× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার

কুলাউড়ায় উজাড় হচ্ছে বাঁশমহাল

বাংলারজমিন

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি | ২৭ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:১৪

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দু’টি বাঁশমহালের প্রায় ৩০ একর জায়গার বাঁশ কেটে সাবাড় করছে ভূমিখেকো একটি মহল। সামাজিক বনায়নের নামে স্থানীয় বিট কর্মকর্তার সহযোগিতায় মহালের এসব বাঁশ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়ার বেগুনছড়া ও লবণছড়া বাঁশমহালে প্রায় ৩০ একর জায়গা রয়েছে। ৩-৪ মাস থেকে নলডরি বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের সহযোগিতায় বেগুনছড়া ও লবণছড়া মৌজার প্রায় ৩০ একর জায়গা থেকে মুলি ও মাকাল প্রজাতির বাঁশ কেটে ফেলেছে একটি মহল। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ টাকা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানজুমের অনেক শ্রমিক জানান, স্থানীয় বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সামাজিক বনায়নের নামে বস্তিবাসীদের দিয়েই এসব বাঁশ কর্তন করাচ্ছেন। আর কর্মধা ইউনিয়নের নলডরি গ্রামের লিটন হচ্ছেন এর মূল হোতা। প্রত্যক্ষদর্শী ওই শ্রমিকরা আরো জানান, বাঁশ কর্তনের বিষয়টি বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারকে জানালেও বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় খাসিয়াদের উপর দোষ চাপিয়ে অযথা তাদের দায়ী করেন।

সরজমিন দেখা গেছে, বেগুণছড়া বাঁশমহালের পূর্ব-দক্ষিণ পাশের কয়েক একর জায়গায় মুলি ও মাকাল বাঁশ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। জানতে চাইলে সেখানকার স্থানীয় পানজুম শ্রমিকরা জানান, প্রায় সপ্তাহখানেক আগে এসব বাঁশ কাটা হয়েছে। ওই শ্রমিকরা আরো জানান, ৩/৪ মাস আগ থেকেই এভাবে বাঁশ কাটা হচ্ছে মহাল থেকে। কাটা বাঁশ শুকিয়ে গেলে তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তারা আরো জানান, এভাবে চললে এক সময় মহালে আর বাঁশ থাকবে না। ফলে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য হারাবে, অন্যদিকে সরকার বঞ্চিত হবে বড় ধরনের রাজস্ব আয় থেকে।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, নলডরি বিট কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) অর্জুন কান্তি দস্তিদারের সহযোগিতায় এর আগেও ছোটকালাইগিরি, বড়কালাইগিরি মহাল থেকে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাঁশ ও গাছ সাবাড় করা হয়েছে। স্থানীয়রা ওই বিট কর্মকর্তার কাছে মহালের বাঁশ কাটার অভিযোগ করলে তিনি সরজমিন যাচ্ছেন, যাবেন বলে আর যাননি। স্থানীয় পানজুম শ্রমিক ও খাসিয়ারা অভিযোগ করে বলেন, ওই বন কর্মকর্তার যোগসাজশে এবং সহায়তায় বন একেবারে উজাড় হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে বেগুনছড়া, লবণছড়ার বাঁশ ও বনাঞ্চল। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি লবণছড়া ও বেগুনছড়া মহালের কর্তনকৃত বাঁশ সরজমিন দেখতে গিয়ে বিট কর্মকর্তা অর্জুন অদৃশ্য কারণে অর্ধেক রাস্তা থেকে ফিরে আসেন। ওই সূত্রটি আরো জানায়, অর্জুন কান্তি দস্তিদার অযথা খাসিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাদের হয়রানি করছেন। তার খুঁটির জোর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
জানতে চাইলে নলডরি বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাঁশমহালের কয়েক একর জায়গা খাসিয়ারা জবর-দখল করে রেখেছেন। তিনি সরকারি জায়গা উদ্ধার করতে সেখানে সামাজিক বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, জবর-দখলকারী খাসিয়াদের বিরুদ্ধে ২০শে অক্টোবর কুলাউড়া থানায় এবং ১৭ই অক্টোবর মৌলভীবাজার কোর্টে একটি মামলাও দায়ের করেছেন। সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন জানান, বনাঞ্চলসহ মহালের বাঁশ রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। বেগুনছড়া বাঁশমহালের বাঁশ সাবাড় হওয়ার বিষয়টি আমি জানিনা। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবো, যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর