× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৬ মার্চ ২০২১, শনিবার

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আব্দুল হালিমের বিদায়

বাংলারজমিন

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
২২ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার

সরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম আব্দুল হালিম (৭৫)। সকলের হালিম ভাই। ৭১’র রণাঙ্গণের পরীক্ষিত সৈনিক। ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। সাদামাটা এ মানুষটির জীবনযাত্রাও ছিল একেবারে সহজ সরল। ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি ছিলেন আজীবন। নৌকা প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছেন দুইবার। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ পরিবার, স্বজন ও অগণিত ভক্তবৃন্দকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ওনার মৃত্যুর খবরে গোটা সরাইলে নেমে আসে শোকের ছায়া। জীবন সায়াহ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম দলীয় কোন্দলে খুন হওয়া নিজ দলের নেতা ইকবাল আজাদ হত্যা মামলায় জেল খেটেছেন। বাদ আসর ওনার জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হইতে তাকে দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা। দলীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, কিশোর বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন তিনি। ১৯৬৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে ছাত্রলীগ থেকে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে সবকিছু ছেড়ে লড়াই করেছেন রণাঙ্গনে। মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আগরতলা হাফানিয়া ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর গোটা দেশ ছিল স্তব্ধ। অসম সাহসের অধিকারী হালিম সেই দিনও থামেন নি। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ভেদ করে সেই নির্মম ও বর্বর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করেছিলেন রাজপথে। রোষাণলে পড়েছিলেন তৎকালীন প্রশাসনের। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান ছাড়েন নি তিনি। দীর্ঘ দুই যুগেরও অধিক সময় তিনি ছিলেন সরাইল আওয়ামী লীগের সভাপতি। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা তৎকালীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শেখ হাসিনা আব্দুল হালিমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন (নৌকা) দিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য এমপি হতে পারেননি তিনি। সরাইল কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিরহঙ্কার এ মানুষটি আওয়ামী লীগ, সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, সাবেক এমপি এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, ভাইস চেয়ারম্যান আবু হানিফ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম, বেসরকারি শিক্ষক কল্যাণ ট্রাষ্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সভাপতি মো. কামরুজ্জামান আনসারী, শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান ও আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট সৈয়দ তানবির হোসেন কাউসার, সরাইল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল, সরাইল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদর উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মাহবুব আলম খোকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এডভোকেট মো. নাজমুল হোসেন, বিএনপি নেতা মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা যুবলীগের সভাপতি এডভোকেট মো. শাহানুর ইসলাম, সম্পাদক এডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস, সরাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আইয়ুব খান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুব খান বাবুল। প্রসঙ্গত আব্দুল হালিম উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রশিদের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে ৩ মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাদ আসর প্রথমে সরাইল অন্নদা স্কুল মাঠে ও বাদ মাগরিব নিজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর