× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার

আইসিডিডিআর,বি-র পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ পেলেন ড. তাহমিদ আহমেদ

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ৬:৪৬

আইসিডিডিআর,বি-র আন্তর্জাতিক বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. তাহমিদ আহমেদকে পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন। ড. আহমেদ ২০২১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি নির্বাহী পরিচালক পদে প্রফেসর ক্লেমেন্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ২০১৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. তাহমিদ আহমেদ আইসিডিডিআর,বি-র ৬০ বছরের গৌরবময় ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে নির্বাহী পরিচালক পদকে অলংকৃত করবেন। আজ আইসিডিডিআর,বি-র কমিউনিকেশন বিভাগ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নিয়োগ প্রাপ্তির ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে ড. আহমেদ কোভিড-১৯ বিষয়ে গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এই চলমান মহামারি জনস্বাস্থ্যকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগের অপরিসীম গুরুত্বকে বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেয়।  ড. আহমেদ তার গবেষণামূলক কাজ এবং শিশু অপুষ্টি রোধ ও এর সহজতর চিকিৎসা ব্যবস্থা সন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তার অসামান্য অবদানের জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বুলেটরি পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন, কমনওয়েলথ সোসাইটি ফর পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলোজি এন্ড নিউট্রিশন, এবং ভারতীয় পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সংস্থার পদক পেয়েছেন।  ২০১৮ সালে, ড. আহমেদ ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ডেভেলপমেন্ট ট্রান্সফর্মারস পুরুস্কারের একজন বিজয়ী হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেছেন।
১৯৮৫ সালে আইসিডিডিআর,বি-তে যোগদান করেন তিনি। সময়ের সাথে সাথে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বভার পালন করেছেন এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আইসিডিডিআর,বি-র নিউট্রিশন ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর নিযুক্ত হন।  কোভিড-১৯ মহামারির শুরু থেকে নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর জন ক্লেমেন্সের নির্দেশনায় ড. আহমেদ আইসিডিডিআর,বি-র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পুষ্টি বিষয়ক গবেষণায় একজন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী তিনি, এক্ষেত্রে তার ত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জার্নাল এবং বইয়ে তার ৩৬০টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
ড. তাহমিদ আহমেদ ঢাকার সেইন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল এবং নটরডেম কলেজে থেকে পড়াশোনা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি শুরুতে বাংলাদেশের গ্রামীণ একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করেছেন এবং পরে ১৯৮৫ সালে আইসিডিডিআর,বি-তে যোগদান করেন। তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালে আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি আইসিডিডিআর,বি-র নিউট্রিশন ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণার পাশাপাশি আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ডায়রিয়ার হাসপাতাল-ঢাকা হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র সমূহের তত্ত্বাবধান করেন।  ড. আহমেদ ৫৪টি কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিশু পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের একটি সংগঠন, পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন (ক্যাপগান)-এর সভাপতি ছিলেন। তিনি জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়-এর  জনস্বাস্থ্য পুষ্টির প্রফেসর এবং সিয়াটেলের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল অব গ্লোবাল হেলথের একজন এফিলিয়েটেড প্রফেসর। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি ড. তাহমিদ আহমেদকে মেডিকেল সায়েন্সে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য ড. সুলতান আহমেদ চৌধুরী স্বর্ণপদক প্রদান করেছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর