× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

বদলে যাচ্ছে রূপগঞ্জের দৃশ্যপট

শেষের পাতা

জয়নাল আবেদীন জয়, রূপগঞ্জ থেকে | ১৮ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ৮:৫৮

একদা যেখানে ছিল ডোবা-নালা আর জঙ্গলে ঘেরা ভূমি। আবাদি-অনাবাদি তেপান্তরের মাঠ। খাল-বিল আর নদীবেষ্টিত অজোপাড়াগাঁ। সেই ভূমি এখন সোনার চেয়ে দামি। বলছি শহরের পাশের আরেক শহর রূপগঞ্জের পূর্বাচলের কথা। মাত্র কয়েকবছর আগের এই অচেনা জায়গাটি এখন রূপ নিচ্ছে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট শহরে। নির্মিত হচ্ছে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়া শহরের আদলে রাজউক’র আধুনিক পূর্বাচল নতুন শহর। শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, দেশের সবচেয়ে বহুতল আইকনিক টাওয়ার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা, বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি, হাসপাতাল, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আবাসন প্রকল্প।
দেশের বর্তমানের সবচেয়ে আধুনিক নগর বসুন্ধরা আবাসন প্রকল্প। বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, মেট্রোরেল প্রকল্পসহ বহু নানন্দিক স্থাপনা। আধুনিক নগরায়নে প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি নিয়ে রাতদিন কাজ করছেন হাজার হাজার মানুষ। পূর্বাচলে শুরু হয়েছে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। নজরকাড়া স্থাপত্য শৈলীর মনোরম দৃশ্য সংযোজিত এই উপশহর হবে সর্বাধুনিক। এসব প্রকল্প বদলে দিয়েছে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা। নতুন শহরের হাতছানি নিয়ে ঢাকার পাশে একসময়ে অন্ধকারে থাকা রূপগঞ্জকে আলোকিত করছে আবাসন প্রকল্পগুলো। স্থানীয় মানুষের কাছে পুরো বিষয়টি এখনও অবিশ্বাস্য।

রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) সূত্রে জানা যায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজধানীর পূর্ব প্রবেশদ্বার রূপগঞ্জের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মোট আয়তন ৬ হাজার একরের বেশি। পুরো প্রকল্পটি ৩০ সেক্টরে বিভক্ত। আবাসিক প্লটের সংখ্যা ২৫ হাজার। ২০ তলাবিশিষ্ট একাধিক ভবনে থাকছে ৬০ হাজার প্লট। ২০১৫ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও নানা জটিলতায় সময় বাড়িয়ে তা ২০২১ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। পূর্বাচলের ১ নং সেক্টরে ৩৭, ৪৯ একর জমির ওপর ৫০ হাজারের অধিক দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রকল্পের কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট কমপ্লেক্সও তৈরি হবে। পূর্বাচলের ১৫ নং সেক্টরে ৩১৯ একর জমির ওপর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের। ঐতিহাসিক এ স্থাপনায় স্থান পাবে স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ইতিহাসসহ ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু পর্যন্ত সমস্ত স্মৃতি ও দালিলিক ইতিহাস। প্রস্তাবিত আইকনিক টাওয়ার বা ১৪২ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী ভবন নির্মিত হবে পূর্বাচলের ১৯ নং সেক্টরে। ৭৩৪ মিটার বা ২৪০৮ ফুট উচ্চতার এ ভবন হবে পৃথিবীর অন্যতম উচ্চতর টাওয়ার। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ৪ ও ৫ নং সেক্টরের সংযোগস্থলে ১১১, ৭১ ও ৫২ তলা বিশিষ্ট আকনিক ট্রাইটাওয়ার নির্মাণ করছে যৌথভাবে শিকদার গ্রুপ ও কাজিমা কর্পোরেশন জাপান। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে ৫২তলা ভবন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে ৭১তলা ভবন ও শেখ হাসিনা লিগ্যাসি স্মরণে ৯৬ তলায় মিউজিয়ামসহ ১১১ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া সিবিডিতে গড়ে উঠবে ৪০ তলার আরো ৪৯টি ভবন। পূর্বাচলের ৪ নং সেক্টরে আগামী বৈশাখে ‘চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’-এ শুরু হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা।
পূর্বাচলের দক্ষিণ পাশে নিজস্ব জমিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছে তাদের নিজস্ব আবাসনস্থল। আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা রেখে এ প্রকল্পে ইতিমধ্যে নির্মান করেছে ৩টি বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যেমের স্কুল, সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় আবাসন প্রকল্পের কাজও চলমান রয়েছে। উপজেলার কায়েতপাড়া ও কাঞ্চনে গড়ে উঠছে পুলিশ অফিসার্স আবাসন প্রকল্প। পুলিশ বাহিনীর এই নগরেও থাকবে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা। পূর্বাচলের চারপাশ জুড়েই রয়েছে বাংলাদেশের আধুনিক শহরের স্বপ্নদ্রষ্টা বসুন্ধরা আবাসন প্রকল্পের নিজস্ব আবাসিক অঞ্চল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসসহ দেশের সকল নামিদামি বিদ্যাপীঠ ও হাসপাতালের শাখা থাকবে এই নগরে। মেগা প্রকল্প মেট্রোরেল এর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে পুরোদমে।

কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও রঙধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, পূর্বাচল শুধু আবাসিক এলাকা নয়, এখন এটি স্বপ্নের নগর। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পূর্বাচলে গড়ে তোলা হবে বসুন্ধরার নান্দনিক এক সিটি। আমার জন্মভূমি রূপগঞ্জে উন্নয়নের এমন মহাকাণ্ডে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক আনন্দিত। আগামী ১০ বছরের মধ্যে নতুন এই শহর সম্পূর্ণ দৃশ্যমান হবে বলে আমার বিশ্বাস। নতুন এই স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের যাত্রায় বসুন্ধরা গ্রুপের অশিংদারিত্ব থাকায় আমরা বসুন্ধরা পরিবার গর্বিত।

কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও শিল্পপতি নুরুজ্জামান খান বলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা শহরগুলোর একটি হতে যাচ্ছে রূপগঞ্জের পূর্বাচল। কয়েকবছরে পূর্বাচলের জমির দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। এছাড়া নতুন শহরের কাজ শুরু হওয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। আর্থিক তারল্য আসায় আগের দিনের কৃষক পরিবারগুলোও বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য করে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ঘটাচ্ছেন। তিনি বলেন, এক শ্রেণির অসাধু একটি চক্র উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে স্থানীয়দের মাঝে অপপ্রচার চালিয়ে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জনগণের দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে সরকারকে সর্বোচ্চ নজরদারির আহ্বান জানান তিনি।

বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা সম্পর্কে রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাজাহান ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মাঝে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অনেকগুলো স্থাপনার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এক সময়ের অবহেলিত জনপদ এখন মেগাসিটি। রূপগঞ্জের এমন অবিশ্বাস্য উন্নয়নে অন্য সকলের মতো আমিও বিস্মিত। রূপগঞ্জের একখণ্ড জমি এখন স্বর্ণতুল্য। পাল্টে গেছে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় নামিদামি বাসিন্দাদের পাশাপাশি আদিবাসীরা বসবাস করবেন এই পূর্বাচলে নতুন শহরে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর