× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৫ নভেম্বর ২০২০, বুধবার

তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক অবরুদ্ধ

বাংলারজমিন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি | ২৭ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:০০

 শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় প্রভাবশালীরা জমি দখল করে ক্লাব ঘর করছে এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে টেলিভিশন ও পত্রিকার দুই সংবাদিককে ধাওয়া দিয়ে একটি দোকান ঘরে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবর ও তার লোকেরা। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বিকেনগর মুন্সীকান্দি গ্রামের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে জাজিরা থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান, সামছুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় শরীয়তপুর প্রেস ক্লাব, শরীয়তপুর ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, শরীয়তপুর অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সহ জেলার সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয় ও অবরুদ্ধ সাংবাদিকদের কাছ থেকে জানা যায়, বিকেনগর মুন্সীকান্দি গ্রামের ছলেমান মাদবর (৭৫) ও তার চাচাতো ভাই সোবাহান মাদবরের (৬০) সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত সাড়ে ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ১৮ই অক্টোবর সেই জমি দখল করে ক্লাব ঘর করবে বলে জোরপূর্বক গাছ কেটে মাটি ভরাট করে সোবাহান মাদবর ও তার লোকেরা। ছলেমান মাদবর প্রতিবাদ করলে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় ছলেমান বাদী হয়ে জাজিরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
পরে স্থানীয় সালিশে দুই পক্ষকে ডেকে ২৩শে অক্টোবর মিমাংসায় বসার কথা বললেও বসা হয়নি। এ বিরোধের জেরে রোববার রাতে সোবাহান মাদবর তার ছেলে নাছির মাদবর, বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবর ও তাদের লোকেরা ছলেমান মাদবর ও তার লোকজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় বলে জানায় ছলেমান মাদবর। এ বিষয় নিয়ে গতকাল সকালে হামলা ও জমি দখল করছে এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক বর্তমান পত্রিকার শরীয়তপুর প্রতিনিধি খোরশেদ আলম বাবুল ও দীপ্ত টেলিভিশনের শরীয়তপুর প্রতিনিধি রাজিব হোসেন রাজনকে বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবরের নেতৃত্বে ধাওয়া দিয়ে স্থানীয় একটি দোকান ঘরে (সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত) দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।
অবরুদ্ধের সময় সোবাহান মাদবরের লোকেরা ছলেমান মাদবরের লোকদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে দুইপক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতরা হলেনÑ ছলেমান মাদবরের পক্ষের ইউসুফ আলী মাদবর (৬৫), আবু বকর মাদবর (৩৫), এইচএমএ কাইয়ূম মাদবর (৪৬), ছলেমান মাদবর (৭৫), আইয়ূব আলী মাদবর (৫৫), হাবিবুর রহমান আব্বাসী মাদবর (২০), আতিব মাদবর (১৪), লাকু মাদবর (৩৫) ও অপর পক্ষের নাজমা বেগম (৪২), লাভলি আক্তার (৩০), নাসির মাদবর (৪০), ছালাম মাদবর (৪৪), রিমা (২৫), সোবাহান মাদবর (৬০)। আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফ আলী মাদবর (৬৫) ও আবু বকর মাদবরকে (৩৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করেন। হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোবাহান মাদবরের নাতি সালমুন হাওলদারকে (১৮) আটক করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের কাছ থেকে সালমুনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সোবাহান মাদবরের ছেলে বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবর বলেন, আমাদের জমিতে ঘর তোলার জন্য মাটি ফেলেছি। কিন্তু ছলেমান সেই জমি নিজেদের দাবি করছে। তারা আমাদের ওপর হামলা করে বেশ কয়েকজনকে আহত করেছে। সাংবাদিকদের আমরা অবরুদ্ধ করিনি।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার পিপিএম বলেন, সংঘর্ষ ও সাংবাদিকদের অবরুদ্ধের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর