× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার
ফ্রান্সে নিরাপত্তা জোরদার

ক্ষোভে উত্তাল মুসলিমবিশ্ব

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১১:৫৮

ফরাসি মূল্যবোধ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডামারনিন বলেছেন, ইসলামিক আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে ফ্রান্স। তাই আরো হামলা হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে- মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র ও তার পরবর্তী ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। বিক্ষোভ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয় ও আফ্রিকাজুড়ে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে প্রতিবাদ হয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতের মুম্বই, ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন দেশে। এর মধ্যে পাকিস্তানে বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
একই ঘটনা ঘটেছে লেবাননে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে ভারতের অনলাইন টেলিগ্রাফ। এতে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাসের দিকে বিক্ষোভ করে এগিয়ে যেতে থাকে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গতিরোধ করে পুলিশ। তা ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এ সময় তারা ‘ফরাসি পণ্য বর্জন করুন’ স্লোগান দিতে থাকেন। অনেককে দেখা যায় ম্যাক্রনকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ লেখা ব্যানার বহন করতে। ঢাকায় বিক্ষোভকারী আকরামুল হক বলেছেন, ইসলামভীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ম্যাক্রন। তিনি ইসলামের শক্তি জানেন না। মুসলিম বিশ্ব এর বৃথা যেতে দেবে না। আমরা জেগে উঠবো এবং তার (ম্যাক্রন) বিরুদ্ধে সংহতি প্রকাশ করবো। এদিন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বাংলাদেশি কিছু বিক্ষোভকারী। ম্যাক্রনের ছবিতে তার গলায় ঝুঁলিয়ে দেয়া হয় জুতার মালা।
মুম্বইয়ে দেখা যায় শতাধিক পোস্টার। তাতে ম্যাক্রনের মুখের ওপর বুট দেখা যায়। এ ছবিতে তাকে দানব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এসব পোস্টার ফুটপাতে এবং বিভিন্ন রাস্তায় লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।
লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বাসভবন। একটি মসজিদ থেকে বিক্ষোভ বের হয়ে ওই বাসভবনের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় তাদেরকে নিবৃত করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৩ শত মানুষ।
আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজের পর পরই হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ করেন। তারা মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্রের নিন্দা জানান। বিক্ষোভকারীরা বলেন, যে জাতির নেতা মোহাম্মদ (স.) সেই জাতি পরাজিত হবে না। ফ্রান্সে যে বিশৃংখল কর্মকান্ড ঘটছে এবং সহিংসতা হচ্ছে, তার জন্য আমরা দায়ী করবো ফরাসি প্রেসিডেন্টকে। এসব ঘটছে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ম্যাক্রনের বক্তব্যের জন্য। আল আকসা মসজিদে বয়ানের সময় এসব কথা বলেন ইকরিমা সাব্রি। ইসরাইল দখলীকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিনিরা ফ্রান্সের একটি বিশাল পতাকা পদদলিত করে। অন্যরা ফরাসি পতাকায় অগ্নিসংযোগ করেছে। হামাস শাসিত গাজায় কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তারা ফ্রান্সবিরোধী বক্তব্য দিতে থাকেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
এ কে এম মহীউদ্দীন
৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ৪:৫১

আফ্রিকায় ফান্সের শোষণ ও লুণ্ঠন বন্ধ করতে পারলে ফ্রান্স একদিনেই পথে চলে আসত।

আবুল কাসেম
৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১:৫৪

একটা প্রেসিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বহীন আচরণ কাম্য নয়। সমাজে তো বটেই এবং রাষ্ট্রেও যার পদ পদবি যতো বড়ো অনিবার্যভাবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধও ততো বেশি। এই দায়িত্বশীলতার জায়গায় যদি কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটে তাহলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মুসলিম বিশ্বের অগণিত মানুষের মনে ক্ষোভের দাবানল জ্বেলে দিয়েছেন। সংক্ষুব্ধ করেছেন মুসলমানদের। বারংবার তাঁর উস্কানিমূলক বক্তব্য মুসলমানদের যেমন ব্যথিত করছে তেমনই উত্তেজিত করছে। তিনি মুসলিম দুনিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চান। অচিরেই তাঁর সেই খায়েশ ধূলিসাৎ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তাঁর মূর্খতা ও অর্বাচীনতা দেখে আমরা সত্যিই হতবাক হয়ে যাচ্ছি। সমগ্র মুসলিম বিশ্ব এবং বিবেকবান অমুলিমরাও তাঁর অশালীন ও অপরিনামদর্শী কার্যকলাপের নিন্দায় মুখরিত। প্রকারান্তরে তিনি প্রায় সমগ্র বিশ্ববাসীকে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োজিত করেছেন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এসকল অদূরদর্শী ও নিন্দনীয় কার্যকলাপের কারণে মানুষ তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে করেন। অথচ আমরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রিধারী এবং প্রেসিডেন্টের পদে আসীন হওয়ার পূর্বে একজন খ্যাতিমান ব্যাংকার বলেই জানতাম। হঠাৎ করে তাঁর মধ্যে কী এমন ভাবান্তর ঘটলো, তিনি ইসলাম, মুসলমান এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি বলেছেনের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছেন। তাঁর শিক্ষা দিক্ষা, ব্যক্তিত্ব এবং পদপদবীর সাথে মুসলিমদের বিরুদ্ধাচরণ মোটেই মানানসই নয়। তিনি সুস্থ মাথায় কিভাবে রাসূল স. কে অপমান করতে পারলেন এবং বিরতিহীনভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে হৃদয় বিদারক জঘন্য কথা বলে বলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছেন ও ক্ষতবিক্ষত করে যাচ্ছেন। তাঁর সভ্যতা-ভব্যতা, বিচার-বিবেচনা ও বিবেকবোধ কেনো তিনি জলাঞ্জলি দিলেন তা সত্যিই বিষ্ময়কর। তাঁর উচিত বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের আর উত্তেজিত না করা এবং যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে তা প্রশমিত করার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এমনেই ফ্রান্সের অতীত ইতিহাস সুখকর নয়। লাখ লাখ নিরপরাধ মুসলমান হত্যার ইতিহাস রয়েছে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। এখন আবার তাঁর অবিবেচনাপ্রসূত উস্কানিমূলক বক্তব্যে মুসলমানরা উত্তেজিত হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেয় বলা কঠিন। বিগত দশক থেকে ঘুমন্ত মুসলমান এবং বহু সংখ্যক অমুসলিমরাও ইসলামের চিরায়ত সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধ হয়ে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। নতুন নতুন মুসলিমের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে ইসলামের সাড়াজাগানো সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ববোধের দাওয়াত। ইসলামের শত্রুদের মর্মজ্বালার এটাই কি অন্যতম কারণ ? এজন্যই কী ইসলাম, মুসলমান এবং মহানবী স. এঁর প্রতি কুৎসা রটনা ? অথচ ইসলাম ধর্মই মানবতার ধর্ম। মুসলমানদের এমুহূর্তে ধৈর্য, বিচক্ষণতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। সাময়িক উত্তেজনার বশে কোনো প্রকার আইন-শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতি বিরুদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। ইসলামের বিজয়ের সময় অত্যাসন্ন। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মতলববাজদের কোনো রকম অপসুযোগ দেয়া যাবে না। পরিবেশ পরিস্থিতি যতো প্রতিকূল হোক না কেনো চরম ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ হচ্ছে, "হে ঈমানদার লোকেরা তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীল লোকদের সাথে আছেন।" সূরা আল বাক্কারা। আয়াত-১৫৩। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেন ভদ্রতা বজায় রেখে দাওয়াতের কাজ করতে। তিনি বলেন, "ভালো আর মন্দ কখনো সমান হতে পারে না। তুমি ভালো কাজ দ্বারা মন্দ কাজ প্রতিহত করো। তাহলেই তোমার এবং যার সাথে তোমার শত্রুতা ছিলো তার মাঝে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়ে যাবে যেনো সে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু। আর এটি শুধু তাদের ভাগ্যে জোটে যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং এরাই সৌভাগ্যের অধিকারী। যদি কখনো শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তাহলে তুমি আল্লাহ তায়ালার কাছে আশ্রয় চাও। অবশ্যই তিনি সবকিছুই দেখছেন এবং শুনছেন।" সূরা হা-মীম আস সাজদা। আয়াত-৩৪-৩৬। যে কোনো রকমের ধৈর্যহীনতায়, অস্থিরতায় ও উগ্রতায় এবং আইন শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যকলাপকে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সুতরাং ইমানুয়েল মাখোঁর যে কোনো রকম উস্কানিতে সাড়া দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে।

অন্যান্য খবর