× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর ২০২০, রবিবার

গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো ছোট্ট শিশু মরিয়ম

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ ও হোসেনপুর প্রতিনিধি | ২৯ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৯:০৪

সাত বছরের ছোট্ট শিশু মরিয়ম। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের বীরপাইকশা গ্রামের হতদরিদ্র রিকশাচালক সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। এই বয়সে তার লেখাপড়া আর খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও পরিবারের দারিদ্রতার কারণে সুদূর কুমিল্লায় যেতে হয় গৃহকর্মীর কাজে। মাত্র দুই মাস আগে গৃহকর্মীর কাজ করতে সেখানে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছে নিষ্পাপ শিশুটি। বুধবার ভোরে নিথর দেহে বাড়ি ফিরে শিশুটি। গৃহকর্তা এলাহি শুভ (৩৪) ও তার স্ত্রী নাদরাতুল আহমেদ (২৩) শিশুটির লাশ নিয়ে আসেন বীর পাইকশা গ্রামের বাড়িতে। প্রথমে লাশ রেখে পালাতে চাইলে এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে তারা পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়ে শিশু মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান। কিন্তু মরিয়মের শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন দেখে মরিয়মকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন পরিবার এবং এলাকাবাসী।
পরিবার ও এলাকাবাসীর এই দাবির প্রেক্ষিতে হোসেনপুর থানা পুলিশ এলাহি শুভ ও তার স্ত্রী নাদরাতুল আহমেদকে আটক করে তাদের হেফাজতে নিয়েছে।
এলাহি শুভ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের ভাদুরগর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে। তার শ্বশুরবাড়ি হোসেনপুর উপজেলার বীরপাইকশা গ্রামে। তার স্ত্রী নাদরাতুল আহমেদ বীরপাইকশা গ্রামের নূরু মিয়ার মেয়ে। এলাহি শুভ একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকুরি করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাকুরির সুবাদে এলাহি শুভ তার স্ত্রী নাদরাতুল আহমেদকে নিয়ে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বুল্লিরপাড় এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। ওই ভাড়া বাসায় টুকটাক কাজের কথা বলে নাদরাতুল আহমেদ তার এলাকা থেকে দুই মাস আগে শিশু মরিয়মকে সেখানে নিয়ে যান। বুধবার ভোর ৫টার দিকে স্বামী-স্ত্রী এলাহি শুভ ও নাদরাতুল আহমেদ মিলে একটি গাড়িতে করে মরিয়মের মরদেহ নিয়ে হোসেনপুর উপজেলার বীরপাইকশা গ্রামের বাড়িতে যান। এসময় মৃত মরিয়মকে তার মা কুলসুম আক্তারের কাছে রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় মা কুলসুম আক্তারের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে যান। মরিয়মের শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন দেখে মরিয়মকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে এ অভিযোগে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার ওসি শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে সেটি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাউদকান্দি থানায় পাঠানো হবে। বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলেও ওসি শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর