× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার
দাতা সম্মেলনে বাংলাদেশের আহবান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিন

অনলাইন

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ২২ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৯:৩৮

আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনে বাংলাদেশ বলেছে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায় ঢাকার প্রতি যে প্রস্তাবই নাজিল করুক না কেন, মিয়ানমারের সঙ্গে তা সমন্বয়ের উদ্যোগ না নিলে সব প্রচেষ্টা বা বিনিয়োগ মাঠে মারা যাবে। দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত  সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপক চেষ্টা সত্ত্বেও ৩ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। প্রত্যাবাসন না হওয়ার কারণে রোহিঙ্গারাও হতাশ। তারা তাদের জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ওই অনিশ্চয়তা এবং হতাশা থেকে তারা মানবপাচার, উগ্রবাদ, মাদক চোরাচালানসহ অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ওই ভার্চ্যুয়াল সম্মেলন শেষে আলাদা ব্রিফিংয়েও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, আমরা আজ কিছু বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। আমরা বলেছি, প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান, ভিন্ন কিছু নয়। আমরা বলেছি, বিশ্ব সম্প্রদায় যদি আমাদের বক্তব্য বা উদ্বেগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বাংলাদেশ তার স্বার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কোন সিদ্ধান্ত নেবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাউন্ডারি বা বেড়া দেয়া এবং ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাষানচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সরকার বাস্তবায়ন করতে চলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভাষানচর নিয়ে শক্ত বিরোধিতা নেই। তাছাড়া অনেক রোহিঙ্গা পরিবার সেখানে যে আগ্রহী। আবহাওয়া ঠিক হলেই স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগ্রহীদেরকেই সেখানে পাঠানো হবে। সরকার কাউকে ভাষানচরে জোর করে পাঠাবে না। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্মভিটায় স্থায়ীভাবে ফেরার পরিবেশ তৈরিতে সেফ জোন প্রতিষ্ঠাসহ জাতিসংঘে যে ৫ দফা প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালে দিয়েছিলেন তা-সহ রাখাইনকে নিরাপদ করতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ রয়েছে তার আলোকে এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে ঢাকা জোর দিয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমন দাতা সম্মেলন আগেও হয়েছে। এটি ভাল উদ্যোগ, কারণ গত মার্চে সর্বশেষ দাতা সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার জন্য ৯০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহের যে টার্গেট এবং অঙ্গীকার মিলেছিল তার অর্ধেক অর্থও মিলেনি। জাতিসংঘ ওই তহবিল সংগ্রহ করে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মিস্টার আলম বলেন, দাতা সম্মেলনে বাংলাদেশ বেশ কড়া বার্তা দিয়েছে। কারণ ২০১৭ সালে বড় আকারে রোহিঙ্গা ঢল এবং তাদের মানবিক বিবেচনায় আশ্রয়ে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা কেবল বাংলাদেশই টের পাচ্ছে। সেটাই এবার বিশ্বকে বলা হয়েছে। অন্য প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা স্পষ্ট করে মিয়ানমারের সেই সব বন্ধু রাষ্ট্র এবং দেশটির ভবিষ্যতের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদেরকে ‘গুড অফিস’ ব্যবহার বুঝাতে করে কিংবা প্রয়োজনে চাপ বাড়িয়ে সংকটটির সমাধানে বাধ্য করতে বাংলাদেশ অনুরোধ করেছে। মিয়ানমারে চীন ও পশ্চিমা বিনিয়োগ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই এ অঞ্চলের প্রত্যেকটি দেশ দারিদ্রতা থেকে বেরিয়ে আসুক। বেকারত্ব নিরসন হোক। এ জন্য আমরা যে কোন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করি। অনেকে অনেকভাবে এখানে কাজ করছে। এ নিয়ে তিনি নতুন করে মন্তব্য করতে চান না বলে জানান। মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্য এবং মিয়ানমারের বাইরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে চরম ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে জরুরী মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভার্চ্যুয়ালি আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলন হয়। এতে বিভিন্ন দেশ এবং দাতা সংস্থা তাদের নিজ নিজ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে ওই সম্মেলনের আয়োজন করে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের বড় ভিকটিম হিসাবে বাংলাদেশও এতে অংশ নেয়। সম্মেলনে ঢাকার তরফে যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপক চেষ্টা সত্বেও ৩ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন না হওয়ার কারণে রোহিঙ্গারাও হতাশ। তারা তাদের জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ওই অনিশ্চয়তা এবং হতাশা থেকে তারা মানবপাচার, উগ্রবাদ, মাদক চোরাচালানসহ অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এক আলাদা ব্রিফিংয়েও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সদ্য ঢাকা সফর করে যাওয়া মার্কিন উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং অঙ্গীকার তুলে ধরেন। দীর্ঘ বক্তৃতার তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত রয়েছে। সুতরাং মিয়ানমারকে এতে কার্যকরভাবে এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানের জন্য বাংলাদেশ এবং এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞা জানিয়ে বিগান বলেন, গোটা এশিয়া অঞ্চলের জন্য চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে জাতিসংঘের স্থায়ী ৫ সদস্যকে এক এবং অভিন্ন অবস্থান নিতে হবে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতের যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ২০০ মিলিয়ন ডলারের নয়া তহবিল প্রদানের ঘোষণা দেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিগান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
২২ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৮:৫৯

আজ রোহিঙ্গা মুসলিম শুধু নয় সমগ্র পৃথিবীর আনাচকানাচে মুসলিম হওয়ার কারনে অসংখ্য বনী আদম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, পুরুষদের হত্যা এবং নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। সাথে সাথে সহায় সম্পদ লুটপাট করা হচ্ছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত নির্মম নির্যাতনের সকল সীমা ছাড়িয়ে গেলেও বিশ্বের মানবতার ফেরিওয়ালারা শুধু দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া ছাড়া মুসলিমদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন বন্ধে কার্যত তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বৃটেন, আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলো ফিলিস্তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে ইহুদিদের সরাসরি মদদ দিয়ে যাচ্ছে সেই ১৯১৭ সাল থেকে। কাশ্মীরিদের গণভোটের অধিকার সেই অধরাই রয়ে গেছে। ফ্রান্সে ইসলামের ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা করা হয়। চীনে লাখ লাখ মুসলিমকে বন্দী শিবিরে অকথ্য নির্যাতনের মধ্যে রাখা হয়েছে এবং বহু মসজিদ ভেঙে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। ভারতেও বাবরি মসজিদ ভেঙে মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং প্রায়ই শোনা যায় মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। আর মিয়ানমারের কথা সকলের জানা। এটা একেবারে তরতাজা ইস্যু। এই যে মানবজমিনের এই প্রতিবেদনের শিরোনামের সাথে রোহিঙ্গাদের দেশ ত্যাগের যে ছবি খানা ছাপানো হয়েছে তার দিকে দৃষ্টি পড়লে যে কোনো বিবেকবান মানুষের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠতে বাধ্য। জায়গা জমি, ভিটা মাটি ও সহায় সম্বল সব কিছু থেকে উচ্ছেদ হয়ে কী অবর্ণনীয় এক দুর্ভোগের শিকার হয়ে তারা দেশ ত্যাগ করেছে। ছেলে তার বৃদ্ধা মাকে পিঠের ওপর বহন করে ভয়ার্ত কদমে ছুটে চলছে। এরাও তো মানুষ ! একই স্রষ্টার সৃষ্টি সব মানুষ। তবুও কতো ভেদাভেদ, কতো বৈষম্য ! কিন্তু মুসলিমদের ধর্মীয় আইনে আরব-অনারব, শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ ও ধনী-গরীবের কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য নেই এবং একজনের ওপর আরেক জনের আল্লাহ ভীতি ছাড়া অন্য কিছুতে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সেই লোক বেশি সম্মানিত যে আল্লাহকে বেশি ভয় করে।" সূরা আল হুজুরাতঃ১৩। কিন্তু মানুষের মধ্যে জাতিগত, গোষ্ঠীগত ও পারষ্পরিক অহেতুক ও নিরর্থক দাম্ভিকতার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে মানুষ চরম এক নিষ্ঠুরতম প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। আজ রোহিঙ্গাদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা , ধর্ষণ ও উচ্ছেদের একটাই কারণ ; সেটা আল্লাহর ভাষায় এভাবে বর্ণিত হয়েছে, "ওই ঈমানদারদের সাথে তাদের শত্রুতার এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিলো না যে, তারা সেই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিলো, যিনি পরাক্রমশালী এবং নিজের সত্তায় নিজেই প্রসংশিত, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্বের অধিকারী। আর সে আল্লাহ সবকিছু দেখছেন।" সূরা আল বুরুজঃ৮-৯। তবে যারা মুসলিম হওয়ার কারনে অত্যাচারিত হচ্ছে এবং তাদেরকে যারা আশ্রয় দিয়েছে তাদের পুরষ্কার রয়েছে আল্লাহ তায়ালার কাছে। তিনি বলেন, "যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর পথে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে এবং আল্লাহর পথে চেষ্টা সাধনায় রত হয়েছে আর যারা তাদেরকে থাকার জায়গা দিয়ে আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য সহযোগিতা করেছে তারাই সাচ্চা মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে ভুলের ক্ষমা ও সর্বোত্তম জীবীকা।" সূরা আল আনফালঃ৭৪। আজকের দিনে যখন জাতিসংঘ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র চীন ও ভারত যখন মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারকে সমর্থন করে যাচ্ছে এবং বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো যখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের তাদের নিজ গৃহে ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে তাতেই তাদের মানবিকতার মুখোশ উন্মোচন হয়ে পড়েছে। আর মানবিকতার সর্বোত্তম নিদর্শন স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। আল্লাহ তায়ালার প্রতিশ্রুতি হলোঃ "ঈমানদার হওয়ার কারনে যাদের ওপর জুলুুম হওয়ার পর তারা নিজেদের বাড়ি ঘর ত্যাগ করেছে, আমি অবশ্যই এ পৃথিবীতে তাদেরকে উত্তম আশ্রয় দেবো। আর আখেরাতের পুরষ্কার সেতো অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ। যদি তারা বুঝতে পারতো।" সূরা আন নাহলঃ৪১। ইসলাম ধর্মে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে কারো প্রতিই জুলুম করার কোনো বৈধতা নেই। হাদিসে কুদসিতে "আবুযর রা. থেকে রাসূল স. বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ হে আমার বান্দারা আমি জুলুম করাকে আমার জন্য হারাম করে নিয়েছি। তোমাদের পরষ্পরের জন্যও তা হারাম করে দিয়েছি। সুতরাং তোমরা একজন আরেক জনের উপর জুলুম করো না।" সহীহ বুখারী ও মুসলিম। লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে, এই হাদিসে আল্লাহ তায়ালা শুধু মাত্র মুসলিমদের সম্বোধন করেননি। তিনি তাঁর সকল বান্দাকে লক্ষ্য করেই নির্দেশ দিয়েছেন একে অপরের উপর যেনো জুলুম না করে। আজ রোহিঙ্গারা যে অবর্ণনীয় জুলুমের শিকার হয়েছে একমাত্র সমাধান হলো তাদেরকে তাদের নিজস্ব বাড়ি ঘরে সম্মানের সাথে ফিরিয়ে নেয়া। পৃথিবী থেকে মনুষ্যত্ব বোধ, মানবতা, মানবিকতা ও সহমর্মিতা বিলীন যে হয়ে যায়নি জাতিসংঘ সহ বিশ্ব নেতাদের সে প্রমাণ আজ দিতে হবে। সুতরাং রোহিঙ্গাদের আর যেনো বাংলাদেশে পরবাসী হয়ে পড়ে থাকতে না হয় এবং তারা যেনো তাদের ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করতে পারে সেই ব্যাবস্থা করতে হবে। আর আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের সহায়তার যে প্রস্তাব করা হয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

অন্যান্য খবর