× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

মাধবপুরে প্রবাসী স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

বাংলারজমিন

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি | ২৭ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:০৫

১০ বছর বিদেশ থেকে স্বামীকে ২৯ লাখ টাকা দিয়েও খুশি করতে পারেনি স্ত্রী। আরো টাকার জন্য স্ত্রীর উপর নির্যাতন শুরু করে স্বামী। স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে মামলা করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জর মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের আয়লাবই গ্রামে। মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের আয়লাবই গ্রামের মৃত মস্তু মিয়ার ছেলে মো. মতি মিয়া ধর্মীয় বিধান মতে বিয়ে করেন আয়লাবই গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নাফ মিয়ার মেয়ে মোছা. আজিদা বেগমকে। বিয়ের পর ভালোভাবেই সংসার চলছিল। বিয়ের কিছুদিন পর আজিদা বেগমকে তার স্বামী মতি মিয়া গৃহকর্মীর কাজ দিয়ে দুবাই পাঠায়। দুবাইয়ে ৫ বছর থেকে আজিদা বেগম দেশে চলে আসেন।
দুবাইয়ে থাকার সময় সব টাকা স্বামীর নিকট প্রেরণ করেন।
দেশে আসার পর তাদের দু’টি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ছোট মেয়ের বয়স যখন ৯ মাস তখন তার স্বামী তাকে গৃহকর্মীর কাজ দিয়ে পুনরায় জর্ডান পাঠায়। সেখানে আজিদা ২ বছর থাকে এবং উপার্জিত টাকা স্বামীর কাছে প্রেরণ করে। ২ বছর পর আজিদা দেশে ফিরে আসলে তার স্বামী মতি মিয়া গৃহকর্মীর কাজ দিয়ে তাকে আবার কাতার পাঠায়। সেখানে আজিদা ৩ বছর যাবত চাকরি করে উপার্জিত টাকা স্বামীর কাছে প্রেরণ করে। ৩ বছর পর আজিদা দেশে ফিরে আসে।
দুবাই, জর্ডান ও কাতার ৩ দেশ মিলিয়ে প্রায় ১০ বছর আজিদা বেগম বিদেশে গৃহকর্মীর কাজ করে স্বামীকে ২৯ লাখ টাকা দেন।
কিন্তু তাতে মতি মিয়ার মন ভরেনি। দেশে ফিরে আসার পর আরো টাকা দেয়ার জন্য মতি মিয়া আজিদার উপর নির্যাতন শুরু করে। এই নিয়ে স্বামীর সঙ্গে আজিদার বিরোধ দেখা দিলে এলাকার স্থানীয় লোকজন সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন।
স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত মতে স্বামীর বাড়িতে আলাদা গৃহ নির্মাণ করে ২ মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। তখনো স্বামী মতি মিয়া ২ লাখ টাকা দিতে আজিদা বেগমকে চাপ দিতে থাকে। আজিদা বেগম টাকা দিতে অস্বীকার করলে গত ১০ই অক্টোবর সকালে মতি মিয়া ও তার অপর স্ত্রী ছায়েদা বেগম মিলে আজিদা বেগমকে মারপিট করে আহত করে।
এ ঘটনায় আজিদা বেগম গত ১২ই অক্টোবর হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মাধবপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে তদন্তক্রমে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।
আজিদা বেগম জানান, ২ মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছেন। মতি মিয়া তাদের কোনো খোঁজ খবর রাখেন না। তাদের ভরণ পোষণও দেন না। এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু আসাদ ফরিদুল হক জানান, তদন্ত করে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর