× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার

সুনই নদীর জলমহালের মাছ লুটের অভিযোগ

বাংলারজমিন

মো. ইসহাক মিয়া, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ)
২৯ নভেম্বর ২০২০, রবিবার

ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নে অবস্থিত সুনই নদীর জলমহালটি বেআইনিভাবে জোরপূর্বক দখল করে মাছ লুট করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়,  ১৪২২ বাংলা সন হতে চলতি ১৪২৭ বাংলা সন পর্যন্ত বার্ষিক ২৪ লাখ ২৪ হাজার ৬৬১ টাকা ইজরামূল্যে জলমহাল তীরবর্তী সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ইজারা দেয় সরকার। ওই সমিতির পক্ষে চলতি ১৪২৭ বাংলা সনের ইজারা মূল্যসহ অন্যান্য সরকারি করাদী যথারীতি পরিশোধ করা হয়েছে।  কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের ক্যাডার বাহিনী সুনই নদী নামের উল্লেখযোগ্য জলমহালটি জোরপূর্বক দখল করে প্রতিদিন মাছ লুট করে নিয়ে যায়। জলমহালে আসলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় সমিতির সদস্যদেরকে।  এ বিষয়ে গত ১৪ই অক্টোবর জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত অভিযোগ  করা হয়। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা  প্রশাসকের নির্দেশে  ২৯ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরজমিনে  জলমহালে গিয়ে অবৈধ দখলদারের নিকট  থেকে ইজারাদারের পাহারা দেয়ার দুটি নৌকা উদ্ধার করেন। ইউএনও জলমহাল ত্যাগ করার  কিছুক্ষণ পর অবৈধ দখলদাররা বিভিন্ন দেশীয়  ধারালো অস্ত্র নিয়ে  সমিতির লোকদের উপর আক্রমণ করে কয়েকজনকে রক্তাক্ত জখম করে। এ খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে  ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন ইউএনও এবং আহতদের  চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করার জন্য চলতি নভেম্বর মাসের ২ তারিখে পুনরায় জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি চন্দন বর্মণ। দাখিলকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২রা নভেম্বর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীগন যেন আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটাতে পারে এবং সুনই জলমহালে বৈধ ইজারাদার ব্যতীত অন্য কারো অবৈধ দখল থাকলে তা উচ্ছেদ করতে  বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ করা হয়েছে মর্মে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে ধর্মপাশা উপজেলা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়।


সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ও সহসভাপতি জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের  প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা অন্তরালে থাকলেও  তাদের নির্দেশে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সোহরাব, সুফেল, রিপন, গ্রামপুলিশ সুবল ও পাশের নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সালামসহ বহিরাগত ক্যাডার বাহিনীর লোকেরা ৪ মাস ধরে সুনই নদী জলমহালে ৪টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চালিয়ে দিনরাত মহড়া দিচ্ছে। নিষিদ্ধ বেড়জাল ও কারেন্টজাল দিয়ে মাছ ধরে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। জলমহালে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। ওদের ভয়ে স্ত্রী সন্তান ফেলে সমিতির সকল পুরুষ সদস্যরা  গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাছান বলেন, সুনই নদ জলমহালে  আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না ঘটে সে জন্য দুপক্ষকেই সতর্ক করা হয়েছে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর