× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, রবিবার

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

অনলাইন

অনলাইন ডেস্ক
(১ মাস আগে) জানুয়ারি ২২, ২০২১, শুক্রবার, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঢাকার সাভারের একটি বেসরকারি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে একটি মসজিদে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অধ্যক্ষ আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকার দুটি মহিলা আবাসিক মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির জানান, খেজুর বাগান এলাকার নিজের দোতলা একটি ভবনে ওই অধ্যক্ষের মাদ্রাসা। ভবনের নিচ তলায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। দ্বিতীয় তলায় মাদ্রাসার ছাত্রীদের আবাসিক ব্যবস্থা ও ক্লাসরুম।
এসআই জানান, ৮ই জানুয়ারি স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে শিশুটিকে চা তৈরি করার কথা বলে নিচ তলায় ডেকে নেন অধ্যক্ষ। পরে তাকে ধর্ষণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদ্রাসায় আটকে রাখেন। শিশুটিকে কোথাও যেতে দেয়াও হতো না। বুধবার দুপুরে শিশুটি কৌশলে পালিয়ে বিবাড়িয়া এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় যায়।
এরপর সন্ধ্যায় তার পরিবার আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করে। পরে পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নেয়।
এসআই মামুন বলেন, শিশুটি মাদ্রাসা থেকে পালানোর পরই গা ঢাকা দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ। পরে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
২২ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার, ১২:৫৪

ইসলামি শরিয়তের আইনে বেগানা নারী পুরুষের অবাদ মেলামেশার কোনো অবকাশ নেই। ইসলামি বিধি বিধানে নারীদের নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজকর্ম করতে কোনো নিষেধ নেই। কিন্তু, কর্মক্ষেত্রটা পৃথক হতে হবে। একসঙ্গে একই জায়গায় নারী পুরুষের দীর্ঘ সময় বা দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করলে তাদের মধ্যে অবৈধ বা অবাঞ্ছিত যে কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যা অহরহ দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ হয়তো প্রকাশও হয়না। পর্দা করা বা পর্দার বিধান মেনে চলা ইসলামি শরিয়তের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। এর বিরোধিতা করা গুনাহে কবিরা এবং আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করা। আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করা কুফরি। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের আনাচে কানাচে ব্যঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা মহিলা মাদ্রাসার হুজুরেরা কি পর্দার বিধান সম্পর্কে অবগত নয়? নাকি তাদের জন্য পর্দা মানা ফরজ নয়? যেহেতু, মহিলা মাদ্রাসায় বালিকা ও মহিলাদেরকেই পড়ানো হয় সেহেতু, কোন যুক্তিতে সেখানে মহিলাদের ভেতর পুরুষ শিক্ষক অবস্থান করে? ইসলামি শরিয়তে কি মহিলাদের মধ্যে পুরুষের অবস্থান করা জায়েয আছে? পর্দার বিধানের আইন কুরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালা নাজিল করেছেন এভাবেঃ "নবী, মু'মিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেনো নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান সমূহকে হেফাজত করে রাখে। এটাই তাদের জন্য বেশী পবিত্র পদ্ধতি। তারা যা করে আল্লাহ তায়ালা তার সবকিছু অবহিত রয়েছেন। আর হে নবী, তুমি মু'মিন মহিলাদের বলে দাও, তারা যেনো তাদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান সমূহের হেফাজত করে। তারা যেনো তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে না বেড়ায়। তবে তার শরীরের যে অংশ এমনিতেই খোলা থাকে তার কথা আলাদা। তারা যেনো তাদের বক্ষদেশ মাথার কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত করে রাখে। তারা যেনো তাদের স্বামী, তাদের পিতা, তাদের শ্বশুর, তাদের ছেলে, তাদের স্বামীর আগের ছেলে, তাদের ভাই, ভাইর ছেলে, বোনের ছেলে, তাদের সচারাচর মেলামেশার মহিলা, নিজেদের অধিকার ভুক্ত সেবিকা দাসী, নিজেদের অধিকার ভুক্ত পুরুষ যাদের মহিলাদের ব্যপারে কোনো কিছুই কামনা করার নেই, কিংবা এমন শিশু যারা এখনো মহিলাদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে কিছুই জানেনা - (এসব মানুষ ছাড়া তারা যেনো) অন্য কারো সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। জমিনের উপর তারা যেনো এমনভাবে পা না রাখে, যাতে করে তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ হয়ে পড়ে। হে ঈমানদার লোকেরা, তোমারা সবাই আল্লাহর দরবারে তাওবা করো, আশা করা যায় তোমরা নাজাত পেয়ে যাবে।" সূরা আন নূরঃ৩০-৩১। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কুরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আদেশ আকারে নাজিল করা পর্দার বিধান মহিলা মাদ্রাসায় মেনে চলা সম্ভব কী? হুজুরেরা হয়তো বলবেন, মহিলারা সবাই বোরখা হিজাব পরিধান করে অবস্থান করে। তবুও কি দিন রাত তেল আর আগুনের একসঙ্গে বসবাস বা অবস্থান করা সম্ভব? কেউ আমার কথাটা অন্যভাবে (Otherwise) নেবেননা। কারণ, আমরা জানি যৌনাকাঙ্ক্ষা নারী পুরুষের সহজাত প্রবৃত্তি। আগুন তেল কে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আবার তেল আগুন কে জ্বলে উঠতে সাহায্য করে। একটার প্রতি অন্যটার আকর্ষণ দুর্নিবার। সুতরাং, আমরা কেউ এদুটোকে একসঙ্গে কখনো রাখিনা। অতএব মহিলা মাদ্রাসা মহিলাদের দ্বারাই পরিচালিত হওয়া যুক্তিযুক্ত, বাঞ্ছনীয় এবং অপরিহার্য। বোরখা হিজাব পরিধান করে অবস্থান করলেও দীর্ঘ সময় ধরে বেগানা নারী পুরুষের একসঙ্গে অবস্থান করা শরিয়ত সম্মত কিনা হুজুরদের কাছে প্রশ্ন রইলো। যেখানে বেগানা নারী পুরুষের একসঙ্গে হজ্জ উমরাহ পালন করারও বৈধতা নেই। তাহলে হুজুরেরা কি করে শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান লঙ্ঘন করে মহিলা মাদ্রাসা চালাচ্ছেন? সুতরাং, পুরুষের পরিচালনায় মহিলা মাদ্রাসা অনতিবিলম্বে বন্ধ করা অপরিহার্য এবং মহিলা মাদ্রাসা মহিলাদের দিয়েই পরিচালিত হওয়াই উচিত। তাতে পর্দার বিধানের বরখেলাপ কোনো কিছু যেমন ঘটবে না, তেমনি অত্যন্ত বিপদজনক ও মারাত্মক কবিরা গুনাহ- ব্যভিচারও সংঘটিত হবে না। কিছুদিন থেকে দেশের বিভিন্ন মহিলা মাদ্রাসায় যেভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটার খবর প্রকাশিত হচ্ছে তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। অচিরেই মাদ্রাসা শিক্ষা ও আলেম ওলামাদের প্রতি মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়তে পারে। কিছু কুলাঙ্গারের কারণে যদি আল্লাহর দ্বীনের প্রতি মানুষ বিমুখ হয়ে যায় তা হবে মুসলমানদের জন্য একটি অতি বেদনাদায়ক ঘটনা। সুতরাং, সময় থাকতে দেশের হাক্কানী আলেম ওলামাদের এবিষয়ে সতর্ক হওয়া এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

অন্যান্য খবর