× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

রায়হানের খুনিদের পক্ষে দাঁড়াবেন না সিলেটের আইনজীবীরা

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৮ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ৮:৫৯

সিলেটবাসীর সঙ্গে একাত্ম আইনজীবীরা। সিলেটে ঘটে যাওয়া দু’টি আলোচিত ঘটনার প্রতিবাদের সঙ্গে তারাও সরব। সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে দলীয়ভাবে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনা তাদের ব্যথিত করেছে। এ কারণে সিলেটের জেলা বারের আইনজীবীরা জানিয়ে দিয়েছেন, ঘৃণার প্রকাশ স্বরূপ এবং প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তারা কোনো অপরাধীর পক্ষে আদালতে লড়বেন না। বরং তারা ঘটনার শিকার দু’টি পরিবারের পাশে থেকে ন্যায় বিচারের স্বার্থে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা বার সিলেটের পেশাজীবী সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন। সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আন্দোলনসহ নানা বিষয়ের সঙ্গে জেলা বারের আইনজীবীরা অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে সম্পৃক্ত। সিলেটের মানুষের সুখে, দুঃখে বারের সব আইনজীবীরা একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
বিশেষ করে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যান বারের সদস্যরা। এ কারণে সিলেট জেলা বার বিচারপ্রার্থী মানুষের কাছে অন্যতম আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। গত ২৫শে সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজে ঘটেছে ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম ঘটনা। প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠের ছাত্রাবাসের ভেতরেই জোরপূর্বক স্বামীকে আটকে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় সিলেটের মানুষের মতো জেলা বারের আইনজীবীরাও ক্ষুব্ধ। এ কারণে ঘটনার পর পুলিশ ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে প্রতিদিন কয়েকশ’ আইনজীবী মামলার বাদী ও নির্যাতিতার পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নিলেও কোনো আইনজীবী আসামির পক্ষে দাঁড়াননি। বরং আসামিদের রিমান্ড শুনানির সময় সব আইনজীবী ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার পক্ষকে সহযোগিতা করেন। এখন আসামিরা কারাগারে। কিন্তু এই মামলায় কোনো আইনজীবী এখনো আসামিপক্ষকে সহযোগিতায় মত দেননি। ‘অঘোষিতভাবে’ আইনজীবীরা আসামিদের পক্ষে না দাঁড়ানোর মত অবলম্বন করেছেন। এতে করে আইনজীবীরা সিলেটবাসীর প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। আইনজীবী এবং বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা আরো দৃঢ় হচ্ছে। এদিকে- এমসি কলেজের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে মারা গেছেন যুবক রায়হানউদ্দিন। এ ঘটনায় সিলেট ফের উত্তপ্ত। গত এক সপ্তাহ ধরে সিলেটে চলছে টানা আন্দোলন। প্রতিদিনই সিলেটের রাজপথে বিক্ষোভ, মিছিল, সড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে- বন্দরবাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ পুলিশ সদস্যদের পিটুনিতে মারা গেছে রায়হানউদ্দিন। এ কারণে এসআই আকবর ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আরো তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি প্রধান সন্দেহভাজন এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে। এ নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই সিলেটে। নিহত রায়হানের পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে সবাই ছুটে যাচ্ছেন তার বাড়িতে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত রায়হানের বাড়িতে যান সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির একটি টিম। জেলার সভাপতি, সাধারন সম্পাদক এবং সিনিয়র আইনজীবীদের নেতৃত্বে ওই টিমের ১৫ সদস্যর একটি দল নিহত রায়হানের মায়ের সঙ্গে দেখা করে তারা পুত্র শোকে কাতর থাকা মাকে সান্ত্বনা জানান। এ সময় সিনিয়র আইনজীবীরা জানান, প্রতিবাদ এবং ঘৃণা স্বরূপ তারা রায়হানের খুনিদের পক্ষে আদালতে লড়বেন না। বরং রায়হানের পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে সিলেট জেলা বার সেটি দেবে। এবং রায়হানের খুনের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীরা পরিবারের পাশে থাকবে। আইনজীবীদের এই সান্ত্বনায় আশ্বস্ত হন মা সালমা বেগম। তিনি জানিয়েছেন, আমার ছেলেকে আর পাবো না। তবে তাকে যেভাবে নির্যাতন করে মারা হয়েছে আমরা সেটির বিচার চাই। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইনজীবীরা পাশে থাকার কথা বলেছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সিলেটের আইনজীবীরা বাসায় এসেছেন। সত্য প্রতিষ্ঠায় তারা কাজ করার কথা বলায় আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। আশা করি, রায়হানের খুনিরা গ্রেপ্তার হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এদিকে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট এটিএম ফয়েজ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, আসামি হলেও আইনি অধিকার পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। তবে কিছু কিছু ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। বিবেকের তাড়নার কারণে ঘৃণ্য ও জঘন্যতম ঘটনার প্রতিবাদে সিলেট জেলা বার সব সময় সোচ্চার। সিলেটের সামাজিকতার সঙ্গে সিলেট জেলা বার জড়িত। এ কারণে এমসি কলেজ ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ঘটনায় ঘৃণা প্রকাশ করে প্রতিবাদ স্বরূপ আইনজীবীরা আসামিদের পক্ষে দাঁড়াতে নাও পারেন। এতে করে ন্যায় বিচারে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Burhan
২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:২৬

ইতিহাস ঐতিহ্য বজায় রাখতে এই ঐক্য সিলেটের মানুষের জন্য দরকার প্রশাসনের লোকজন মানুষ হত্যা করে এটাতো জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং ভয়ানক জাতি সময় থাকতে সঠিক পথ দেখতে হবে ভবিষ্যতে আর পুলিশ যেন এরকম ঘটনা না করে

অন্যান্য খবর