× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার

‘সফটওয়্যারে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সক্ষমতা এখনো অর্জিত হয়নি’

শিক্ষাঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার
(২ মাস আগে) নভেম্বর ৩, ২০২০, মঙ্গলবার, ৫:৩২ পূর্বাহ্ন

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রক্টরড রিমোট এক্সামিনেশন সিস্টেম’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে বর্তমান অবস্থায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হবে না বলে বিশেষজ্ঞগণ মত দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অনুষ্ঠিত আজ মঙ্গলবার পর্যালোচনা সভায় তারা বলেন, সফটওয়্যার দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার মতো সক্ষমতা দেশে এখনো তৈরি হয়নি। এই সফটওয়্যার দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। নেটওয়ার্ক এবং টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন সঠিক নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের কোন দেশে একটি মাত্র সফটওয়্যার দিয়ে বড় পরিসরে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় না। সফটওয়্যার দিয়ে যদি ভর্তি পরীক্ষা নিতে হয় সেক্ষেত্রে ইউজিসিকে একটি নীতিমালা প্রণয়ণ করে দিতে কমিটি সুপারিশ করে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ- এর সভাপতিত্বে ইউজিসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় এসব মতামত তারা তুলে ধরেন।  

সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নূর তার উদ্ভাবিত ‘প্রক্টরড রিমোট এক্সামিনেশন সিস্টেম’ সফট্ওয়্যারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এই সফটওয়্যারটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এটি বর্তমান অবস্থায় অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য উপযোগী নয়।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ এবং কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এছাড়া, সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান, কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোস্তফা আকবর, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর মোস্তফা আজাদ কামাল, এডুকেন ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক সোহেল নাদিম রহমান শুভ, এটুআই এর টেকনোলজি এক্সপার্ট মো. ফজলে মুনীম, ওরেঞ্জ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শামীম হোসেন, ডিএসআই এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মুশরাফুল হক অনিক এবং হেড অব প্রোডাক্ট এন্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মইনুল ইসলাম অংশগ্রহণ করেন।
 
বিশেষজ্ঞগণ বলেন, শিক্ষার্থীদের বর্তমান অনলাইন কোর্সের পরীক্ষার মূল্যায়নে যে পদ্ধতিতে অনুসরণ করা হয় তার চেয়ে ‘প্রক্টরড রিমোট এক্সামিনেশন সিস্টেম’ সফটওয়্যার অনেক বেশি ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মতে, এই সফটওয়্যার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটিসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট্ট পরিসরে পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়নে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞ কমিটি ‘প্রক্টরড রিমোট এক্সামিনেশন সিস্টেম’ সফটওয়্যারের অধিকতর উন্নয়ন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন।

উল্লেখ্য, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষায় যে সফটওয়্যারটি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে, এ বিষয়ে ইউজিসি গত সপ্তাহে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এছাড়া, ইউজিসি চলতি শিক্ষাবর্ষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষারও উদ্যোগ গ্রহণ করে। সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে ১লা নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের প্রতি আহ্বান জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
৩ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ৭:২১

বিশেষজ্ঞগণ সঠিকভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছেন, সফটওয়্যার ভিত্তিক ভর্তিপরীক্ষার সক্ষমতা আমাদের এখনো পর্যন্ত অর্জন হয়নি। সেটা একটা বিশাল ব্যপার। পুরো দেশটাকে একটি নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে এসে কয়েক ঘন্টা ধরে রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। এই পদ্ধতির সুবিধার চেয়ে অসুবিধা অনেক বেশি। এর অসুবিধার দিকগুলো নিয়ে অনেকবার আলোচনা হয়েছে। এখন পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সকলে নিশ্চিন্ত হয়েছেন। এখন গুচ্ছ পদ্ধতির বিষয়টি আলোচনায় আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো গুচ্ছপদ্ধতির মধ্যেও বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষকরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটকে গুচ্ছ পদ্ধতির বাইরে রাখতে হবে। এদুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য, সুনাম, সুখ্যাতি বৈশিষ্ট্য অন্য সকল উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে আলাদা। বলতে দ্বিধা নেই এদুটোর মর্যাদাও আলাদা। গুচ্ছপদ্ধতিতে এমসিকিউ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। তাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া এবং নকল করার সুযোগ থাকে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা এতে বঞ্চিত হবে। দেশের প্রথম কাতারের মেধাবীরা ঢাবি ও বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যপক প্রস্তুতিসহ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। পরীক্ষা পদ্ধতির ভুল সিদ্ধান্ত বা অন্য কোনো ত্রুটির কারণে মেধাবীরা যদি এ দুটো থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে তারা প্রকৃতপক্ষে সুবিচার থেকেই বঞ্চিত হবে। ঢাবি তো ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেনই। সেটা যথেষ্ট যুক্তি সঙ্গত এবং ন্যায্য মনে হচ্ছে। কিন্তু বুয়েটের বিষয়টি এখনো কেউ জানেনা। বুয়েটের বিগত বছরগুলোর ঐতিহ্য ধারণ করেই এবারেও ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হলে মেধাবীরা নিশ্চয়তা পেতে পারে। তবে করোনা উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ৬০০ নম্বরের ৩ ঘন্টার পরীক্ষার নম্বর ও সময়ঘন্টা কমানো যেতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় তাও দরকার হবেনা। যদি একবারে পরীক্ষা নেয়ার জন্য আসন সংখ্যার সংকুলান না হয়, তাহলে দুইবারে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। তবুও আগেকার নিয়ম থেকে ঘটা করে সরে আসা সঠিক হবেনা। কারণ হঠাৎ করে নিয়ম পাল্টালে পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হতে পারে। সুতরাং বুয়েট ও ঢাবির পরীক্ষা সতন্ত্র ভাবে এবং পূর্বের পদ্ধতি বহাল রাখাই বাঞ্ছনীয়।

অন্যান্য খবর