× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার
সাইফুল অপহরণ

থানায় মামলা যুবলীগ নেতা রানাসহ আসামি ৫

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ১৯ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৮:৩৩

চট্টগ্রামের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম অপহরণ ও হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সেই যুবলীগ নেতা নওশাদ মাসুদ রানাসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে অপহৃত ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অপহরণ মামলা দায়ের করেন। হালিশহর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস হালিশহর থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে নওশাদ মাহমুদ রানা ছাড়াও চারজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তারা হলেন-পাপ্পু (৪৫), মো. মাসুদ প্রকাশ পাগলা মাসুদ (৩৫), মো. ইকবাল (৩৬) ও মো. সাখাওয়াত (৩২)। এরা ছাড়াও মামলায় আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে আরেকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে তার বাসার কাছে খুলশীর কনকর্ড টাওয়ার এলাকায় গাড়িযোগে এনে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। তারও আগে দুপুরে পরিবারের সামনে থেকে হালিশহরের বৌবাজার এলাকার দুলহান কমিউনিটি সেন্টার থেকে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়। এরপর পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের তোপে ভিকটিম সাইফুলকে চোখ বাঁধা অবস্থায় গভীর রাতে ছেড়ে দেয়। কিন্তু পুলিশ অপহরণকারী কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমন অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ বলেন, ‘খুন অপহরণ ধর্ষণ এসব মামলা থানায় রেকর্ড হলেই আসামিকে ধরতে আইনি কোনো বাধা নেই। এসব মামলা অজামিনযোগ্য ধারায় হয় বলে সাধারণত পুলিশ আসামিদের সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলে।’ মামলার বাদী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, শুক্রবার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে সাইফুলসহ আমরা সবাই ছিলাম। হঠাৎ বিকাল তিনটার দিকে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ নওশাদ মাহমুদ রানা ও তার সহযোগীরা অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক একটি নুয়া গাড়িতে তুলে সাইফুলকে অপহরণ করেন।
সাইফুল একজন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী। তার প্রতিষ্ঠানের নাম আরএস কর্পোরেশন। এ প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক অংশীদার ছিলেন নওশাদ মাহমুদ রানা। রানার আর্থিক অনিয়ম দৃষ্টিগোচর হলে সালিশের মাধ্যমে সাইফুল ইসলাম তার সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করেন। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত নওশাদ মাহমুদ রানার যাবতীয় পাওয়া বুঝিয়ে দেয়া হয়। মূলত এসব কারণেই নওশাদ মাহমুদ রানা দলবল নিয়ে সাইফুল ইসলামকে দিনে দুপুরে অপহরণ করেন।
নির্যাতনের বর্ণনা ব্যবসায়ী সাইফুলের: অপহরণের পর কি ঘটেছিল তার বর্ণনা দিতে গিয়ে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, গাড়িতে করে প্রথমে আমাকে রানার বাপের বাড়ি চান্দগাঁওয়ের গোলাম আলী নাজির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুইঘণ্টা নির্যাতন করার পর একটা স্ট্যাসেপ ৭০ কোটি টাকা ৬ মাসে রানাকে দিতে হবে এমন প্রতিশ্রুতি নিতে চাপ দেয়া হয়। এরপর সেখানে পুলিশি অভিযানের খবর পেয়ে আমাকে বলিরহাটের একটি বাসায় নিয়ে রাত পর্যন্ত রাখা হয়। সেখানেও বারবার পিটানো হয় স্ট্যাম্পে সাইন করতে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ও এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় সমঝোতা বৈঠকের পরই মধ্যরাতে প্রথমে তাকে ওই নেতার বহদ্দারহাটের বাসায় আনা হয়।
সেখান থেকে রাত আড়াইটার দিকে চোখ বেঁধে মোটরসাইকেলে করে তার বাসার কাছে খুলশীর কনকর্ড টাওয়ার এলাকায় ছেড়ে দেয়া হয়। রানার এসব অপকর্মে জড়িত ছিলেন ১৫-২০ জন। একই সঙ্গে রানার শাস্তির দাবির পাশাপাশি নিজের পরিবার ও নিজের জীবননাশের হুমকি পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, নওশাদ মাসুদ রানা কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর