× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২ মার্চ ২০২১, মঙ্গলবার

অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা প্রতারক জাহাঙ্গীর

বাংলারজমিন

রিপন আনসারী, মানিকগঞ্জ থেকে
১৬ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার

ভুয়া সমিতির ধোঁকার গ্যাঁড়াকলে পড়ে কয়েকশ’ মানুষের মাথায় হাত পড়েছে। সমিতির সদস্য বানিয়ে একেক জনকে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকার বড় অঙ্কের লোন দেয়ার প্রলোভনে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ব্যবসায়ী সঞ্চয় সমিতি নামের ওই ভুয়া এনজিও’র পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন। ঘটনাটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘেঁষা মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়। বর্তমানে ভুয়া ওই সমিতির অফিসে ঝুলছে তালা।
বানিয়াজুরী এলাকায় ভুয়া ব্যবসায়ী সঞ্চয় সমিতির অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায় শত শত ভুক্তভোগী অসহায় নারী-পুরুষের ভিড়। ঘটনা জানতে চাইলে অনেকেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে উঠেন লোন দেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে কথিত সমিতির পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন।
জানা গেছে, নিজের পরিচয় ও ঠিকানা গোপন রেখে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের প্রতারক চলতি মাসের ১লা জানুয়ারি বানিয়াজুরী এলাকার আব্দুস সালাম মিয়ার বাড়ির কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নেয়। খুব অল্প সময়ে স্থানীয় ও বাইরের জেলার বেশ কয়েকজন নারীকে তার সমিতিতে চাকরি দেয়।
মাঠকর্মী হিসেবে বেশির ভাগ নারী নিয়োগ পেলে তাদের দিয়ে প্রতারণার জাল ফেলে। মুখের মিষ্টি কথায় আকৃষ্ট হয়ে মাত্র ১০-১২ দিনেই কয়েকশ’ নারী-পুরুষ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সমিতির সদস্য হন। এর পর সদস্যদের মাঝে ব্যবসা করার জন্য জনপ্রতি এক লাখ এবং ওপরে ৫ লাখ টাকা লোনের অফার দেয় প্রতারক জাহাঙ্গীর। সাধারণ ও নিরীহ কয়েকশ’ মানুষ তার প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে জামানত বাবদ লাখ লাখ টাকা খোয়ায়। সর্বনিম্ন ৮ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা করে সদস্যদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় সমিতির পরিচালক । গত বৃহস্পতিবার সদস্যদের মাঝে লোন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই জাহাঙ্গীর মোটার অঙ্কের টাকা বাগিয়ে নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তার ঠিকানাও কারো জানা নেই। প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছে রিকশা চালক, ভ্যান চালক, ক্ষুদে দোকানি, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এছাড়া যার বাড়িটি সমিতির অফিস হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছে সে বাড়ির মালিক সালাম মিয়ারও জানা নেই ওই প্রতারকের ঠিকানা। ভাড়া দেয়ার আগে যেসব নিয়মকানুন থাকার কথা তার কোনোটাই বাড়ির মালিক এসব ব্যাপারে অবগত হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বাড়ির মালিক সালাম মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয়।
কথা হয় প্রতারণার শিকার বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে। ধোঁকার ফাঁদে পড়া তাদের একজন ঘিওর উপজেলার ছোট বৈন্যা গ্রামের ক্ষুদে মুদি দোকানদার লুৎফর মোল্লা। বলেন, ৩ লাখ টাকা লোন পাওয়ার আশায় ৩০ হাজার টাকা জামানত দিয়েছি। ১৪ই জানুয়ারি অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার লোন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বুধবার অফিসে গিয়ে দেখি আমার মতো শত শত মানুষের ভিড়। সমিতির পরিচালক নাকি আমাদের সবার টাকা নিয়ে পালিয়েছে। কথাটি শোনার পর যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা।
বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ী প্রদীপ সরকার বলেন, আমি ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি তিন লাখ টাকা লোন পাওয়ার আশায়। কিন্তু অফিসে এসে শুনি সবার টাকা নিয়ে সমিতির পরিচালক পালিয়ে গেছে। ভ্যানচালক আমজাত হোসেন জানান, মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ৩০ হাজার টাকা জমা দেই। আমাকে ৩ লাখ টাকা দেবে। লোন নিতে অফিসে গিয়ে দেখি সর্বনাশ হয়ে গেছে। পালিয়ে গেছে সমিতির লোকজন। কীভাবে এই ৩০ হাজার টাকার ধার-দেনা পরিশোধ করবো জানি না। এদের মতো কয়েকশ’ নারী-পুরুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে লাপাত্তা হয়েছে ভুয়া সমিতির পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন।
এ ব্যাপারে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আমারা বিভিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি আশা করি শিগগিরই মূল প্রতারককে আইনের আওতায় আনতে পারবো। এছাড়া যিনি বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন তিনি ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে কোনো ধরনের ডকুমেন্টস রাখেননি। বাড়ি ভাড়া দিতে গেলে অবশ্যই থানাকে অবগত করা প্রয়োজন ছিল। সেটাও সে করেননি। আর কার্ডে যে নম্বর লেখা আছে সে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর