× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর ২০২০, রবিবার

রাঙ্গামাটি পৌরসভার সাবেক একাউন্টেন্ট কারাগারে

বাংলারজমিন

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি | ৩০ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার, ৯:১০

দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত রাঙ্গামাটি পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাকুর মিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে আদালত। দুদকের দায়ের করা প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় রাঙ্গামাটি পৌরসভার সাবেক এই হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন জেলা জজ আদালত। বুধবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিন আবেদন নিয়ে রাঙ্গামাটি জেলা দায়রা ও জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান সাকুর মিয়া। জেলা জজ নুরুল ইসলাম এর আদালত এ সময় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। দুদক রাঙ্গামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সাকুর মিয়ার বর্তমান কর্মস্থল চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভায় বলে জানা গেছে।
এই মামলার অন্যতম আসামি সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো আগে থেকেই জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- রাঙ্গামাটি পৌরসভার কর আদায়কারী নির্মল কান্তি দাশ ও হিসাব সহকারী মো. নুরুল আমিন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাকুরসহ সংশ্লিষ্টরা রাঙ্গামাটি  পৌরসভায় কর্মরত থাকাকালীন পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি পৌরসভার ভ্যাট ও আয়কর বাবদ মোট ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪৭ টাকা ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলনপূর্বক টাকা চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করে আত্মসাৎ করে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
সূত্রমতে, দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে উঠে আসে, ভ্যাট ও আয়কর বাবদ উপরোল্লিখিত টাকা উত্তোলনের পর উক্ত টাকার মধ্য থেকে ৫টি চালানের মাধ্যমে মোট ৭,৩৮,৭৪১ টাকা সরকারি কোষাগারে নির্দিষ্ট  কোডে জমা দেয়ার জন্য চালানগুলোতে পৃষ্ঠাঙ্কনকারী কর্মকর্তা হিসেবে তৎকালীন মেয়র মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর তারিখবিহীন স্বাক্ষর গ্রহণ করা হলেও আসামি হিসাররক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাকুর মিয়া উক্ত টাকা জমা প্রদান না করে তা আত্মসাৎ করেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর গত ১৬/০৭/২০১৭ তারিখে উক্ত ৫টি চালানে মেয়র সাইফুল ইসলাম  চৌধুরীর স্বাক্ষর কেটে দিয়ে তদস্থলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাকুর মিয়া নিজে স্বাক্ষর করে উক্ত পরিমাণ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করে ক্ষমতার অপব্যবহার-পূর্বক ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ বিষয়ে দুদক প্রধান কার্যালয়ের স্মারক নং ০০.০১.৮৪০০.৬২৬.০১.১০৭.১৮
/রাঙ্গামাটি/১৩৮৭৪/১ তারিখ: ১৪/০৭/২০২০ইং মোতাবেক অনুমোদন রয়েছে। এ ব্যাপারে অন্যান্য অনুসন্ধান ও মামলা তদন্ত কার্যক্রমে আরো কারো সম্পৃক্ততা  পেলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে উক্ত মামলার এজাহারে।
এই মামলার বাদী জিএম আহসানুল কবীর কর্তৃক টাইপকৃত এজাহার গত ১২ তারিখ বিকালে প্রাপ্ত হয়ে দুদক সমন্বিত কার্যালয় রাঙ্গামাটির মামলা নং-০২ তারিখ ১২/০৮/২০২০ইং ধারা দণ্ডবিধি ৪০৯/১০৯ তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এই মামলা রুজু করেন সহকারী পরিচালক মো. আবুল বাশার। দুদক রাঙ্গামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন আহমেদ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে চলতি বছরের গত ১৩ই আগস্ট বৃহস্পতিবার এই মামলাটি দায়ের করেছেন রাঙ্গামাটি দুদক এর সহকারী পরিচালক মো. আবুল বাশার। মামলাটি গ্রহণ করেন রাঙ্গামাটির ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এর দায়িত্বে থাকা যুগ্ম জেলা জজ সাইফুল এলাহি। মামলা নম্বর ৪/২০, তারিখ: ১৩/০৮/২০২০ইং।
সর্বশেষ এই মামলার অন্যতম আসামি সাকুর মিয়া উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশনা প্রদান করে। তারই ধারাবাহিকতায় সাকুর মিয়া বুধবার রাঙ্গামাটি জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। এ সময় আদালত মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর