× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২২ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার
ফেসবুক থেকে নেয়া

মিজানুর রহমান খানের চলে যাওয়া মেনে নেয়া কঠিন

এক্সক্লুসিভ


১৩ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার
সর্বশেষ আপডেট: ১১:২০ পূর্বাহ্ন

এভাবে চলে যাওয়ায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি
ফরহাদ মজহার
স্নেহভাজন মিজানের এভাবে চলে যাওয়ায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি। বিদায়! ভালোবাসা মিজানুর রহমান খান। আমি সবে কোভিডের কবল থেকে এলাম। মিজানের খবর শুনে  ভেবেছি, ও ঠিকই বেরিয়ে আসবে। কিন্তু হলো না। বলা বাহুল্য, ফিরে আসাও স্বল্প সময়ের জন্য, কারণ আয়ু অনিবার্যভাবেই কোভিড হোক বা না হোক আমাদের মৃত্যুর দিকেই নিয়ে যায়। এতে পরিতাপের কিছু নাই। বরং ভাবনার বিষয় একটাই: জীবদ্দশায় আমাদের কাজের নিট ফল নিজে বিচার ও মূল্যায়ন করবার অবসরটুকু আমরা নিচ্ছি কিনা।
তাই এভাবে ছোঁ  মেরে কোভিড যখন প্রাণ হরণ করে,  সেটা একটা অবিচার। মিজানের বয়স মাত্র ৫৩ বছর!!!! এটা খুবই অন্যায়! প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণঘাতী  টেকনো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা বহাল রেখে করোনা ভাইরাস  মোকাবিলা করা অসম্ভব। ভয় পাচ্ছি, একই কথা আমাকে আবার কত হাজার বার যে বলতে হয়! এখন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে হাজির হয়েছে প্রকট মুনাফালোভী হাসপাতাল, ডাক্তার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।  কেননা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কাছাখোলা অবাধ ব্যবসা ও মুনাফার কারবারের বাইরে সামষ্টিক কিছু করার দরকার নাই। রাষ্ট্রের কাঁধে কোনো দায়-দায়িত্ব রাখা যাবে না। অতএব আমাদের চোখের সামনেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে। মিজান চলে গিয়েছে, এখন হা-হুতাশ করে তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে না। কিন্তু যারা আছে, তাদের বাঁচাতে হলে সঠিকভাবে ভাবুন, ভাবতে শিখুন। প্রজাতি হিসাবে পুরা মানবজাতি ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে পড়েছে। করোনাভাইরাস প্রাকৃতিক বিবর্তনের গোড়া, বিশেষভাবে মানুষের ইমিউনিটি বা জৈব-প্রতিরোধ ক্ষমতার কলকব্জাকে  আক্রমণ করছে। সহজে এর হাত  থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা নাই।

মেনে নেয়া কঠিন
মনজুরুল আহসান বুলবুল
মিজানুর রহমান খান, সহকর্মী-বন্ধু, আপনাকে বিদায় বলা খুবই কষ্টের। আপনার এভাবে চলে যাওয়া মেনে  নেয়া কঠিন। আপনাকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েই তরুণদের বলি,  ‘সাংবাদিকতা মূর্খদের পেশা নয়, সাংবাদিকতা করতে গেলে মিজানের মতো শিক্ষিত হতে হয়।’ সংবিধান আর আইন নিয়ে আপনার পেশাগত দক্ষতা সবার সামনে দৃষ্টান্ত। নানা বিষয়ে মার্কিন গোপন দলিল নিয়ে আপনার কাজের তূলনা হয় না। আপনার শূন্যতা পূরণ হতে অনেক সময় লাগবে।

সাংবাদিকতা মিজানুর রহমান খানকে বাঁচিয়ে রাখবে
নূরুল কবীর
মিজানুর রহমান খানের মতো সমাজবদ্ধ পরিশ্রমী সাংবাদিক হারানো দুঃখজনক, তাও আবার অকালে। তবুও সাংবাদিকতামূলক কাজ যা তিনি ফেলে এসেছেন তা তাকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখবে। তার  শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা।

এমন ভালোবাসায় মৃত্যু হয় কতো বড় মানুষের
আসিফ নজরুল
কাঁদছি, আবার একটা জিনিস দেখে ভালোও লাগছে মিজান। কতো মৃত্যুর সহযাত্রী হলাম আমরা ফেসবুকে। কারো জন্য এতো ভালোবাসা, এতো  শোক, এমন আহাজারি দেখিনি কখনো।
মিজান আপনি যখন মারা যাবেন জানলাম, একটা অদ্ভুত জিনিস মনে হলো। মনে হলো কারো মৃত্যুর সময় যদি আয়ু দানের নিয়ম থাকতো, মনে হলো আমরা যদি সবাই একটু একটু করে নিজের আয়ু দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারতাম আপনাকে!
কোনোদিন খুব ঘনিষ্ঠতা হয়নি,  কোনোদিন আপনাকে এতো ভালোবাসতাম কিনা জানতাম না,  কোনো কোনো দিন আপনার লেখায় জটিল বাক্য থাকলে সামান্য বিরক্তও হতাম। কিন্তু আপনাকে তারপরও এতো ভালোবাসলাম কেন আমি! আমরা সকলে, সবাই।
এমন ভালোবাসায় মৃত্যু হয় কতো বড় মানুষের!
আল্লাহ্‌ আমাদের বুকের ভেতরের সাক্ষ্য নাও। আমাদের মিজান ভালো মানুষ ছিল, তাকে ভালো রেখো।

ওপারেও এমন হাসিখুশি থাকুন মিজান ভাই
শামীমুল হক
এমন খবরের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। শুনেই কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠলো। মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো পানি। কেন এমনটা হচ্ছে? উনত্রিশ বছর আগে এক রুমে বসে কাজ করেছি। চার বছর সহকর্মী হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখেছি। স্নেহ পেয়েছি। পেয়েছি ভালোবাসা। পরামর্শ পেয়েছি। উপদেশ পেয়েছি। উনত্রিশ বছর ধরেই নানা সময়ে সামনা সামনি, মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা তার  অমলিন হাসি বড্ড আপন করে নিয়েছে আমাকে। আমাদের। তাই বলেই কি এমনটা হচ্ছে? না!  তাহলে?  ১৯৯২ সালে বাংলাবাজার পত্রিকার পথচলা শুরু হলেও দীর্ঘ সময়ে মিজান ভাই একাধিক পত্রিকায় দায়িত্বশীল পদে কাজ করেছেন। বাংলাবাজার পত্রিকার সম্পাদক, বর্তমানে মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর হাত ধরে যারা যশ খ্যাতি অর্জন করেছেন তাদের অন্যতম একজন মিজানুর রহমান খান। মিজান ভাইয়ের মতো এমন হাসিমাখা মুখ আমি এতদিনেও আরেকটি দেখিনি। মিজান ভাই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। আফসোস্‌ বড্ড অকালে তাকে হারাতে হয়েছে আমাদের। রিপোর্টার থেকে বাংলাবাজার পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক হয়েছিলেন। বাংলাবাজার পত্রিকায় আমার লেখা ধারাবাহিক ‘ঢাকার চালচিত্র’ সিরিজটি ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। এর নেপথ্যে ছিলেন মিজানুর রহমান খান। তিনি সিরিজ রিপোর্টটিকে ঘষেমেজে সুপাঠ্য করেছিলেন। তার এ ঘষামাজায় আমি হৃদ্য হয়েছি। আমার লেখার হাত প্রসারিত হয়েছে। অনেক স্মৃতি মিজান ভাইকে নিয়ে। কোনো স্পেশাল রিপোর্ট ছাপা হলেই ডেকে নিয়ে বলতেন, শামীম আপনি তো ফাটিয়ে দিয়েছেন। খুব ভালো হয়েছে রিপোর্টটি। এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অকৃপণ। উৎসাহ দিতেন সবাইকে। এক সময় বাংলাবাজার পত্রিকা ছেড়ে গেলেও আমৃত্যু সম্পর্ক রেখেছেন মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে। প্রায়ই আসতেন দৈনিক মানবজমিনে। প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর রুমে আড্ডা দিতেন। ওই রুম থেকে তার হাসি শোনা যেত। তার বিনয়, অন্যকে আপন করে নেয়ার গুণ, নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে অন্যকে পরামর্শ দেয়া ছিল চির অভ্যাস। দেখা হলেই বলতেন, শামীম কেমন আছেন? এগিয়ে যান। মিজান ভাই, আপনার শেখানো পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ঠিকই। কিন্তু আপনি যে থেমে গেলেন। কোন অভিমানে আমাদের ছেড়ে হঠাৎ চলে গেলেন। বিদায়টুকু নেয়ার সময়ও তো দিলেন না। যতদিন বেঁচে থাকি ততদিন হৃদয়ে থাকবেন আপনি। ওপারেও এমন হাসিখুশি থাকুন মিজান ভাই।  

দেখাতো একদিন হবেই
উৎপল শুভ্র
মিজান ভাই, আপনি এখন কোথায়? সুপ্রিম কোর্ট, ডিআরইউ, প্রেস ক্লাব ঘুরে প্রথম আলোতে? তাহলে তো রুটিন ঠিকই আছে। আজ একটু আগেভাগেই অফিসে ফিরলেন, এই  তো! সাত তলায় গেলেই তাহলে আপনার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এরপর কী হবে, তা তো জানাই। আপনি আপনার ট্রেডমার্ক হাসিটি দিয়ে বলবেন, ‘শুভ্রদা, কেমন আছেন?’ আমি আমার স্বভাবমতো  সোজা উত্তর না দিয়ে দুষ্টুমি করবো। আপনি আবার হাসবেন।
এই হাসিটা রসিকতার মাত্রাভেদে কখনো কখনো বিলম্বিত হবে। আপনার প্রতিক্রিয়া দেখেই আমি বুঝে  ফেলবো, রসিকতাটা বুঝিয়ে বলতে হবে কিনা। এমন তো কতোই হয়েছে, কোনো একটা রসিকতা করার পর আপনি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন। রসিকতা করার পর তা ব্যাখ্যা করে বোঝানোর মতো বিড়ম্বনা আর নেই। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে আমি সানন্দে তা করতাম। যা শোনার পর আপনি বিখ্যাত সেই ঠা-ঠা হাসি দিয়ে কতোবারই তো বলেছেন, ‘শুভ্রদা, আপনি খুব রসিক লোক।’  
একদিন তা শুনে আমি সিরিয়াস মুখ করে বললাম, ‘মিজান ভাই, আপনার আগে আমাকে কেউ এই কমপ্লিমেন্ট  দেয়নি। একটা কাগজে কথাটা একটু লিখে দিন না! আমি সবাইকে  দেখাবো।’
আপনি খুবই আশ্চর্য হয়ে বললেন, ‘কী বলছেন! এটা লিখে দিতে হবে  কেন? আপনার কথায় তো সবাই মজা পায়।’ বলার পর পাশে বসে থাকা জাকারিয়া না কার কাছ থেকে যেন কথাটার সমর্থনও চাইলেন।
লেখার জন্য আপনার অনেক মানুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে হতো। আর আপনি ফোনে কথা বলা মানেই পুরো ফ্লোর বাধ্যতামূলক শ্রোতা। একদিন আপনি উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা মাত্র শেষ করেছেন। আমি আপনাকে গিয়ে বললাম, ‘মিজান ভাই, ফ্রি থাকলে আপনাকে একটা গল্প বলি।’
আপনি খুব আগ্রহ দেখালেন, ‘বলুন, বলুন।’
গল্পটা উইনস্টন চার্চিলের। একদিন চার্চিল কিছু একটা করছেন। একটু দূরেই একজন ফোনে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছেন। কিছুক্ষণ পর চার্চিল একজনকে ডেকে বললেন, ‘টেল দ্যাট ম্যান টু ইউজ দ্য ফোন।’
গল্পটা বলে আমি একটু ভয়ে ভয়ে আপনার দিকে তাকিয়ে আছি। আপনি না আবার মাইন্ড করে বসেন! কিন্তু আপনার মুখ দেখে বুঝলাম, গল্পটা যে এখানেই শেষ, তা আপনি বুঝতেই পারেননি। আরও কিছু শোনার জন্য উৎকর্ণ হয়ে আছেন। যখন বুঝিয়ে বললাম, গল্পটা এখানেই শেষ এবং এখানে আপনার জন্য একটা মেসেজ আছে। আমার মনে হয়, আপনারও কথা বলার সময় ফোনটা ইউজ করা উচিত। আপনি অবাক হয়ে বললেন, ‘কেন, আমি তো ফোনেই কথা বলছিলাম।’
যারা শুধু লেখা পড়ে বা টিভিতে টক শো শুনে আপনাকে চেনে, তাদের কাছে আপনার এই প্রতিক্রিয়া অবিশ্বাস্য মনে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আপনার আগ্রহের মূল বিষয় আইন-আদালত-সংবিধান-মুক্তিযুদ্ধের সময় পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে পাণ্ডিত্যে রূপ নেয়া আপনার জানা- বোঝা এবং দারুণ বাচনভঙ্গিতে তা বুঝিয়ে বলার ক্ষমতার সঙ্গে এ সব মেলানো তো আসলেই কঠিন।
যারা আপনার সংস্পর্শে এসেছে, তারাই না শুধু জানে, আপনার লেখার বিষয় আর লেখার ভাষা যতটা জটিল ছিল, মানুষ হিসেবে আপনি ছিলেন ততটাই সরল। কপটতা আর প্যাঁচঘোচে ভরা তথাকথিত এই আধুনিক নাগরিক জীবনে মাঝে মাঝে আপনাকে এক ‘অনাসৃষ্টি’ বলে মনে হতো। অনাসৃষ্টি কোন অর্থে, তা তো আপনি বুঝতেই পারছেন মিজান ভাই। নাকি এটাও বুঝিয়ে বলতে হবে?     
আপনি ছিলেন শুধুই আপনার মতো। বন্ধু মিটুন মানে আনিসুল হক প্রায়ই বলতো, মিজান ভাই পুরো উপন্যাসের এক চরিত্র। আপনার সারল্য আর ভুলোমন নিয়ে কতোজন কতো কিছু লিখছে। প্রথম আলোর প্রায় সবারই তো আপনাকে নিয়ে কোনো না কোনো গল্প আছে।

আরেকটা মানুষই বা কই তাঁর মতো!
নবনীতা চৌধুরী
মিজান ভাই গত ক’দিন ধরে অবিরাম আপনার সুস্থতাই কেবল চেয়েছি। আপনি অনাত্মীয়, ঠিক ঘনিষ্ঠ বন্ধুও  তো নন, তবু আপনি ভেন্টিলেটরে  শোনার পর থেকে অবিরাম চোখের পানি ফেলেছি। সেটা কী আপনার শিশুতোষ উচ্ছ্বাস, ঠা ঠা হাসি, পরম সংগীতপ্রিয়তা নাকি সংবাদ কি সংবিধান নিয়ে আলাপে-তর্কে পরম উৎসাহে দীর্ঘ ফোনালাপের স্মৃতি মনে করে, তা জানি না। তবে, আমি মনে মনে আপনার সেরে ওঠার পরের  ফোনালাপ কিংবা মেসেঞ্জারে আমাদের বার্তা চালাচালিটুকু কয়েকবার ঝালাই করে রেখেছিলাম গত দেড়-দুইদিনে। মাথা যখন বলছিল আপনি ফিরবেন না মন তখনও বলছিল আপনার তীক্ষ্ণ কণ্ঠ আর সেই দুনিয়া উজাড় করা হাসি নিয়ে শিশুর সারল্যে আপনি ফিরবেনই ফিরবেন। আপনি ফিরলেন না মিজান ভাই- আমার অনাত্মীয়, অবান্ধব, দূরের ভাই।
বাংলাদেশে সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত আপনি উন্মোচন করেছিলেন।  সেই দিগন্তে গত দেড়-দুই দশকেও আর কেউ ঢুকতে পারেননি। অগুনতি ভক্ত, পাঠক হয়েছে আপনার আইন, সংবিধান, আদালতের মতো কঠিন খটমটে বিষয় নিয়ে লিখে। উপ-সম্পাদকীয় পাতায় কলাম লিখে কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত আলোচনায়  থেকে খবর-পাল্টা খবর সৃষ্টি করা যায়, এসব যাদুকরী সব ঘটনা আপনি ঘটিয়ে গেছেন বিরামহীন। পত্রিকার পাঠক নাই, সাংবাদিকতার জায়গা নাই, রাজনীতি নাই, তাই খবর নাই- এমন সব ক্লিশের বিপরীতে একাই দাঁড়িয়ে পড়ার শক্তি, সাহস, সততা রাখা মানুষ ছিলেন আমাদের মিজান ভাই। অথচ, নিজের প্রখর মেধা, তারকা খ্যাতি আর গভীর জ্ঞান বিষয়ে এত নিরহংকার আর কর্মনিষ্ঠ আরেকটা মানুষই বা কই তাঁর মতো!
তুখোড় মেধা আর নিষ্কলুষ সারল্যে গড়া অনন্য মানুষ মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে তাই সাংবাদিকতার আর এই দেশটার বড় ক্ষতি হয়ে  গেল। কত মানুষ আপনাকে ভালোবাসতো, আপনার জন্য কাঁদছে  সেটা দেখলে আপনি কেমন অবাক হতেন, তা দেখতে ইচ্ছা করছে। আপনার অবাক হওয়ার ক্ষমতাটাও এত নির্ভেজাল সুন্দর ছিল মিজান ভাই! সবচেয়ে সুন্দরতম স্থানে আপনার ঠাঁই হোক ভাই। পরিবার- পরিজন, স্ত্রী-সন্তান, স্বজন আর এত এত কাজ আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ফেলে আপনার যাওয়া সার্থক হোক।
সংক্ষেপিত

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর