× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২১ জানুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার

প্রশাসনের মাইকিংয়ের পরদিনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি বিল দখল

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
২৬ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

‘বিল সরকারের দখলে, বিলের ভেতরে প্রবেশ করলে কঠোর ব্যবস্থা’- মাইকিং করে প্রশাসনের এমন হুঁশিয়ারির পরদিনই দখল হয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বোয়ালিয়া বিল। অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে সরকারি ওই বিল থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ আহরণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের কাছে। ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে গত ১৩ই নভেম্বর বিল দখলের এই অভিযোগ দেয় বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ভাদুঘর এলাকার বোয়ালিয়া বিলটি বাংলা ১৪২৫ সাল থেকে ১৪৩০ পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য ইজারা নিতে সর্বোচ্চ দর দেয় বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ার পরও বিলটি বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে না দিয়ে ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ইজারা দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালের ৬ই আগস্ট ছায়াবিথীকে ইজারা দেয়া হয় বোয়ালিয়া বিলটি। পরবর্তীতে বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি কর্তৃপক্ষ বিলটি ইজারা পেতে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (৯৩৩২/২০১৮) দায়ের করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১০ই জুলাই উচ্চ আদালত এক আদেশে ছায়াবিথীর ভোগ-দখলে থাকায় বাংলা ১৪২৫ এবং ১৪২৬ সালের জন্য ছায়াবিথীর নামে ইজারা বহাল রাখেন।
আর ১৪২৭ সালের পহেলা বৈশাখ থেকে ১৪৩০ সালের চৈত্র মাস পর্যন্ত বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামের ইজারা দেয়ার জন্য আদেশ দেন। উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে ছায়াবিথী সমিতি। ফলে বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ইজারা মূল্য পরিশোধ করতে পারেনি। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে বিল ইজারা দেয়ার আদেশ স্থগিত করেন। এরপর এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আর বাড়ায়নি আপিল বিভাগ। এরপর বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি আদালতের আদেশ মতে বিল ইজারা নেয়ার জন্য র্নিধারিত মূল্য পরিশোধ করতে গত ৩০শে জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ইজারা মূল্যে নেননি। এদিকে গত ২রা জুলাই বোয়ালিয়া বিলটি সরকারের দখল নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় জেলা প্রশাসন। এরপর গত ১০ই নভেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ভাদুঘর বাজারে গিয়ে বোয়ালিয়া বিলটি সরকারের দখল-নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মাইকিং করে স্থানীয়দের অবগত করেন। বিলে কেউ প্রবেশ করে মাছ আহরণ করতে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এ সময় হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। কিন্তু ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল হক তার সহযোগী রফিকুল ইসলাম নেহার, বাছির মিয়া, জসিম উদ্দিন, মহসিন, গাবদ্দিন মিয়া, ছোটন মিয়া, শুক্কর আলী, সামছু মিয়া, ইকবাল মিয়া, হারিজ মিয়া, মিজান মিয়া, মো. কবির মিয়া, মো. মাহবুব মিয়া ও সাকিল মিয়া প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে গত ১৩ই নভেম্বর বোয়ালিয়া বিলে বাঁধ দেয় এবং প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ আহরণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় বলে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল হক বলেন, তার স্ট্যাটাসকো রয়েছে। জোর করে তিনি বিলে বাঁধ দেননি। লাইন মতোই তিনি বাঁধ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, উচ্চ আদালতের স্ট্যাটাসকো বিদ্যমান থাকায় আমরা কিছু করতে পারছি না। আগামী ২৬শে নভেম্বর আদালতে পরবর্তী শুনানি হবে। শুনানির পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর