× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শুক্রবার

ইউটিউবার ৯ বছরের বালক ৫ কোটি ডলারের মালিক

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(১ মাস আগে) জানুয়ারি ২০, ২০২১, বুধবার, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

বিস্ময় বালক জাপানি বংশোদ্ভূত রায়ান কাজি। মাত্র ৯ বছর বয়সের সে বিশ্বের সেরা ইউটিউবার। পিতামাতা, যমজ দুই বোনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রায়ান এরই মধ্যে নিট ৫ কোটি ডলারের মালিক। ২০২০ সালেও তৃতীয় বছরের মতো ইউটিউব থেকে টানা সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী নির্বাচিত হয়েছে। তাকে এমন শীর্ষ স্থান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ফোরবস। কিভাবে সম্ভব হলো মাত্র ৯ বছর বয়সী একটি বালকের এত্ত বিশাল অর্থের মালিক হয়ে যাওয়া!
আরো কম বয়সে তার সফলতার গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে। ইউটিউবে তার চ্যানেলের নাম ‘রায়ান’স ওয়ার্ল্ড’। এখানে সে প্রথমে ভিডিও কন্টেন্ট আনবক্সিং করে তা আপলোড করা শুরু করে।
এটা ২০১৫ সালের কথা। তখন তার বয়স মাত্র ৩ বছর। প্রথমে তার চ্যানেলের নাম ছিল রায়ান টয়েজ রিভিউ। পরে সেই নাম পাল্টে নাম রাখে রায়ানস ওয়ার্ল্ড। এরপর থেকে সে তার চ্যানেলকে বিস্তৃত করতে থাকে। তাতে অন্তর্ভুক্ত করতে থাকে শিক্ষা বিষয়ক কন্টেন্ট, পারিবারিক সম্পর্ক বিষয়ক ভিডিও, যেমন ‘ডিআইওয়াই’ বিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা। এ ছাড়া এতে যোগ করতে থাকে তার যমজ বোন এমা কাজি ও কেট কাজির বিভিন্ন সময়ের খেলার ভিডিও।
রায়ান কাজির পিতা শিওন কাজি ও মাতা লোয়ান কাজি। রায়ানস ওয়ার্ল্ডের এত জনপ্রিয়তার কারণ রায়ান ও তার পিতার মধ্যকার বন্ধন। চ্যানেলের নেপথ্যে পিতা তাকে সময় দিয়েছেন। মা-ও ছিলেন উৎসাহ নিয়ে পাশে। জানুয়ারিতে রায়ানের এই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ৭৯ লাখ। এখানে উল্লেখ্য, ইউটিউবের মালিকের একাউন্টে টাকা জমা হয় এর ভিউ এবং কি পরিমাণ সাবস্ক্রাইবার আছে তার ওপর ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে রায়ান কাজির কন্টেট দেখেন সব বয়সী মানুষ। তার এই চ্যানেল ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ভিউ হয়েছে ১২২০ কোটি বার। বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই, এর ফলে সে আয় করেছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। ফোরবস বলেছে, তাকে ইউটিউব থেকে সর্বোচ্চ অর্থ আয়কারীদের শীর্ষে রাখতে এই অর্থ যথেষ্ট।
রায়ান কাজির বয়স ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করছে সে। তবে তার এই সফলতার নেপথ্যে রয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষের কঠোর পরিশ্রম। তার চ্যানেল থেকে প্রতিদিন একটি করে ভিডিও আপলোড দেয়া হয়। এ জন্য তার পরিবার ৩০ জনের একটি টিম গঠন করেছে। এই টিমের নাম দেয়া হয়েছে সানলাইট এন্টারটেইনমেন্ট। এটার ব্যবস্থাপনা করে তার পরিবার। এই টিম ভিডিও তৈরি এবং তা আপলোডে সহায়তা করে। রায়ানস ওয়ার্ল্ড এখন লাইসেন্সপ্রাপ্ত। এই চ্যানেলে আছে প্রায় ৫০০০ ভিডিও। সেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ কোটি ডলার রাজস্ব বা রয়েলটি আসে। এছাড়া রায়ান কাজির রয়েছে নিকেলোডিওন, হুলু এবং রোকু’র সঙ্গে রয়েছে চুক্তি। সব মিলিয়ে তার পরিবার কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার আয় করেছে। আর তারা যে মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, তার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার।
২০১৬ এবং ২০১৭ সালে রায়ান কাজি আয় করেছে এক কোটি ১০ লাখ ডলার। ২০১৮ সালে রাজস্ব হিসেবে আয় করেছে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। উইকিপেডিয়া জানাচ্ছে, রায়ানের এই চ্যানেল থেকে প্রতিদিন একটি করে নতুন ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে যেসব ভিডিও আছে তার মধ্যে অন্যতম ‘হিউজ এগস সারপ্রাইজ টয়েজ চ্যালেঞ্জ’। এই ভিডিওটি ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভিউ হয়েছে ২০০ কোটি বারের বেশি। ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি দেখা হয়েছে এমন ৬০টি ভিডিওর একটি এই ভিডিও। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি যেসব ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব হয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম।
প্রযুক্তি বিষয়ক অনলাইন দ্য ভার্গি রায়ানের এই চ্যানেলটিকে ব্যক্তিগত ভেøাগে একাকার করে দিয়েছে। নিষ্পাপ শৈশবের এক বিরল সংমিশ্রণ বলে উল্লেখ করেছে তারা। রায়ানের এই চ্যানেলটি অন্যান্য ভাষায়ও চলমান। এর মধ্যে রয়েছে স্প্যানিশ ও জাপানিজ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Fazlu
২০ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার, ১২:৩০

আমি ওর চ্যানেলটি দেখেছি। বাচ্চাদের দেখার জন্য বেশ মজাদার। ওরা প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হয়েছে শৈশবেই প্রোগ্রামিং, কোড ইত্যাদি শিখার মাধ্যমে ওদের দেশে এসব শেখার জন্য আইটি স্কুল আছে। আমাদের বাচ্চাদের জন্য আইটি স্কুল নেই। আছে বড়দের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের বাচ্চারা প্রোগ্রামিং জানে না। তবে প্রযুক্তির আশির্বাদে ওরা ভিডিও দেখছে, চ্যাটিং শিখছে, একটু বড় হয়ে পর্ণগ্রাফি দেখছে, PUB-G জাতীয় গেমে আসক্ত হচ্ছে; এবং অবশেষে নেশার পথে পা বাড়াচ্ছে। এভাবেই একদিন সুযোগ হলে বিদেশ যাবে। কাজ করবে। দেশে রিমিট্যান্স পাঠাবে। বড় পর্দায় আমরা ওদের পাঠানো টাকার পরিমাণ দেখে আপ্লুত হবো। বাস্তবে ওরা তুতে গাছের মত বেড়ে উঠছে। ওদের পাতা পেড়ে পলুকে খাওয়ানো হবে। এছাড়া ওরা ভাল জ্বলানীও হবে না।

অন্যান্য খবর