× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৭ মার্চ ২০২১, রবিবার

‘কিছু না করার’ জন্য যাকে ভাড়া নেওয়া হয়

রকমারি

মানবজমিন ডেস্ক
১৮ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার
সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫৭ অপরাহ্ন

‘কিছু না করার’ জন্য নিজেকে ভাড়া দিয়ে বেড়াচ্ছেন জাপানের এক ব্যক্তি। ১০ হাজার ইয়েনের (৮ হাজার ১৮৩ টাকা) বিনিময়ে যে কেউ চাইলে তাকে ভাড়া নিতে পারেন। পাশাপাশি, খাওয়া, ভ্রমণ ও থাকার খরচও বহন করতে হয় গ্রাহককে। তবে শর্ত হচ্ছে গ্রাহকরা তাকে কিছু করতে বাধ্য করতে পারবেন না। পুরো সময়টুকুতে তিনি কেবল খাবেন আর কথার উত্তর দিবেন। এমন অদ্ভুত শর্ত সত্ত্বেও অনলাইনে তার জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ খবর দিয়েছে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

খবরে বলা হয়, জাপানি ওই পুরুষের নাম শোজি মরিমোতো (৩৭)। তিনি টোকিওর বাসিন্দা।
২০১৮ সাল থেকে কিছু না করার শর্তে নিজেকে ভাড়া দিয়ে আসছেন তিনি। ওই বছরের জুনে এক টুইটে এ সেবা প্রদানের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেন: ‘কিছুই করবে না’ এমন একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে ভাড়া দিতে ইচ্ছুক। আপনার জন্য একা একা দোকানে ঢোকা কঠিন? আপনার টিমে একজন খেলোয়াড় কম? আপনার জন্য কোনো জায়গা ধরে রাখার জন্য লোক প্রয়োজন? আমি সহজ জিনিস ছাড়া কিছু করতে পারবো না।

প্রাথমিক পর্যায়ে অবশ্য বিনামূল্যেই সেবা দিতেন মরিমোতো। কিন্তু এত বেশি অনুরোধ আসা শুরু করলো যে, নিজের সময়ের বিপরীতে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দিয়েছেন তিনি। মরিমতো জানান, এই কাজ শুরুর পর থেকে এখন অবধি ৩ হাজার গ্রাহকের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তার দৈনিক গ্রাহক থাকে তিন থেকে চার জন।

তিনি জানান, মানুষজন নানা কারণে তাকে ভাড়া নিয়ে থাকেন। তবে গ্রাহকদের বেশিরভাগই মূলত বিষণ্ণ বা একাকীত্বে ভোগা ব্যক্তি। তারা এমন কাউকে চান যে তাদের কথা শুনবে।

কেউ কেউ তাকে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য ভাড়া করেছে। কেউ ইন্সটাগ্রামে ছবি তোলার জন্য পোজ দিতে; কেউ আবার ডিভোর্সের আবেদন করার সময় সঙ্গী হিসেবে সাথে যেতে বা পার্কে একসঙ্গে প্রজাপতি ধরতে তাকে ভাড়া নিয়েছেন। এমনকি কাজে কঠিন সময় পার করছেন এমন স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের কথা বলতেও তাকে ভাড়া নিয়েছেন।

একবার এক ব্যক্তি তাকে ভাড়া নিয়েছিলেন, নিজের করা এক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলতে। আত্মহত্যার চেষ্টাকারী এক ব্যক্তিও তাকে ভাড়া নিয়েছিলেন। যেখানে আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন ওই ব্যক্তি, সেই জায়গা পরিদর্শনের জন্য হাসপাতালে থাকা অবস্থায় মরিমতোকে ভাড়া নেন তিনি।

মাইনিচি পত্রিকার এক প্রতিবেদন অনুসারে, মরিমতো বিবাহিত। ওসাকা ইউনিভার্সিটি থেকে থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে তার।  তিনি বলেন, আমি কোনো বন্ধু বা সহযোগী নই। একটি সম্পর্কে সবসময় ভালো দিক থাকে তা নয়, অনেক সময় বিরক্তিকর দিকও থাকে। আমি মূলত এই বিরক্তিকর দিক থেকে মুক্ত। ফলে আমি সহজেই মানুষের একাকীত্বের অনুভূতি দেখতে পাই।

তিনি আরো বলেন, ব্যক্তিগতভাবে অন্য কারো কাছ থেকে অনুপ্রেরণার কথা শোনা আমার পছন্দের বিষয় নয়। মানুষজনের কাছ থেকে সহজে হাল না ছাড়ার কথা শুনতে আমার বিরক্ত লাগে। আমার মনে হয়, কেউ যখন কিছু করার চেষ্টা করছে তখন সবচেয়ে ভালো করণীয় হচ্ছে তাদের পাশে থেকে কাজটি তাদের জন্য সহজ করে তোলা।
নিজেকে ভাড়া দেওয়ার আগে প্রকাশনায় কাজ করতেন মরিমতো। নতুন কাজে আসার পর নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে বই প্রকাশ করেছেন তিনি। এমনকি তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি টিভি ড্রামাও নির্মিত হয়েছে। টুইটারে তার অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর