× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার

কটিয়াদীতে নদীভাঙন রোধে ১৯ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

বাংলারজমিন

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি | ২৭ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:০১

 কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এবং মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকার মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রক্ষপুত্র নদের পূর্বপাশে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের কিছু অংশে এবারের বর্ষায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এতে এলাকার বেশকিছু দোকানপাট, বাড়িঘর, রাস্তা, বাঁশ, গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি নূর মোহাম্মদের একান্ত প্রচেষ্টায় জরুরি ভিত্তিতে ১৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কিন্তু নামে মাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে এর সিংহভাগ অর্থই লুটপাট হয়েছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জের মাঈন এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়। নদী পাড়ের ১২০ মিটার ভাঙন এলাকা রোধের জন্য কিশোরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীকে প্রধান সমন্বয়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। কমিটিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি একজন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে একজনকে তদারকি কমিটিতে রাখা হয়। কিন্তু প্রকল্প চলাকালীন সময়ে কমিটির কোন সদস্যকে প্রকল্প এলাকায় দেখেননি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নদীভাঙন রোধে ভাঙন এলাকায় ২শ’ বাঁশের খুঁটি, ১১ হাজার ২৮৬টি বালুভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন। এদের মধ্যে জিও বস্তা ৪ হাজার ২৮৬টি ও প্লাস্টিক বস্তা ৭ হাজারটি।
পানির নিচে কে গুনতে যাবে বালির বস্তা। তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির যোগসাজশে ইচ্ছামতো প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। এলাকাবাসী কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি নূর মোহাম্মদের কাছে এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় লোহাজুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য আবুল কাশেম ফারুক বলেন, নদী ভাঙন রোধে প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার বা পাউবো কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীকে প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানায়নি। প্রকল্প বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি আছে, তারা দেখবে। কিন্তু প্রকল্প চলাকালীন সময়ে তাদের কাউকেই এলাকায় দেখা যায়নি। ইচ্ছামতো নামেমাত্র কিছু বালির বস্তা ফেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে ১৯ লাখ টাকার প্রকল্পে অন্তত ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মাঈন এন্টারপ্রাইজ’ এর স্বত্বাধিকারী রাসেল সরকার জানান, প্রকল্প চলাকালীন সময়ে চার সদস্যের কমিটি দেখাশোনা করেছেন। প্রকল্পে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। নিয়মমাফিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
লোহাজুরী ইউপি চেয়ারম্যান আতাহার উদ্দিন ভূঁইয়া রতন বলেন, ‘ভাঙন কবলিত এলাকায় ১৯ লাখ টাকার বরাদ্দ হলেও তা শতভাগ কাজ হয়নি। অনিয়মের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. আকতারুন নেছা বলেন, ‘যদি অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কিশোরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামে নদীভাঙন কবলিত এলাকায় ইস্টিমেট অনুযায়ী ১৯ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত থেকে কাজ করেছেন। বালুভর্তি বস্তা ফেলতে কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর