× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২২ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার

বিদ্রোহীদের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে সিলেটের নৌকার প্রার্থীরা

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
১৪ জানুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার

পৌর নির্বাচনে ‘বিদ্রোহ’ ঠেকাতে পারলো না সিলেট আওয়ামী লীগ। দুটি পৌরসভায় নির্বাচনে তাদের বিদ্রোহী সংখ্যা বেশি। আর বিদ্রোহের কারণে নৌকা প্রার্থীরা পড়েছেন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। কোথাও কোথাও তারা বিএনপি’র প্রার্থীর চেয়ে বিদ্রোহীদের নিয়ে বেশি চিন্তিত। আর বিদ্রোহের কারণে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন দলের নেতারা। তারা জানান- যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন তাদের ওপর শাস্তির খড়গ নামছে। তাদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলে তাদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আগের চেয়ে সিলেট আওয়ামী লীগ এখন বেশি সুসংহত। ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে         
 সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এর আগে ২০১৯ সালের সম্মেলনের আগে জেলা আওয়ামী লীগের অধীনের প্রতিটি উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করায় নেতারা ছিলেন সুসংহত। কিন্তু পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে অস্বস্তি বেড়েছে। আগামী ৩০শে জানুয়ারি গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা শুরু করেছেন। দুটি পৌরসভায়ই তাদের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে সক্রিয়। গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাবেল দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি উপনির্বাচনেও ছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থী। এ কারণে রানিং মেয়র থাকার পরও আওয়ামী লীগের তরফ থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এবার দল মনোনয়ন দিয়েছে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদকে। ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগ এরপর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজ ধরে রেখেছেন রুহেল আহমদ। রুহেল নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার পর বর্তমান মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল মাঠ ছেড়ে যাননি। তিনি জয়ের জন্য আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। দলীয় প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে এবার জগ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে লড়ছেন তিনি। তার সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক মেয়র ও গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু। মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনযুদ্ধে আছেন তিনি। ২০১৫ সালের ও ২০১৮ সালের পৌর নির্বাচনে পরপর দুইবার নৌকার মনোনয়ন নিয়ে ভোটে ছিলেন জাকারিয়া আহমদ পাপলু। এবার আওয়ামী লীগ তার ওপর ভরসা রাখতে পারেনি। এ কারণে নতুন মুখ খুজে রুহেল আহমদকেই নৌকার প্রার্থী দিয়েছেন। পাপলু, রাবেল ও রুহেল তিনজনই সমসাময়িক রাজনীতির নেতা। বন্ধুত্বও রয়েছেন তিনজনের। জাকারিয়া আহমদ পাপলু এবার নৌকা না পেলেও মাঠ ছাড়েননি। তিনিও এলাকা ভিত্তিক ভোটব্যাংক গড়ে এবার জয়ের জন্য মাঠে নেমেছেন। তিনজনের মধ্যে এরইমধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মীরা এখনো নির্বাচন নিয়ে নীরব। তবে- পদবিধারী নেতারা নৌকার পক্ষে মাঠে সক্রিয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- এবারের গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট হতে পারে এলাকাভিত্তিক। আর সেটি যদি হয় তাহলে তিনজনেরই রয়েছে এলাকার দাপট। অপরদিকে- গোলাপগঞ্জ পৌর নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া শাহীন সুসংহত অবস্থানে রয়েছেন। দলের ভোট ব্যাংকের ভরসা থাকলেও অঞ্চলভিত্তিক ভোট শেষ মুহূর্তে ফলাফল পাল্টে দিতে পারে। গোলাপগঞ্জের রাজনীতির মাঠে পরিচিত মুখ শাহীন। এর আগেও তিনি পৌর নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। ফলে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহ থাকার কারণে সুবিধায় আছেন শাহীন। জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন ৮ প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থীর রয়েছে বিদ্রোহী। এ পৌরসভায় এবারো দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়েছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী খলিল উদ্দিন। তার সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফারুক আহমদ ও উপজেলা যুবলীগের সদ্য পদত্যাগী আহ্বায়ক আবদুল আহাদ। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে যুবলীগের আহ্বায়ক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হন আহাদ। আহাদ হচ্ছেন জকিগঞ্জের সাবেক পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি সোনাউল্লাহ’র ছেলে। ফলে এবারের জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে ইতিমধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি প্রার্থীকেও এ পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র ইকবাল আহমদ তাপাদার। তার সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন হীরা। নির্বাচনী প্রচারণা পর্ব শুরু হওয়ায় এরইমধ্যে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে প্রচারণা শুরু করেছেন। আর প্রচারণাকালে তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলের ঐক্যবদ্ধতা। নৌকার পক্ষে দলের সব নেতাকর্মীকে এক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তারা। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন- মানুষ উন্নয়নের পক্ষে, মানুষ নৌকার পক্ষে। সুতরাং দলের সব নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে রয়েছেন। যদি কেউ বিপক্ষে গিয়ে প্রার্থী হন তাহলে তাকে দলীয় শাস্তি পেতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর