× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার

জেলেদের আটকে নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ দস্যুমুক্ত সুন্দরবনে আগ্রাসী ভূমিকায় বনরক্ষীরা!

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৮:১৮

আনুষ্ঠানিকভাবে দস্যুমুক্ত ঘোষণা পর থেকে হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালসহ উপকূল এলাকার মানুষ নির্ভয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন সুন্দরবনে। সরকারি নিয়ম নীতি মেনেই এ সকল মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজ করেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন। তবে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হওয়ার পর থেকে বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা বনজীবীদের বন্দি করে শারীরিক নির্যাতনের পর মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। তবে অসাধু কিছু বনরক্ষীদের সেই আগ্রাসী মনোভাব রয়েই গেছে। বনজীবীদের নির্যাতন ও বন্দি রেখে চাঁদা আদায়ের ঘটনা সরকারের দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের উদ্দেশ্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।   
২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের পহেলা নভেম্বর পর্যন্ত ৩২টি বাহিনীর ৩২৮ জন জলদস্যু সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তারা ৪৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২২ হাজার ৫শ’ ৪ রাউন্ড গোলাবারুদসহ সরকারের কাছে সমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারী বনদস্যু-জলদস্যুগণ অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে সমাজের অন্যান্য অপরাধী ও বিপজ্জনক জনগোষ্ঠীর সামনে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেন।  
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের ভদ্রা ক্যাম্পের ওসি রবিউল ইসলাম গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি ওই ক্যাম্পে নিয়ে হাত পা বেঁধে পায়ের পাতায় পিটিয়ে জেলে ইয়াসির সর্দারের কাছ থেকে ৩০ হাজার, শ্যামল সর্দারের কাছ থেকে ৩০ হাজার, নির্মল রায়ের কাছ থেকে ৪০ হাজার এবং রমেশের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেন। এ সময় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি আছে বলে এসব জেলেদের বাড়িতে ফোন করে টাকা নেয় ওসি রবিউল। তবে সেময় ওসি রবিউল দাবি করেছিলেন, তিনি কোনো জেলেকে আটক করেননি, কোনো জেলেকে নির্যাতন চালাননি, এমনকি কোনো টাকাও নেয়নি। এ ঘটনা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের পর গত ২রা মার্চ ওই জেলেদের ৬০ হাজার টাকা ফেরত দেন ওসি রবিউল ইসলাম।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধেও বনজীবীদের আটকে রেখে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ রয়েছেন। গত ২৩শে আগস্ট বনরক্ষীদের এগিয়ে দিয়ে ফিরে আসার সময় কটকা এলাকা থেকে ট্রলারের চালক ও একজন শ্রমিককে আটক করে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন ওই কর্মকর্তা। এ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন ট্রলার মালিক মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান পিন্টু।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের ঝাপসী টহল ফাঁড়িতে কর্মরত বনরক্ষী মো. মনির বিএম’র বিরুদ্ধে জেলেদের নৌকা, জালসহ আটকে রেখে ৪৮ হাজার টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাংমারী ও কালাবগী স্টেশন থেকে পাস পারমিট নিয়ে চলতি মাসের গত ১৬ই সেপ্টেম্বর সুন্দরবনে মাছ ধরতে যায় জেলে কুদ্দুস ও তার সঙ্গীরা। এ সময় তাদেরকে নৌকা, জালসহ আটকে রেখে বিকাশের মাধ্যমে ৪৮ হাজার টাকা চাঁদা নেন বনরক্ষী মো. মনির বিএম। চাঁদার টাকা ফেরত পেতে জেলে মো. কুদ্দুস মোল্লা বন সংরক্ষক খুলনা সার্কেল বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বনরক্ষী মো. মনির বিএম বলেন, স্মার্ট টিমের হাতে আটকের পর জরিমানার টাকা নিয়েছি। তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশির আল মামুন জানান, সুন্দরবনের প্রবেশে নিষিদ্ধ কিছু এলাকায় জেলেরা ঢুকে মাছ শিকার করতে গেলে বনরক্ষীরা তাদের আটক করে। এছাড়া স্মার্ট টিমের অভিযানে অনেক জেলে আইন অমান্য করার অপরাধে আটক হয়। অনেকে মামলা ও জরিমানার শিকার হয়ে নানা অভিযোগ তোলেন। তবে এ ধরনের অভিযোগ কোন বনরক্ষীর বিরুদ্ধে যদি প্রমাণিত হয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর