× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শনিবার

নবীগঞ্জে নৌকার প্রার্থীর পরাজয়ের নেপথ্যে..

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, নবীগঞ্জ থেকে
২১ জানুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার

নবীগঞ্জে পরাজিত হয়েও বাজিমাত করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী। ব্যালটযুদ্ধে মাত্র ২৬৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও রাহেল বন্দনায় সয়লাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। দলীয় চক্রান্ত আর বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজিত নৌকার নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তোলপাড় চলছে। মহামারী করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পৌর এলাকার ৯ টি ওয়ার্ডে ব্যাক্তিগত সহায়তা, প্রতিবছর ঘরে ঘরে শীতবস্ত্র বিতরণ ছাড়াও নীরব সমাজসেবার প্রতিদান পেয়েছেন রাহেল চৌধুরী। তার সমর্থকদের দাবি, নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে তারন্য আর ক্লিন ইমেজ কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠ কাঁপিয়েছেন রাহেল চৌধুরী। পৌরসভার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই বিজয়ী চরগাঁও সিন্ডিকেটকে কঠিন ধাক্কা দিয়েছেন। রাজনীতি ও নির্বাচনের মাঠে অনেকটা নবাগত রাহেল চৌধুরীর উত্থানে চমকে গেছেন শহর এলাকার মানুষ। এবার সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া সময়ের ব্যাপার হিসেবে দাবি করেন তারা।
এছাড়াও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পূর্বেই মেয়াদ ও কোন্দলে বিপর্যস্থ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক ও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ১৬ই জানুয়ারি নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নৌকার পরাজয়ের নেপথ্যে প্রশাসনিক সিন্ডিকেট আর দলের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের ষড়যন্ত্রকে দায়ী করা হচ্ছে। মন্ত্রীর জামাতা হলেও অনেকটা বিরোধী বলয়ের প্রার্থী হিসেবে মাঠে সরব ছিলেন, আলহাজ্ব গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী। নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি দলীয় প্রার্থী আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী শতভাগ শান্তি পূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়ায় প্রশাসনও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নির্বাচনের মাঠেও প্রশাসনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন তিনি। ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, বিএনপি নেতার বিজয়ে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছে শহরের আলোচিত আক্রমপুর আর চরগাঁও বেষ্টিত ৬নং ওয়ার্ড। বিগত তিনবারের পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল জাহান চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা বেষ্টিত ওই কেন্দ্রে ধানের শীষের  ১১৯৩ ভোটের বিপরীতে নৌকার প্রাপ্ত ভোট মাত্র ১৯৯। এই ভোটগুলোকে সনাতনী আক্রমপুর গ্রামের হিসেবে আলোচনা হচ্ছে। এর অর্থ চরগাঁও নৌকায় হাতে গুনা কয়েকটি ভোট পড়েছে।  এজন্যই তীরে এসে তরী ডুবল নৌকার। ওই কেন্দ্রে নৌকার বিপরীতে ধানের শীষের প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান নিয়ে তোলপাড় চলছে। এছাড়াও ৭নং ওয়ার্ড নহরপুর ভোট কেন্দ্রে নৌকার প্রাপ্ত ৯৯২ ভোটের বিপরীতে ধানের শীষের ৬৭৩ ভোটের দাবি নিয়ে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী। এনিয়ে হুলস্থূল ও প্রেস ব্রিফিংকালেও উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও পরাজয়ের নেপথ্যে প্রশাসনিক সিন্ডিকেট, ষড়যন্ত্র আর ভোট টেম্পোরিংকে দায়ী করেন তিনি। ২০১৫ সাল থেকে পৌরসভা বিএনপির দখলে। বিগত তিনবারের মেয়র ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হন বিএনপির ছাবির আহমদ চৌধুরী। এবারও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের জামাতা গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী রাহেলকে মাত্র ২৬৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিএনপি পাস করলেও বিগত পাঁচ বছরে তাদের ভোট খুব একটা বাড়েনি। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রাপ্ত ভোট  ৫ হাজার ৭৪৯ ভোট। আর নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছে ৫ হাজার ৪৮৫। বিগত পাঁচ বছরে ধানের শীষের ভোট বেড়েছে মাত্র ১২৮ ভোট। ২০১৫ সালে নৌকার প্রার্থী অধ্যাপক তোফাজ্বল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। এবার প্রার্থী বদল করে নৌকায় ভোট পড়েছে ৫ হাজার ৪৮৫ ভোট। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে নবীগঞ্জে নৌকার বেড়েছে ২ হাজার ৭১২ ভোট। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গণসংযোগ করেন। হবিগঞ্জ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সমন্বয়হীনতায় নৌকার নিশ্চিত বিজয় হাতছাড়া হয়েছে মর্মে আলোচনায় সরব উপজেলার জনপদ। এনিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী বলেন, চক্রান্ত করে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। নহরপুর ও শিবপাশা কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণনার দাবি জানিয়ে বলেন, ভোট টেম্পোরিং ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।   

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Motiur
২০ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার, ১১:৪৬

It should be count again. Or re election in this word .

তোফাজ্জুল হোসেন বাদশ
২০ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার, ১১:৩৯

সঠিক তথ্য দিয়ে আমাদের সাথে থাকেন

অন্যান্য খবর