× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দরকার ভ্যাকসিন, গোয়েন্দা বিমান নয়

বিশ্বজমিন

টম অ্যালার্ড | ৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১:০৯

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে হিমশিমের মধ্যে আছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ইন্দোনেশিয়া। কয়েক মাস ধরে দেশটির মন্ত্রী ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ভাইরাসটির টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অক্টোবর মাসে তাদের চেষ্টা সফল হয়েছে। তিনটি চীনা কোম্পানি ২৭ কোটি মানুষের ইন্দোনেশিয়াকে ২৫ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, বৃটিশ একটি কোম্পানি আরো ১০ কোটি ডোজ টিকা দিতে রাজি হয়েছে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি পায়নি ইন্দোনেশিয়া। বরং, কয়েক মাস আগে ইন্দোনেশিয়া কর্মকর্তাদের কাছে মার্কিন গুপ্তচর বিমানের অবতরণ ও জ্বালানি ভরার অনুমোদন চেয়েছিল তারা। ইন্দোনেশিয়ার চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এমনটা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ মেনে নিলে কয়েক দশক ধরে ইন্দোনেশিয়া কৌশলগতভাবে যে নিরপেক্ষতা ধরে রেখেছিল, তার অবসান ঘটতো।
এই অবস্থার মধ্যেই বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জাকার্তা সফরে গেছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন প্রভাব বৃদ্ধিতে ওয়াশিংটন জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ চেষ্টার অনেকাংশই চীনকে টক্কর দেওয়ার জন্য করা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব চেষ্টা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগদাতা ও বাণিজ্যিক মিত্র হয়ে উঠেছে চীন। টিকা ও বাণিজ্য দিয়ে মন জয় করে নিয়েছে দেশটি। এ অঞ্চলে আমেরিকার কৌশলগত স্বার্থ অঞ্চলটির আরও অনেক দেশের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন, দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সামরিকায়ন ও স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র। এ জলসীমার যে অংশ চীন নিজেদের দাবি করে, তার ৯০ শতাংশ অংশে দাবি রয়েছে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইয়েরও। এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশিয়ার কোনো দাবি নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা দাবির বিরোধিতা করে দেশটি। অর্থাৎ এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অভিন্নতা রয়েছে। ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক এক থিংক-ট্যাংকের করা এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়দের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের জনপ্রিয়তা কম।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ জনপ্রিয়তায় ফাটল ধরিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার এক ডজনের বেশি সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের সাক্ষাৎকারে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। বিপরীতে, চীন তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বজায় রাখতে পেরেছে। বেশ আগেভাগে করোনা সংক্রমণ রোধে জারি করা বিধিনিষেধ থেকে বের হয়ে এসেছে।
ইন্দোনেশিয়ার একটি সরকারি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র অতিমাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় ও জোর খাটায়। চীন স্মার্ট। তারা ‘সফট পাওয়ার’, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে।

পম্পেও তার জাকার্তা সফরের আগে বলেছিলেন, কিছু বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে। আরো কিছু বিষয়ে সম্পোর্কন্নয়নের সুযোগ আছে।
সহকারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যাভিড স্টিলওয়েল বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে মজবুত অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়তে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও জানান, ১ কোটি ২৫ লাখ ডলারের একটি অর্থনৈতিক প্যাকেজের আওতায়, করোনাকালে ইন্দোনেশিয়ায় ১ হাজার ভেন্টিলেটর অনুদান হিসেবে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গুপ্তচর বিমান
সাবেক ডাচ কলোনি ও ১৭০০ দ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শত শত নৃ-গোষ্ঠীর দল নিয়ে গঠিত দেশ ইন্দোনেশিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ‘নন-এলাইনড মুভমেন্ট’ বা জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনে যোগ দেয় দেশটি। জোটের সদস্যরা বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়বে না মর্মে সম্মত হয়। ২২ বছর আগে স্বৈরাচারী শাসন থেকে উত্তরণের পর থেকে বর্তমান অবদি ইন্দোনেশিয়া তাদের মাটিতে কোনো বিদেশি শক্তিকে অভিযান চালানোর অনুমোদন দেয়নি। যদিও তারা অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামরিক অনুশীলন করে থাকে।

ইন্দোনেশিয় কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গত গত জুলাইয়ের শেষের দিকে ও আগস্টের শুরুর দিকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশটিতে তাদের পি-৮ সিডন গোয়েন্দা বিমানগুলো অবতরণ ও জ্বালানি ভরার অনুমোদন চেয়ে যোগাযোগ করেছিল। এই গোয়েন্দা বিমানগুলো দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক কার্যকলাপ নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রস্তাব পর্যালোচনার পর প্রত্যাখ্যান করে দেন। এ বিষয়ে পম্পেও ও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ইন্দোনেশিয়া সরকারের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। কিন্তু প্রত্যেকেই মন্তব্য  করতে অস্বীকৃতি জানান।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইউয়ান গ্রাহাম বলেন,  সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়া তাদের ভূখণ্ডে পি-৮ বিমানগুলোকে আসতে-যেতে দেয়। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার কাছে একই অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যতটা না অভিযান সংক্রান্ত ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল রাজনৈতিক।
ইন্দোনেশিয়ায় পি-৮ এর আসা-যাওয়ার অনুমোদন নিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা শুরু হয় মধ্য জুলাইয়ে। অর্থাৎ, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রভাবের সমালোচনা করে পম্পেওসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যদানের তিন দিন পর। তারা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দাবিকে অবৈধ বলেন। এছাড়া, ওই অঞ্চলটিতে চীনের সামরিকায়নে সহায়তাকারী চীনা সংস্থা ও একাধিক ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, চীনের দাবি, অঞ্চলটির ওপর তাদের ঐতিহাসিক অধিকার রয়েছে।

চীনের উপকূল রক্ষীবাহিনী ও মাছ ধরার নৌযান বারবার ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এটা ইন্দোনেশিয়ার জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে জাতীয়তাবাদের ধারা বেশ জোরালো।
ইন্দোনেশিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর দক্ষিণ চীন সাগরে আগ্রাসন নিয়ে চীনকে নিজেদের উদ্বেগ জানিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। জুলাইয়ে নিজেদের দাবি করা জলসীমায় সামরিক মহড়াও চালিয়েছিল।
তবে, চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াকে অপ্রয়োজনীয় মাত্রার হিসেবে দেখছে ইন্দোনেশিয় কর্মকর্তারা। তারা বলেন, উদ্বেগের পাশাপাশি এখন যোগ হয়েছে সামরিক যুদ্ধের আশঙ্কাও। গত চার জুলাই চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগরে পরস্পরকে দৃষ্টিসীমার মধ্যে রেখে মহড়া চালিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট ন্যাশনস (আসিয়ান)-এর অন্যান্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ৮ই আগস্ট তারা এক যৌথ বিবৃতিতে, ‘এ অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি’র বিরুদ্ধে নিন্দা জানান।

টিকা কূটনীতি
প্রেসিডেন্ট উইদোদো ইন্দোনেশিয়াকে ২০৪৫ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির দেশ হওয়ার পথে দাঁড় করাতে চান। করোনা মহামারিতে তার এই ভিশন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সরকারি হিসাবে দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। মৃত্যু ১৪ হাজার। অন্যান্য বড় দেশগুলোর তুলনায় এ সংখ্যা অনেকটাই কম। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কম হওয়ার জন্য দায়ী দেশটির সীমিত করোনা পরীক্ষা ও কনটাক্ট ট্রেসিংয়ে অপ্রতুলতা। এই মহামারিতে দেশটির আনুমানিক ১ কোটি বাসিন্দা ফের দরিদ্রসীমায় পতিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসেও দেশটির অর্থনৈতিক পথ সুগম নয়।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দক্ষিণপূর্ব এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক গ্রেগ পোলিং জানান, বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া সরকারের হাতে মহামারি নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় হচ্ছে টিকা। তিনি বলেন, টিকা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার জন্য মহামারি নিয়ন্ত্রণের সিলভার বুলেট। তাদের যত দ্রুত সম্ভব টিকা পেতে হবে।

উইদোদোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক ও বিনিয়োগ বিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী লুহুত পান্দজাইতন গত অক্টোবরে চীন সফরে গিয়ে, টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করে আসেন। ইউনান প্রদেশে ওই সফরকালে চীনা কর্মকর্তারা ইন্দোনেশিয়া সরকারকে তাদের একটি টিকা দেশে তৈরি ও অন্যান্য দেশে রপ্তানির প্রতিশ্রুতি দেয়।
পান্দজাইতনের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও ইউনান সফরের সঙ্গী বলেন, চীনাদের সঙ্গে কাজ করা সহজ। আর তারা তাদের প্রায় সব প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করে।

অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে প্রকট করোনা সংক্রমণের শিকার যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যেই সব টিকা নিজেদের জন্য মজুদ করে নিচ্ছে দেশটির সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা, যেখানে চীন সংস্থাটির টিকা জোগাড় ও বন্টণের একটি কর্মসূচির পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
সিঙ্গাপুরের ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক অ্যারন কনেলির মতে, পুরো মাঠ চীনের জন্য ছেড়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউনান সফরে টিকার সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি, একাধিক চীনা কোম্পানি থেকে প্রেসিডেন্ট উইদোদোর এক প্রকল্পের জন্য ২ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগও নিশ্চিত করেছেন পান্দজাইতন। তার এক উপদেষ্টা জানান, প্রেসিডেন্ট লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরির কারখানা ও নিকেল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন করতে চান। আগামী বছর ইন্দোনেশিয়া সরকার তাদের আসিয়ান মিত্র ও চীনের সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি- রেজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ- স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়াকে নাখোশ করে দেশটির বাণিজ্যিক স্ট্যাটাস পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

কেবল চীন নয়
ইন্দোনেশিয় কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় কয়েকটি মারাত্মক কূটনৈতিক ভুল করেছে। এসব ভুলের শুরু হয় ২০১৮ সাল থেকে। ট্রাম্প ওই বছরের যুক্তরাষ্ট্র-আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেননি। এর পরের বছরও তিনি নিজের বদলে সম্মেলনে পাঠান তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে। প্রেসিডেন্টের তুলনায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অত্যন্ত ছোট পদ বহনকারী। ট্রাম্পের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে এ অঞ্চলের ১০ নেতা সম্মেলন বর্জন করেন। এর আগে ২০১৭ সাল থেকেই আসিয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত নেই।
কনেলি বলেন, চীনের প্রতি পম্পেওর সমালোচনামূলক বক্তব্যও দক্ষিণপূর্ব এশীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে অনীহা সৃষ্টি করেছে। প্রসঙ্গত, পম্পেও চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

কনেলি বলেন, পম্পেও তার বক্তব্যে বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র বনাম চীন হিসেবে তুলে ধরেন। চীন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় কী করছে তা তুলে ধরেন না।
 এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ইন্দোনেশিয় রাষ্ট্রদূত দিনো পাত্তি দিজালাল বলেন, পম্পেওর আগ্রাসী চীন বনাম যুক্তরাষ্ট্র সমালোচনা একদিক দিয়ে দেশিয় রাজনৈতিক শ্রোতাদের টার্গেট করে বলা। ট্রাম্প প্রশাসন করোনা মোকাবিলা নিয়ে সমালোচনা এড়াতে চীনের দিকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।

করোনা উৎপত্তি চীনে হয়েছে বলে দেশটিকে ভিলেন বানাতে ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। দিজালালের মতে, চীনের টিকা কূটনীতি ও দেশটির দ্রুত অর্থনৈতিক সচলতা কৌশলগতভাবে তাদের পক্ষে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, চীন করোনা সংকটককে অঞ্চলটিতে সম্পোর্কন্নয়নের জন্য বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে। তারা সেই পুরনো প্রতিপাদ্য ঘিরেই কাজ করছে: সংকটের সময় আপনি যুক্তরাষ্ট্রের উপর নয়, চীনের উপরই নির্ভরশীল হতে পারেন।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারসুদি বলেন, করোনা মোকাবিলা ও অর্থনীতির উন্নয়নের প্রসঙ্গে ইন্দোনেশিয়া যথাসম্ভব দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়তে ইচ্ছুক। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। এটা ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীন ও সক্রিয় পররাষ্ট্র নীতিমালার মূল ভিত্তি।
(রয়টার্স থেকে অনূদিত)

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১০:৩০

ট্রাম্প (তদ্রুপ মুদি ) বিভাজন নীতি অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রকে এত দূর্বল করেছে তারা চীনকেও ভয় পায় (তদ্রুপ মুদিও ভয় পায় ) । নিজ দেশের উন্নয়নে মনযোগী হলে শক্তিমান হত।

অন্যান্য খবর