ষণের প্রধান হোতা সাইফুরের সঙ্গে বসবাস তার। সবাই জানতেন সে কলেজের ছাত্র না। এর পরও প্রতিবাদ করতে পারতেন না কেউ। দাপটের সঙ্গে সে হোস্টেলেই বসবাস করতো। তার মতো আইনুুদ্দিন আইনুলও কলেজের ছাত্র না। এর পরও এমসির ছাত্রাবাস ছিল আইনুলেরও নিরাপদ স্থান। এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীরা জানিয়েছেন- এমসির ছাত্রাবাস নিয়ন্ত্রণ করতো সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুল রনি, রবিউল। এর মধ্যে হোস্টেলে আগুন দেয়ার ঘটনার সঙ্গে রবিউল ইসলাম জড়িত। ওই সময় তার নামও আসে প্রকাশ্যে। আগুন দেয়ার ঘটনার পর থেকে ছাত্রাবাস ছাত্রলীগের দখল আছে। এর মধ্যে বহিরাগত অনেক ছাত্রলীগ নেতা তাদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের অংশীদার ছিল। তারা ছাত্র না হয়েও অনেকটা নিরাপদেই এমসির ছাত্রাবাসে দাপট দেখাতো। এর মধ্যে অন্যতম ছিল তারেক। তার পুরো নাম তারিকুল ইসলাম তারেক। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার উমেদনগর গ্রামে। এমসির ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় সরাসরি তার সম্পৃক্ততা ছিল। যে চারজন গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে এর মধ্যে তারেক অন্যতম। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সে। টিলাগড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে বাড়ি হওয়ার কারণে ছাত্রলীগের ওই বলয়ে একক আধিপত্য দেখাতো তারেক। সে কলেজের ছাত্র না হয়েও হোস্টেলের রুমে থাকতে। টিলাগড় এলাকায় অস্ত্রবাজ হিসেবে তারেককে চিনেন সবাই। বহুবার টিলাগড়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ মারামারিতে সে প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি করেছে। গুলি করেছে। বেপরোয়া স্বভাব তার। তুচ্ছ ঘটনায় সে অস্ত্র নিয়ে গুলি করে। তার কাছে সব সময় অস্ত্র থাকতো। আর অস্ত্র নিয়ে সন্ধ্যার পর গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে সে ছিনতাই করতো। এমসি কলেজের ভেতরে বেড়াতে আসা পর্যটক প্রায়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। তাদের সর্বস্ব লুট হয়। এই লুটের নেতৃত্ব দেয় তারেক। সন্ধ্যার পর পরই তারেক গ্রুপের কর্মীসহ চলে যেত হোস্টেল এলাকায়। তারেকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগ কর্মী আইনুদ্দিন আইনুলের। তাকে ইয়াবা সরবরাহ করে আইনুল। সিলেটের এক ডাকাত সর্দারের নাতি আইনুল ছাত্রলীগের ওই গ্রুপে শেল্টার নিয়েই এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। তাদের সঙ্গে থাকতো রাজন। রাজনও আরেক বেপরোয়া
ছাত্রলীগ নেতা। ফলে তাদের যে ছাত্রলীগ গ্রুপটি ছিল এলাকায় সব অপরাধের মূল হোতা ছিল তারাই। তাদের কাছে অসহায় ছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ, পুলিশও। মাঝে মধ্যে ডিউটিরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের আড্ডা দিতে দেখা যেত। শেল্টারদাতাদের সঙ্গে সব সময় ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসতো। এমসি ছাত্রাবাসে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন- তারেক বেপরোয়া হওয়ার কারণে সে কাউকে তোয়াক্কা করতো না। এ কারণে পিস্তল নিয়ে ছবি তোলে সে। আর এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। নিজের ক্ষমতা প্রকাশ করতে সে এটি করেছে। ভয়ঙ্কর সব কাজে জড়িত থাকলেও কখনো তার ভেতরে অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং দিন দিন সে বেপরোয়া হয়ে উঠে। এদিকে আলোচিত ধর্ষণের ঘটনার এজাহারনামীয় আসামি ৬ জন। এর মধ্যে তারিকুল ইসলাম তারেক হচ্ছে অন্যতম।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর