× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২০ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার
সিলেট এমসি কলেজে গণধর্ষণ

ডিএনএ টেস্টে ৪ ছাত্রলীগ কর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ

প্রথম পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
১ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করার কারণে পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তার আশ্রয় নিয়েছিলো। দীর্ঘ দুই মাস পর সেই ডিএনএ রিপোর্ট সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এসএমপি’র হাতে পৌঁছেছে। রিপোর্টে ধর্ষণের ঘটনায় চার জনের সম্পৃক্ততা মিলেছে। ঘটনার দিন ওই চার ছাত্রলীগ কর্মী গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছিলো। পুলিশ জানায়, প্রাইভেট কারের ভেতরেই আসামিরা একে একে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে। এ সময় ওই গৃহবধূ নিজেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করলেও  শেষ পর্যন্ত নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারেননি। চারজন গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে বলে প্রমাণিত হলেও সহযোগিতা করেছে অন্যরা।
ধর্ষণের আগে এমসি কলেজের প্রধান ফটক থেকে প্রাইভেট কারসহ ওই গৃহবধূকে ছিনিয়ে নিয়েছিল ছাত্রলীগ কর্মীরা। ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি ও অর্জুন লস্কর- এই চারজন গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে। গণধর্ষণের ঘটনা সিলেট এমসি কলেজের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের অপরাধ নিয়ন্ত্রক ছাত্রলীগ কর্মীরা একের পর এক বিতর্কিত ঘটনা ঘটানোর পর আলোচিত এ ঘটনার জন্ম দিয়েছিলো। গত ২৫শে  সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে তারা গণধর্ষণ করেছিলো। ছাত্রাবাসের ভেতরে প্রাইভেট কারে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মহানগরের শাহপরান থানায় মামলা করেন। এদিকে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে এজাহারভুক্ত আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম এবং সন্দেহভাজন আসামি মিসবাউর রহমান ওরফে রাজন ও আইনুদ্দিন নামের আরো দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধর্ষণের ঘটনার পর তারা সিলেট ছেড়ে পালিয়েছিল। র‌্যাব ও সিলেট রেঞ্জ পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছিল। গ্রেপ্তারের পর আটজন আসামিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এ সময় তাদের মুখোমুখিও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড  শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামিরা। জবানবন্দিতে প্রধান আসামি সাইফুর, তারেক, শাহ মাহবুবুর ও অর্জুন লস্কর ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। রবিউল ও মাহফুজুর ধর্ষণে সহায়তা করার কথা স্বীকার করেন। সন্দেহভাজন দুই আসামিও আদালতে জবানবন্দি  দেয়। রিমান্ড ও আদালতে দেয়া বক্তব্যে আসামিরা নিজেদের দায় এড়িয়ে একে অপরের উপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত হয়ে উঠে। এ কারণে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। প্রায় দুই মাস পর সিআইডির ল্যাব থেকে সেই রিপোর্ট সিলেটে এসেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের জানিয়েছেন, সিআইডি’র ল্যাব থেকে ডিএনএ রিপোর্ট হাতে এসে পৌঁছেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এখন এই রিপোর্ট পর্যালোচনা করছেন। আগেই মামলার তদন্ত অনেক এগিয়ে রাখা হয়েছিল। এ কারণে ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর চার্জশিটের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শাহপরান থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি। সিলেটের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চার্জশিট প্রদানের পর মামলার মূল বিচারকাজ শুরু হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর