× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার

অবশেষে জীবনযুদ্ধে হেরে গেলেন দগ্ধ হীরা বেগম

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে
৩ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে টানা পাঁচদিন শরীরের এক-তৃতীয়াংশ আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ হীরা বেগম (৩৩) অসহনীয় যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন। হৃদয়বানদের দেয়া আর্থিক সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় নেয়া হয়েছিল তাকে। গতকাল ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। কথিত স্বামী বিল্লাল শেখের দেয়া আগুনে নিভে গেছে এই গৃহবধূর প্রাণ।
জানা গেছে, ভারতের পতিতালয়ে বিক্রির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কেরোসিন ঢেলে শরীরে আগুন দেয় পাষণ্ড বিল্লাল শেখ। তিনি যশোরের অভয়নগর থানার মঠপাড়া এলাকার মো. খোকন সরদারের মেয়ে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খুলনা ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সালেহউদ্দিন সবুজের প্রচেষ্টায় ‘আমাদের খুলনা’ ফেসবুক গ্রুপে লাইভের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত মঙ্গলবার রাতে ঢামেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছিল। অগ্নিদগ্ধ হিরা বেগমের মা মাজিদা বেগম জানান, যশোরের অভয়নগরের শোভনারা এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে কবির শেখের সঙ্গে পারিবারের সাধ্যমতো আয়োজনে বিয়ে হয়েছিল তাদের একমাত্র মেয়ে হিরা বেগমের।
মুদি দোকানি কবির শেখের নতুন সংসার বেশ ভালোই চলছিল। এরমধ্যে বাদ সাধে বাদামওয়ালা জাকির হোসেন। প্রথম স্বামী কবির শেখের সংসার ছেড়ে জাকির হোসেনের হাত ধরে নতুন করে সংসার সাজায় হিরা বেগম। এতে প্রচণ্ড কষ্ট পেয়ে পিতা-মাতা ও ভাই হীরা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। মাস ছয়েক পর অভয়নগরে শিহড়ী এলাকার আক্কাস শেখের ছেলে বিল্লাল শেখের সঙ্গে পরিচয় হয় হীরার। বিল্লাল মোটা অঙ্কের অর্থের লোভ দিয়ে তাকে ভারতে নিতে চায়। কিন্তু কি কাজ করতে হবে সেটা জানতে চায় হীরা বেগম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় মারপিট করতো বিল্লাল শেখ। একপর্যায়ে ভারতের পতিতালয়ে হীরা বেগমকে বিক্রি করার পরিকল্পনা করে বিল্লাল শেখ। এ পরিকল্পনা গোপনে জেনে যায় হিরা। ফলে ভারতে যেতে রাজি হয়নি সে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হিরা বেগমের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বিল্লাল শেখ। গত ২৬শে নভেম্বরের এ ঘটনার পর হিরা বেগমের মা মাজিদা বেগমকে মোবাইলে আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনাটি জানায় প্রতিবেশীরা। প্রথমে যাবে না বলে মুখ ঘুরিয়ে রাখলেও পরে একমাত্র মেয়েকে সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে যশোরের হাসপাতালে পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
হীরা বেগমের ভাই ইয়াছিন সরদার বলেন, গতকাল ভোর পৌনে ৫টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে ঢোকানোর সময় হীরার মৃত্যু হয়েছে। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত বলে নিশ্চিত করে। তিনি আরো বলেন, আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ১লা ডিসেম্বর অভয়নগর থানায় বিল্লাল শেখ, তার পিতা আক্কাস শেখ ও তার মাকে আসামি করে মামলা করেছি।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর