× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন

ফেসবুকে উত্তাপ, ঘরে বাইরে উদ্বেগ-প্রতিবাদ থেমে নেই মামলা

শেষের পাতা

তারিক চয়ন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, রবিবার

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে গত বছর মে মাসে আটক লেখক মুশতাক আহমেদ কাশিমপুর কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেলে সে রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়। পরদিন শুক্রবার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। শোকবার্তা আর তীব্র প্রতিবাদ এসেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকেও। কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কূটনীতিকরাও। দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকায় ছাপা হচ্ছে বিশেষ প্রতিবেদন।

মুশতাকের মৃত্যুর স্বচ্ছ তদন্ত চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এর মুখপাত্র নেড প্রাইস এক অফিসিয়াল টুইট বার্তায় এ কথা জানান। এর আগে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর ঢাকায় কর্মরত ১৩ রাষ্ট্রদূত এক যৌথ বিবৃতিতে মুশতাকের মৃত্যুর দ্রুত, স্বচ্ছ, স্বাধীন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারাসমূহ ও এর প্রয়োগে আমাদের সরকারগুলোর যে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানের প্রতি বাধ্যবাধকতার সঙ্গে এই আইনের সামঞ্জস্য সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অব্যাহতভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর ‘বাংলাদেশি রাইটার, ডিটেইনড ওভার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টস, ডাইজ ইন জেল’- শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: সরকারের সমালোচক, লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুতে দেশে ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সমালোচকরা বলেন, ভিন্ন মতাবলম্বীদের কণ্ঠকে রুদ্ধ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-সিপিজে’র এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র গবেষক আলিয়া ইফতিখার বলেন, “বাংলাদেশের কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে তাকে আটকানোই উচিত ছিল না। বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই মুশতাক আহমেদ কীভাবে মারা গেলেন তার তদন্তের অনুমতি দিতে হবে এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বারবার এবং অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।” আর আর্টিকেল-১৯ এর আঞ্চলিক প্রধান ফারুখ ফয়সাল বলেছেন, এই আইনটি রাষ্ট্র ও দলের কিছু মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য। এই আইন বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এটা যে একটা গণতান্ত্রিক দেশ, সেটা প্রমাণিত হচ্ছে না। এর পরিবর্তন ছাড়া গণতন্ত্র সুনিশ্চিত হবে না।

“ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আগে জেলে পুরতো, এখন খুন করছে”- শিরোনামে মন্তব্য কলাম লিখেছেন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ ফেসবুকে লিখেছেন, “... মুশতাক কীভাবে মারা গেছেন তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে তিনি রাষ্ট্রের হেফাজতে ছিলেন, তার দায়িত্ব নিয়েছিল সরকার- এই মৃত্যুর দায়- হত্যার দায় সরকারের...।” অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যখন প্রবর্তন করা হয়েছিল, তখনই এর অপব্যবহার হবে বলে সন্দেহ হচ্ছিল। দিনে দিনে সেই সন্দেহই বাস্তব হয়েছে। এর ব্যাপক অপপ্রয়োগ হচ্ছে। যাকে তাকে ধরা হচ্ছে, তুলে নেয়া হচ্ছে। জামিন দেয়া হচ্ছে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আর রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এই আইন যে বাতিল করা প্রয়োজন, তা লেখক মুশতাকের মৃত্যুতেই প্রমাণিত হয়।”

আইনটি বাতিল হওয়া তো পরের কথা, এটি প্রণয়ন হওয়াই উচিত ছিল না মন্তব্য করে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেছেন, “ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের বিষয়টি আর কোথাও নেই। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সরকার, রাজনৈতিক নেতা ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকে অপরাধ হিসেবে দেখার অর্থ হলো বাকস্বাধীনতা খর্ব করা। এ ধরনের আইন আছে এবং দেশে বাকস্বাধীনতা আছে এটা পরস্পরবিরোধী ধারণা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, “দেশে কথা বলার স্বাধীনতাকে সঙ্কুচিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আমাদের বুঝতে হবে, সরকারের সমালোচনা মোটেও কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ নয়।”

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন এর  সম্পাদক নঈম নিজাম বলেছেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিপক্ষে আমাদের অবস্থান শুরু থেকেই ছিল। এর বিরুদ্ধে আমরা প্রেস ক্লাবে সেমিনার করেছি, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করেছি, যা আগে কখনো হয়নি। শুধু তাই নয় আইনটি প্রণয়নের পর এর সংশোধনের জন্য আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির সঙ্গে দফায় দফায় বসেছি। আমরা বলেছি, আইনটি দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এই আইন গণমাধ্যম ও মুক্তচিন্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমাদের অবস্থান একই আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি আইনটির সংশোধন চাই।’

এদিকে ঘরে-বাইরে এতো আলোচনা-সমালোচনা, উদ্বেগ-প্রতিবাদের মধ্যেই মৃত মুশতাক আহমেদকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় খুলনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রুহুল আমিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রুহুল আমিন শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শনিবার, ৫:২১

Digital security আইন নিয়ে বিএনপি কখনো জোরালো প্রতিবাদ করতে চায় না । কারণ তারা ক্ষমতায় গেলে তা প্রয়োগ করতে চায়। এখন যা করছে সবার সাথে, না করলে মুখ থাকবে না তাই। তারা কখনো ক্ষমতায় গেলে এই কালো আইন তুলবে না সব দলই সুবিধাবাদী।

অন্যান্য খবর