× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৫ নভেম্বর ২০২০, বুধবার

সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করলেন খাসোগির প্রেমিকা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ অক্টোবর ২০২০, বুধবার, ১১:৫৬

অবশেষে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মামলা করেছেন তুরস্কে নৃশংসভাবে নিহত সাংবাদিক জামাল খাসোগির প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিস। অভিযোগে তিনি দাবি তুলেছেন, নিহত সাংবাদিক খাসোগি সৌদি আরবের একজন বাসিন্দা এবং ভিন্ন মতাবলম্বী। এ কারণে, তাকে টার্গেট করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। হাতিস চেঙ্গিস দাবি করেছেন, তিনি ও খাসোগি মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মানবাধিকার বিষয়ক একটি সংস্থা। কিন্তু ক্রাউন প্রিন্স সেই সংস্থার মারাত্মক ক্ষতি করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

উল্লেখ্য, হাতিশ চেঙ্গিস একজন তুর্কি যুবতী। তার সঙ্গে জামাল খাসোগির বিয়ের কথাবার্তা পাকা হয়।
এ জন্য তিনি ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি আরবের কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন। সেই যে প্রবেশ, আজও তার খোঁজ মেলেনি। এ খবর দুনিয়ার কেউ জানতে পারতো না, যদি কনস্যুলেটের বাইরে তার প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিস সেদিন তার জন্য অপেক্ষায় না থাকতেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর যখন খাসোগি বেরিয়ে না আসেন, তখন তিনি মিডিয়ার কাছে মুখ খোলেন। আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসতে থাকে ভয়াবহ এক হত্যামিশনের কথা। অভিযোগ তোলা হয়, সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের নির্দেশে খাসোগিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে ওই কনস্যুলেটের ভিতরে। তবে তার মৃতদেহ কি করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। ওদিকে অভিযোগের আঙ্গুল ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের দিকে তোলা হলেও তিনি তা অস্বীকার করেন।

এ নিয়ে বিবিসি বাংলা লিখেছে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে দায়ের করা নাগরিক মামলায় তুরস্কের নাগরিক হাতিস চেঙ্গিস ব্যক্তিগত আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন এবং খাসোগির মৃত্যুতে হওয়া আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।খাসোগির মানবাধিকার সংস্থা ডেমোক্রেসি ফর দ্য অ্যারাব ওয়ার্ল্ড নাও (ডন) অভিযোগ তুলেছে যে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, জামাল খাসোগিকে ‘মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনায় তার অনুসারীরা’ হত্যা করেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার এক ভিডিও কনফারেন্সে হাতিস চেঙ্গিস ও ডন জানায় যে, খাসোগি হত্যায় দায়ী যুবরাজ মোহাম্মদকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালতে বিচারের আওতায় আনা হয়, সেই লক্ষ্যেই মামলাটি করেছেন তারা। এক বিবৃতিতে মিস চেঙ্গিস বলেন, জামাল বিশ্বাস করতো আমেরিকায় যে কোনো কিছু সম্ভব। তাই বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য আমিও আমেরিকার নাগরিক আইনের ওপর আস্থা রাখছি।

উল্লেখ্য, সুপরিচিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি সৌদি আরবের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার হয়ে আফগানিস্তানে সোভিয়েত অভিযান এবং আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের উত্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কভার করেন। ৫৯ বছর বয়সী জামাল খাসোগি বেশ কয়েক দশক সৌদি রাজ পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সৌদি সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি আমেরিকায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান। সেসময় থেকেই তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কার্যক্রম সমালোচনা করে প্রতি মাসে কলাম লিখতেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম কলামে তিনি যুবরাজের বিরোধিতা করার জন্য গ্রেফতার হতে পারেন বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন।

২০১৮ সালের ২রা অক্টোবরে বিবাহ বিচ্ছেদের একটি সনদ নেয়ার জন্য ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকেছিলেন জামাল খাসোগি। সেখানেই তাকে শেষবার দেখা যায়। তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আসা কনস্যুলেটের ভেতরের অডিও রেকর্ডিং শুনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস কালামার্ড বলেছিলেন যে, খাসোগিকে সেদিন ‘নির্মমভাবে হত্যা’ করা হয়েছিল। তবে সৌদি কৌঁসুলি সেসময় বলেছেন, এই হত্যা পূর্ব পরিকল্পিত ছিল না। সৌদি কর্মকর্তারা বলে আসছেন, সৌদি আরবের একটি দুর্বৃত্ত দলের হাতে এই সাংবাদিক খুন হয়েছেন। আর হত্যার নির্দেশও ঐ দলের প্রধানের কাছ থেকেই এসেছিল।

ওই দলটিকে খাসোগির সাথে ‘আলোচনা’ করে তাকে ‘বুঝিয়ে, বা সম্ভব না হলে জোর করে’ সৌদি আরবে ফিরিয়ে নিতে মানানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল বলে বলেছিলেন তারা। কিন্তু ঘটনার সাথে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে দেশটির কর্মকর্তারা। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাসোগিকে জোর করে ধরে রাখার পর তার দেহে বিপুল পরিমাণ চেতনানাশক ওষুধ প্রবেশ করানো হয় এবং অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রবেশ করানোর ফলে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করে সৌদি কৌঁসুলিরা।
এরপর তার দেহ টুকরো টুকরো করা হয় এবং স্থানীয় একজন ‘সহযোগী’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার দেহাবশেষ কখনোই পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের কৌঁসুলিরা জানিয়েছিলেন যে, হত্যার দিন কনস্যুলেটে প্রবেশ করার সাথে সাথেই খাসোগির শ্বাসরোধ করা হয় এবং তার দেহাবশেষ ধ্বংস করে ফেলা হয়। ২০১৯ এর ডিসেম্বরে রিয়াদের ফৌজদারি আদালত ‘হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণ এবং হত্যাকা- ঘটানোয়’ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক উপ প্রধান আহমেদ আসিরি-সহ তিনজন নির্দোষ প্রমাণিত হন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহতানির বিরুদ্ধে তদন্ত চললেও তার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ চূড়ান্ত হয়নি। গত মাসে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার খবরে জানানো হয় যে, পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তিত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি দেয়া হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Milton
২১ অক্টোবর ২০২০, বুধবার, ১০:৫৭

The Prince Charming, the humper, and the flag bearer of Islamic world!! What a shame

অন্যান্য খবর