× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার

ফকিরাপুলের ফকিররা অন্য ঠিকানায়, নতুন নাম ‘থানা ব্রিজ’

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ১ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৮:১৩

এক ব্রিজের পরিচয় অনেক। ঘোড়াপট্টির পুল, টিএ রোড ব্রিজ। সবশেষ ‘ফকিরাপুল’। ব্রিজের ওপর ভিক্ষুকদের অবস্থান ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। আর এ কারণে চাপা পড়ে আগের নাম-ধাম। শহরের মধ্যভাগে টাউন খালের ওপর নির্মিত ব্রিজের এমন নামকরণ নিয়ে অস্বস্তি ছিল শহরপতিদের। অবশেষে ব্রিজকে ভিক্ষুকমুক্ত করে এর নাম বদলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলো। ফকিরাপুলের পরিবর্তে ‘থানা ব্রিজ’।
নতুন নামকরণের এই সাইনবোর্ড শোভা পাচ্ছে ব্রিজের দু’পাশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিক্ষুকমুক্ত দেশ গড়ার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই ব্রিজের ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়। জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও সমাজসেবা বিভাগ যৌথভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করে। এর এতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিনে যার বাস্তবায়ন ঘটে। এই ব্রিজে বসে ভিক্ষেয় নিয়োজিত ২৪ জনকে জীবন-জীবিকার অন্য ব্যবস্থা করা হয়। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার শহরের ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে সমাজসেবা বিভাগের ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় ব্রিজের ভিক্ষুকদের ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্যে নগদপুঁজি হিসেবে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। পৌরসভার পক্ষ থেকে দেয়া হয় ২০ কেজি করে চাল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ- দৌলা খান জানান, তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত রাখার জন্যে যা যা করা দরকার আমরা তাই করবো। সকল সাপোর্ট দেয়া হবে। তাদেরকে কোনো না কোনো ভাতা সুবিধা দেয়া হবে। যাদের জমি নেই তাদেরকে আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর দেয়া হবে। খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হবে। আর যাদের জমি রয়েছে সেখানে তাদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে।
কুমিল্লার মুরাদনগরে বাড়ি শফিক মিয়ার। প্রায় ৪৫ বছর ধরে এই ব্রিজে বসে ভিক্ষাবৃত্তি করেছেন। মো. ইদ্রিস আলী, লাল বানু, সহিদ মিয়া, শামসুদ্দিন, লাইলা,
এরাও দীর্ঘ সময় এই ব্রিজের বাসিন্দা ছিলেন। দিনের শুরু থেকে গভীররাত পর্যন্ত এখানে ভিক্ষাবৃত্তি করে কাটিয়েছেন। পুরুষ ভিক্ষুকরা নতুন কর্ম হিসেবে চায়ের দোকান, মুদি দোকান করার কথা জানান। সরকারের এ উদ্যোগে খুশি হয়েছেন এদের সবাই। বলেন, এতে আমরা লাভবান হবো। জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা সমাজ কল্যাণ পরিষদের সহ-সভাপতি আল মামুন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁর জন্মদিনে আমরা এই কাজটি সম্পন্ন করেছি। তাছাড়া ভিক্ষুকদের অবস্থানের কারণে এই ব্রিজের নাম হয়ে গিয়েছিল ‘ফকিরাপুল’। যা নিয়ে শহরের মানুষের মনে দুঃখ-বেদনাও ছিল। পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির জানান, ফকিরাপুলের নতুন নামকরণ ‘থানা ব্রিজ’ করা হয়েছে। এখানে আর যাতে ভিক্ষুকরা বসতে না পারে সেটিও আমরা নজর রাখবো। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে  ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান,  জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাসুদুল হাসান তাপস।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর