× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার

চিরিরবন্দরে পরীক্ষামূলক স্কোয়াশ চাষে বাজিমাত

বাংলারজমিন

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শনিবার

উত্তর আমেরিকা ও মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাষকৃত ফসল হচ্ছে স্কোয়াশ। এটি কুমড়ার একটি জাত। যা খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। স্কোয়াশ দেখতে অনেকটা শসা ও মিষ্টি কুমড়া আকৃতির। উচ্চ ফলনশীল জাতের এ সবজি ভাজি, মাছ ও মাংসের তরকারিতে রান্নার উপযোগী, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এ ছাড়া এটি সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়। স্কোয়াশ শীতকালীন সবজি। এখন স্কোয়াশ সবজি চাষ হচ্ছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে।
বিদেশি সবজি স্কোয়াশ ও ক্যাপসিকাম পরীক্ষামূলক চাষেই সফলতা পেয়েছেন তরুণ মাহাফুজুর রহমান। নিজের গ্রামের জমিতে বিদেশি এই সবজির ফলন কেমন হয় তা দেখতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছেন। চাষাবাদে ভালো ফলন হওয়ায় বিদেশি সবজি চাষের আগ্রহ বেড়েছে তার। মাত্র তিন মাসেই লাভের আশা তার। ইতিমধ্যে তার আবাদের স্কোয়াশ বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন। এতেই তার বিদেশি সবজি নিয়ে কাজ করার অদম্য ইচ্ছাও প্রবল হয়েছে। মাহাফুজুর রহমান (২৫) চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের জোত সাতনালা গ্রামের পূর্ব মণ্ডলপাড়ার মোকছেদ আলীর ছেলে। তার পিতাও একজন কৃষক।
সরজমিন দেখা গেছে, তরুণ চাষি মাহাফুজুর রহমান দিনাজপুর শহর থেকে বীজ সংগ্রহ করে প্রথম তার পিতার মাত্র ৬ শতক জমিতে স্কোয়াশ এবং ২ শতক জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। তাতেই ভালো ফলন আসে। চাষাবাদ শুরুর পর গত তিন মাসেই তার ক্ষেতে স্কোয়াশের ব্যাপক ফল এসেছে।’ পাশাপাশি রোপিত ক্যাপসিকামের গাছেও ফুল এসেছে।’ সে আরো জানান, ‘বিদেশি সবজির চাষ আমাদের এলাকায় সাধারণত দেখি না। অথচ চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত প্রচুর জমি আছে এ অঞ্চলে। নিয়ম মেনে চাষাবাদ করায় ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।’
তরুণ এই উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, ‘পরীক্ষামূলক চাষাবাদে তারা যে সকল সবজির চাষ করেছেন তার সবক’টিতেই আশাতীত ফলন এসেছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় পাইকারি বাজারে ১৫-১৬ টাকা দরে প্রতি পিস স্কোয়াশ বিক্রি করছেন। এ জমি থেকে সপ্তাহে ২-৩ বার করে স্কোয়াশ তুলছেন। প্রতিবারই কমপক্ষে ১০০ পিস করে স্কোয়াশ তুলেন। এ জমিতে চাষাবাদের শুরু থেকে ফলন আসা পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। এ পর্যন্ত সে ১০ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন।
অপরদিকে, একই ইউনিয়নের মানিকবাটি গ্রামের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়হরি রায় ২০ শতক জমিতে ব্রুকলি লাগিয়েছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। তিনি ওই জমিতে দেড় হাজার ব্রুকলির চারা লাগিয়েছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত তিনি ৫ হাজার টাকার ব্রুকলি বিক্রি করেছেন। এ ছাড়াও তিনি বাঁধাকপি, শসা, শিম, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া চাষ করছেন। এসব ক্ষেত তিনি বিষমুক্তভাবে ফসল চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, স্কোয়াশ সবজি জাতীয় ফসল। যা কুমড়া ও ধুন্দল জাতীয় ফসলের ক্রস। দেশের প্রচলিত কোনো সবজির এমন উৎপাদন ক্ষমতা নেই। স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন তিনি।

 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর