× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ মার্চ ২০২১, সোমবার

দেশে এখন ৪২ শতাংশ মানুষ দরিদ্র

অনলাইন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
(১ মাস আগে) জানুয়ারি ২৩, ২০২১, শনিবার, ৯:৩১ অপরাহ্ন

করোনার প্রভাবে দেশে সার্বিক দারিদ্র্যের হার (আপার পোভার্টি রেট) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশ। দেশব্যাপী খানা পর্যায়ের জরিপের ভিত্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নিজেদের অর্থায়নে এই জরিপ পরিচালনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম। শনিবার দারিদ্র্য ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

বিবিএসের খানা জরিপ অনুসারে, ২০১৬ সালে দেশের গ্রামাঞ্চলের সার্বিক দারিদ্র্য ছিল ২৬.৪ শতাংশ, ২০১৮ সালের জিইডি-সানেম জরিপ অনুসারে যা ছিল ২৪.৫ শতাংশ। কিন্তু করোনার প্রভাবে ২০২০ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫.৩ শতাংশ। শহরাঞ্চলে সার্বিক দারিদ্র্যের হার ২০১৬ সালে ছিল ১৮.৯ শতাংশ, ২০১৮ সালে ছিল ১৬.৩ শতাংশ আর করোনার সময়ে ২০২০ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৩৫.৪ শতাংশ।

জরিপের উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো- ২০২০ সালে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে রেমিট্যান্স বা প্রবাসীয় আয়ের ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হলেও ব্যক্তিক পর্যায়ে তা বরং কমে গেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, অনানুষ্ঠানিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসী আয় এসেছে। এতে বিনিময় হার কমে গেছে।
৮২.০৫ শতাংশ পরিবার বলেছে, দেশের বাইরে থেকে আসা প্রবাসী আয় কমেছে। একই ক্ষেত্রে আগের মতো আছে বলেছে ১৭.৬৬ শতাংশ পরিবার। ফলে প্রবাসী আয়ের প্রভাব সমাজে অতটা অনুভূত হয়নি, যতটা বলা হয়েছে, সে তুলনায়।

জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন সানেমের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, সানেম নিজস্ব অর্থায়নে জরিপটি পরিচালনা করেছে। ‘এটা না হলে আমরা একটি পরিপ্রেক্ষিত হারিয়ে ফেলতাম। সেই তাড়না থেকেই এই জরিপ। দারিদ্র্য, অসমতা ও কর্মসংস্থান, এই তিনটি ক্ষেত্রে কোভিডের প্রভাব নিরূপণ করা হয়েছে বলে জানান সেলিম রায়হান।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, করোনার প্রভাবে দারিদ্র্যের কারণে মানুষ খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছেন, ঋণ নিয়েছেন, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছেন। আবার জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭.৫২ শতাংশ পরিবার বলেছে, তারা খাপ খাওয়ানোর পথই খুঁজে পায়নি।

২০১৬ সালে দেশের গ্রামাঞ্চলের সার্বিক দারিদ্র্য ছিল ২৬.৪%, ২০১৮ সালের জিইডি-সানেম জরিপ অনুসারে যা ছিল ২৪.৫%। কিন্তু করোনার প্রভাবে ২০২০ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫.৩%।
আর এই দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে অসমতায়। ভোগের ক্ষেত্র জিনি সহগ দাঁড়িয়েছে ০.৩৩। অথচ ২০১৮ সালে সানেম ও জিইডির আরেক জরিপে দেখা গিয়েছিল, এর মান ০.৩১। ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুসারে এটি ছিল ০.৩২।

দারিদ্র্যের আরেকটি ফল হলো- শিক্ষাগ্রহণ ব্যাহত হওয়া। জরিপে দেখা গেছে, ২০১৮ ও ২০২০ সালের মধ্যে মাথাপিছু গড় শিক্ষাব্যয় কমেছে। অতিদরিদ্র পরিবারের জন্য এই হার হ্রাস সবচেয়ে বেশি ৫৮ শতাংশ। পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষায় দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও কম।
জরিপের ফলাফল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দারিদ্র্য পরিমাপ করা হয় সাধারণত ভোগ দিয়ে। কিন্তু দারিদ্র্য যে বহুমুখী ধারণা, যেমন শিক্ষা ও চিকিৎসায়ও এর প্রভাব দেখা যায়, সানেমের জরিপ এই প্রথম এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছে। শিক্ষাদারিদ্র্য বেড়েছে, শিক্ষায় ব্যয় কমেছে, বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থায় বেশির ভাগই অংশ নিতে পারছে না, এমনকি বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা আগের শিক্ষাব্যবস্থার তুলনায় কতটা কম কার্যকর, সেটিও জানতে পারলে আরো ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন জাহিদ হোসেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা আয়-ব্যয় জরিপে দারিদ্র্য যেভাবে পরিমাপ করা হয়, খাদ্য ও অন্যান্য ভোগের তথ্য যেভাবে আলাদা পদ্ধতিতে সারা বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়, সানেমের জরিপে সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়নি। সে জন্য তিনি মনে করেন, এই দুই জরিপের তথ্য তুলনা করা ঠিক নয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
২৩ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার, ৮:৪২

সানেমের জরিপ অনুযায়ী দারিদ্র্যের যে হার নির্ধারিত হয়েছে তা সবসময় একই জায়গায় স্থির থাকবেনা। বর্তমানে করোনার বিরূপ প্রভাবে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মানুষ দরিদ্র হচ্ছে। যদিও করোনা ভাইরাস মহামারি আচমকা আমাদের উপর হামলে পড়েছে এবং তার তাণ্ডবে আমাদের শিক্ষা সংস্কৃতি অর্থনীতি পর্যুদস্ত ও বিপর্যস্ত হয়েছে, এমনকি পারিবারিক বন্ধন পর্যন্ত শিথিল হয়ে পড়েছে তবুও দারিদ্র্যের জন্য এক তরফাভাবে করোনাকে দায়ী করা ঠিক নয়। কারন, আমরা দেখেছি একদিকে করোনা ভাইরাসের মুহুর্মুহু সংক্রমণ, অন্যদিকে কিছু লোকের বিভৎস লালসার ছোবল। করোনার তাণ্ডবে কেউ স্বজন হারিয়ে বিমর্ষ বেদনা বিদুর। কেউ চাকরি হারিয়ে দিশেহারা। আবার কারো কামাই রোজগার লাটে উঠেছে। তারা গ্রামের বাড়িতে এখন অন্যের গলগ্রহ। দারিদ্র্যের যন্ত্রণার কশাঘাত কেউ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এমন একটা মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও ত্রাণ লুণ্ঠন থেমে থাকেনি। মিডিয়ার বদৌলতে জানা গেছে দুর্নীতিও আটকে থাকেনি। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার বিবেকবান মানুষের মনে প্রচন্ড একটা ধাক্কা দিয়েছে। আমাদের মানবিক গুণাবলির এমন ক্ষয়িষ্ণু ধারাও দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি করার জন্য দায়ী। ভাবতে অবাক লাগে কবি গুরুর বিখ্যাত কবিতার চরনটি স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমাদের জন্য এখনো প্রযোজ্য। "সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।" আমার মনে আছে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় উপস্থিত হন। ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যেও তাঁর দুই গণ্ড বেয়ে অবিরাম ধারায় বয়ে গেছে আনন্দাশ্রুর শ্রোত। তিনি সেদিন কবি গুরুর বিখ্যাত কবিতার এই চরনটি গর্ব করে উচ্চারণ করেছিলেন এবং কবিগুরুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন তাঁর তাচ্ছিল্যের বাঙালীরা আজ মানুষ হয়েছে। তারা পরাধীনতার নাগপাশ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। হায়রে জীবন যৌবন বিসর্জন দেয়া স্বাধীনতর স্বপ্ন দ্রষ্টা! হায়রে অকারান্তরালের নির্যাতিত স্বাধীনতার রূপকার! হায়রে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও স্বাধীকারের প্রশ্নে হিমালয়! জীবতাবস্থায়ও এই অমানবিক নরপশুগুলো তাঁকে দুদণ্ড শান্তি দেয়নি। আজো কি এদের অমানবিকতা তাঁর পবিত্র আত্মা স্পর্শ করছে!? আমাদের তা জানা নেই। তবে একটা কথা নিশ্চিত। বেঁচে থাকলে তিনি এদের কখনো ছাড় দিতেননা। বেঁচে থাকলে তিনি এদেরকে কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দিতেন দুর্নীতি কাকে বলে। ১৯৭৫ সালের ১১জানুয়ারী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ক্যাডেটদের সামনে ভাষন দিতে গিয়ে তিনি দুর্নীতিবাজদের সমূলে উৎপাটনের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। কিন্তু, জীবদ্দশায় সে সুযোগ আর হয়ে উঠেনি। তদুপরি তাঁর ছিলো বিশাল এক দয়ার্দ্র হৃদয়। তিনি ভালো বেসেছিলেন এদেশকে। শ্রেণি, বর্ণ, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষকে তিনি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়েছিলেন। তাই কঠোর হওয়া তাঁর চিরায়ত কোমল স্বভাবের পরিপন্থী ছিলো। সেজন্যে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর হতে পারেননি বটে, তবে কঠোর ভাষায় সাবধান করেছেন। কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি! আজকে করোনার ভয়াল আক্রমণে মানুষের দুয়ারে যখন দারিদ্র্যের হাতছানি, ঠিক এসময়টায়ও এরা ছোবল বসাতে পিছপা হয়নি। দুর্নীতি এবং বিদেশে অর্থ পাচারও দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত দুর্নীতি, অন্যায়, জুলুম, বৈষম্য এবং যাবতীয় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সততা, মানবিকতা, উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা।

অন্যান্য খবর