× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১১ মে ২০২১, মঙ্গলবার, ২৮ রমজান ১৪৪২ হিঃ
পর্ব- ৪

চাই অধিকতর গণতন্ত্র

বই থেকে নেয়া

জোসেফ আর বাইডেন জুনিয়র
২৬ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

পরমাণু বিস্তার রোধকরণ এবং পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বলতে পারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠস্বর হতে পারবে না, যদি সে তার চলমান নেগোসিয়েশনকে পরিত্যক্ত করে। ইরান থেকে উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া থেকে সৌদি আরব, ট্রাম্প এমন সব কাণ্ড করেছেন যা পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ আরো প্রশস্ত করেছে। একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা আগের থেকে বেড়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে একটি নতুন যুগের জন্য পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবো।  ওবামা প্রশাসন ঐতিহাসিক ইরান পারমাণবিক চুক্তির মধ্য দিয়ে এমন একটা সমঝোতায় পৌঁছেছিল, যা ইরানকে একটি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা থেকে নিবৃত্ত করেছিল। ইরানকে ব্লক করে দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প তাড়াহুড়া করে সেই সমঝোতাকে বাইরে ঠেলে দেন। এবং ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।
এমনকি তাকে উস্কানি দেন, ফলে ওই অঞ্চলে আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেন। ইরানীয় শাসন সম্পর্কে আমার মধ্যে কোনো মায়াজাল নেই। কারণ ইরানি শাসন ও তার শাসকদের অস্থিতিশীল আচরণ গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে রেখেছে। তারা তাদের দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবাদকারীদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্যায়ভাবে মার্কিনিদের বন্দি করে রেখেছে। কিন্তু আমাদের স্বার্থের প্রতি ইরান যে হুমকি তৈরি করেছে, তা মোকাবিলা করার জন্য একটি চৌকস পথ রয়েছে। আরেকটি রয়েছে আত্মঘাতী পন্থা। কিন্তু ট্রাম্প শেষেরটাই বেছে নেন। কাশেম সুলাইমানি ইরানের কুদস ফোর্সের অধিনায়ক। তার সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এক ভয়ঙ্কর কুশীলবকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তা একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে একটা সহিংস চক্রকে দীর্ঘস্থায়ী হতেও সাহায্য করেছে। এবং এটা তেহরানকে পারমাণবিক চুক্তির আওতা থেকে সরে পারমাণবিক সীমা অতিক্রমে উৎসাহী করেছে। কিন্তু তেহরানকে অবশ্যই কঠোরভাবে সমঝোতা চুক্তিতে ফিরে যেতে হবে। যদি তারা তাতে রাজি হয়, আমি আগের চুক্তিতে পুনরায় যোগ দেবো। এবং কূটনীতির ওপরে নতুন করে জোর দিবো। যাতে আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে বিষয়টিকে শক্তিশালী এবং সম্প্রসারিত করতে পারি। কিন্তু তার লক্ষ্য হবে আরো অধিকতর কার্যকরতার সঙ্গে ইরানকে অন্যান্য অস্থিতিশীলতা বিষয়ক কার্যক্রম থেকে নিবৃত্ত করতে বাধ্য করা।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে বলবো, আমি আমাদের নেগোশিয়েটর দলকে আরো বেশি সক্ষম করে গড়ে তুলবো। এবং ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি টেকসই সমন্বিত ক্যাম্পেইন শুরু করবো। আমাদের মিত্র এবং অন্যদের সঙ্গে নিয়ে এমনকি তাদের সঙ্গে নেবো, যাদের লক্ষ্য হবে একটি অপারমাণবিক উত্তর কোরিয়ার অবস্থানকে নিশ্চিত করা। আমি একই সঙ্গে একটি নতুন স্টার্ট ট্রিটি সম্প্রসারণে সচেষ্ট হবো। কারণ একটি নয়া চুক্তি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যকার স্ট্র্যাটেজিক স্থিতিশীলতার রক্ষাকবচ। আর সেটাই হবে নয়া অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আসল ভিত্তি। একইসঙ্গে আমি অন্যান্য আনুষঙ্গিক পদক্ষেপ নিবো, যাতে করে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০১৭ সালে আমি যেমনটা বলেছি, আমি বিশ্বাস করি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যত পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, তার একমাত্র উদ্দেশ্য হবে, কারো কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে একটি পারমাণবিক হামলার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া। প্রেসিডেন্ট হিসেবে সেই বিশ্বাসকে কার্যে পরিণত করার ক্ষেত্রে আমি পদক্ষেপ নিবো এবং সেটা করতে গিয়ে আমি অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের পরামর্শ নেবো।

আর যখন ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে কথা উঠবে, যেমন ফাইভ-জি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, তখন আমরা দেখি অন্যান্য রাষ্ট্র তাদের জাতীয় সম্পদসমূহ এই খাতে ব্যবহার করছে। যাতে তারা এসব খাতে ক্রেতাদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে এবং এগুলো কীভাবে ব্যবহৃত হবে তা তারা নির্ধারণ করতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে এর থেকেও বেশি কিছু নিশ্চিত করা। প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে এসব প্রযুক্তিসমূহ গণতন্ত্রের বৃহত্তর বিকাশে ও সমৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করতে হবে।  প্রযুক্তি এবং তার সুবিধাসমূহকে কোনোভাবেই ব্যক্তি বা বাকস্বাধীনতাকে দেশে এবং বিদেশে নিয়ন্ত্রণ করার কাজে লাগানো যাবে না। উদাহরণ হিসেবে, বাইডেন প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে যুক্ত হবে যাতে তারা বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন ফাইভ-জি নেটওয়ার্ককে এমনভাবে নিরাপদ করে গড়ে তোলা নিশ্চিত করে, যাতে এমন নেটওয়ার্কের আওতায় থেকে কোন সম্প্রদায়, তা গ্রামীণ কিংবা স্বল্প আয়ের মানুষ হোক, তারা যাতে বাদ না পড়ে। যেহেতু নতুন প্রযুক্তিসমূহ আমাদের অর্থনীতি এবং সমাজকে নতুন করে গঠন করবে, তখন অবশ্যই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, এই অগ্রগতির চালিকাশক্তিসমূহ আইন এবং এথিক্স দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। যেমনটা আমরা এর আগের ইতিহাসে প্রযুক্তিগত টার্নিং পয়েন্টে ব্যবহার করেছি। এবং উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একটা প্রতিযোগিতা এড়িয়ে গিয়েছি। অথচ আজ ডিজিটাল যুগের নিয়ম কানুন লিখে চলেছে চীন এবং রাশিয়া। সুতরাং এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সময়, যখন একটি প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎকে এমনভাবে বিনির্মাণ করা, যা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাকে উন্নত করতে সক্ষম করে তুলবে এবং সমৃদ্ধিকে ভাগাভাগি করে নেবে। এবং অবশ্যই তা ব্যাপক অর্থে।

এসবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা এবং এর কোনোটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে নেতৃত্ব দেয়া ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়, এটা সম্ভবপর হতে পারে না। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে এবং বহিস্থভাবে নানা ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়ে চলছি।  অনেকেই আশা করছেন, তারা আমাদের সমাজের বিভাজন, গণতন্ত্রকে খাটো করা থেকে ফায়দা তুলবেন। তারা দেখছেন আমরা আমাদের মিত্র জোটগুলো ভেঙে দিচ্ছি এবং এইসব করে আমরা এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ছি, যেখানে গায়ের জোরটাই অধিকার নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে। এইসব হুমকির উত্তর হলো, অধিকতর উন্মুক্ততা, কোনোভাবেই কম করে নয়। চাই অধিকতর বন্ধুত্ব। অধিকতর বেশি সহযোগিতা ও জোটবদ্ধতা। আর অধিকতর গণতন্ত্র।

 নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত: পুতিন নিজেকেই বলতে চাইছেন এবং অন্যদের বিশ্বাস করাতে চাইছেন যে, উদারনৈতিক ধারণা ‘সেকেলে’ হয়ে পড়েছে। কিন্তু তিনি এটা করছেন, কারণ তিনি ভীত হয়ে পড়েছেন উদারনৈতিকতার শক্তির কাছে। বিশ্বে এমন কোনো সামরিক শক্তি নেই, যারা ব্যক্তি স্বাধীনতাকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বিস্তার করতে দিতে পারে। যেমনটা  অবাধে সম্ভব শুধু ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি, সীমান্ত থেকে সীমান্তে, এক ভাষা থেকে অন্য ভিনদেশি ভাষায়, সংস্কৃতি থেকে সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এবং কমিউনিটি থেকে সাধারণ জনগণের মধ্যে, কর্মীদের মধ্যে, সংগঠকদের মধ্যে, নিজেদের মধ্যে ছড়াতে। এমনটা কোনো সামরিক শক্তি পারে না।

আমাদেরকে অবশ্যই পুনর্বার সেই জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী হতে হবে। একটি মুক্ত বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আজকের বিশ্ব যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তাকে মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। অন্য কোনো দেশের সেই সামর্থ্য নেই। কারণ বিশ্বের অন্য কোনো রাষ্ট্র জনগণের সেই শক্তির ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমাদের অবশ্যই স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রচণ্ড আশাবাদী হতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ বাধাহীন আশাবাদ এবং দৃঢ় সংকল্প দিয়ে তৈরি করতে হবে।
ফরেন পলিসি (মার্চ-এপ্রিল ২০২০ সংখ্যা) থেকে নেয়া।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
১২ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ৭:৪৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেনের ডাকে গণতান্ত্রিক সম্মেলন হবে বছরের শেষের দিকে। এ খবরে বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। গনতন্ত্রহীনতা কোনো দেশের জন্যই আখেরে সুখকর হয়না। মি. বাইডেন একজন রোমান ক্যাথলিক, খৃস্ট ধর্মে বিশ্বাসী। তার মানে তিনি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান রাখেন। অবশ্য নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মর্মে প্রচারণা চালিয়েছেন যে, বাইডেন সৃষ্টিকর্তা ও বাইবেল বিরোধী। ওহিও’র ক্লেভল্যান্ডে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, বাইডেন বৈপ্লবিক বাম নীতির অনুসারী। অথচ বারাক ওবামার সময় ভাইস-প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে বাইডেন একাধিকবার নিজের ধর্মীয় অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন তিনি ক্যাথলিক খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী। যদিও মার্ক্সীয় তত্ত্বে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বলে কিছু নেই। কিন্তু, বামপন্থী হলেও আজকাল অনেকেই সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে থাকেন। রাসুল মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যুগে যুগে যতো নবীরাসূল আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে হেদায়েতের পথে আহ্বানের জন্য পাঠিয়েছেন সেই সকল জাতির লোকেরাও আল্লাহ তায়ালা প্রতি ঈমানদার ছিলো। কিন্তু, তারা আল্লাহর নাজিল করা আইন ও বিধানের অনুসরণ করতোনা। তাই আল্লাহ তায়ালা রাসুল নিযুক্ত করে সমকালীন সমাজের লোকদের তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো সত্তাকে শরিক না করে একমাত্র তাঁরই আইন ও বিধানের অনুসরণ করতে বলেছেন। মানুষেরা মনে করতো নবী রাসূলগণ আল্লাহর দূত ছিলেননা। কুরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালা নবী রাসূলদের সম্পর্কে অবিশ্বাসীদের মন্তব্য বর্ণনা করেছেন এভাবেঃ "নাজানি এ ব্যক্তি আল্লাহর নামে মিথ্যা তৈরি করে, নাকি তাকে পাগলামিতে পেয়ে বসেছে। না, বরং যারা আখেরাত মানেনা তারা শাস্তি লাভ করবে এবং তারাই রয়েছে ঘোরতর ভ্রষ্টতার মধ্যে।" সূরা সাবাঃ৮। একটি জনপদে আল্লাহ তায়ালা কয়েকজন রাসুল পাঠিয়েছেন। রাসুলগণ সেই জনপদের মানুষদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন। তাতে লোকদের প্রতিক্রিয়া ছিলো এরকমঃ "জনপদবাসিরা বললো তোমরা আমাদের মতো কয়েকজন মানুষ ছাড়া আর কেউ নও এবং দয়াময় আল্লাহ মোটেই কোনো জিনিস নাজিল করেননি। তোমরা স্রেফ মিথ্যা বলছো।" সূরা ইয়াসিনঃ১৫। সূরা সাবা'র আয়াতে বলা হয়েছে লোকেরা রাসুলদেরকে আল্লাহর নামে মিথ্যাবাদি ও পাগল বলেছে। আর সূরা ইয়াসিনের আয়াতে বলা হয়েছে লোকেরা রাসুলদের তাদের মতোই মানুষ মনে করে তাঁদেরকে মিথ্যাবাদি বলেছে এবং দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অহি নাজিল হয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করেনি। দুটো আয়াতেই সমাজের লোকেরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করেছে এবং শেষের আয়াতে আল্লাহকে তারা 'দয়াময়' বলেছে। এতেই প্রমাণিত হয়, তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করতো। তবে নবীনদের সাথে তাদের বিরোধ ছিলো- তারা আল্লাহর নাজিল করা ওহি বিশ্বাস করেনি। এখানো দুনিয়ার বুকে এমন অসংখ্য মানুষ দেখা যায় যারা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাসী কিন্তু, আল্লাহর নাজিল করা ওহি- কুরআনের আয়াতের শিক্ষা তথা আইন কানুন ও বিধিবিধান মানতে চায়না বা মানতে অস্বীকার করে। এই জাতীয় লোকজনকে আল্লাহ তায়ালা কাফের বা অস্বীকারকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন, "আমি মুসার নিকট তাওরাত নাজিল করেছি পথনির্দেশ ও আলোকবর্তিকা সহকারে। আমার নবীরা- যারা আমার বিধানের অনুসারী ছিলো এবং ধর্মীয় পণ্ডিতরা ইহুদি জাতিকে সেই মোতাবেক আইন কানুন প্রদান করতো। কেননা আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণ করার দায়িত্ব এদেরকে দেয়া হয়েছিলো। তারা এর সাক্ষী ছিলো। সুতরাং, তোমরা মানুষদের ভয় না করে একমাত্র আমাকেই ভয় করো। আর আমার আয়াত সমূহ সামান্য মূল্যে বিক্রি করে দিয়োনা। যারা আল্লাহর নাজিল করা আইন অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করেনা তারাই কাফের।" সূরা আল মায়েদাঃ৪৪। সুতরাং, দেখা যাচ্ছে, যারা আল্লাহতে বিশ্বাসী হয়েও তাঁর আয়াত মানতে চায়না তারা আসলেই অবিশ্বাসী। মি. বাইডেন একজন বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে তাঁর কাছে মুসলিম বিশ্বের অনেক কিছু আশা করার আছে। সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীকে মানবিকতার দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলিম জনগণ নির্যাতিত হচ্ছে এবং চরম আকারে জুলুমের শিকার। গণতন্ত্র নেই। বাক স্বাধীনতা নেই। ধর্মীয় অধিকার পালন করতে পারছেনা। অনেক দেশে গণতন্ত্র লাটে উঠেছে। কর্তৃত্ববাদ জেঁকে বসেছে। কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে ফেরাতে হবে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে হানাহানি মুক্ত করতে হবে এবং স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। শাসন ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতার নীতি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুস্যুতা বন্ধ করতে হবে। জনগণের ওপর যে কোনো রকম জুলুম নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মি. বাইডেনের গণতান্ত্রিক সম্মেলনের উদ্যোগ ও আয়োজন সফল হোক। তবে বিশ্বাসীরা তখনই সফল হবে যখন তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করার সাথে সাথে তাঁর নাজিল করা ওহির প্রতিও বিশ্বাস করবে এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে সেটা প্রয়োগ করবে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, "যারা আমার আয়াতকে (নানা কৌশলে) ব্যর্থ করে দিতে চায় তারা অনবরত আজাব ভোগ করতে থাকবে।" সূরা সাবাঃ৩৮। সুতরাং, আল্লাহকে বিশ্বাস করার সাথে সাথে তাঁর নাজিল করা আয়াতেরও অনুসারী হওয়া আবশ্যক এবং গুরুত্বপূর্ণও বটে।

Nazmul Ahmed
১৪ জানুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৯:৪৩

Mr President. Thanks many many thanks

Aktarujjaman
২ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, ১১:৫৭

আমরা জনগণ ভোটের অধিকার ফেরত চাই!

অন্যান্য খবর