× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার

সিলেটে পাপলুকে ঘিরে নানা জল্পনা

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে ঘিরে নানা জল্পনা সিলেটে। যুবদলের ভেতরেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর। উপজেলা ও পৌরসভার ১৮টি ইউনিট গঠনকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের ঘটনা রটছে নেতাকর্মীর মুখে মুখে। এই অবস্থায় সিলেটে নিজ দলের আরেক যুবদল নেতার দায়ের করা মামলার আসামি হলেন তিনি। অবশ্য এই মামলা রেকর্ডের আগেই তিনি দেশ ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি দিয়েছেন। তবে- মামলার কারণে এখন নতুন করে সিলেটে আলোচিত হচ্ছেন সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। কারণ মামলায় পাপলুর বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রায় ১৯ বছর পর গত বছর গঠন করা হয়েছে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি।
এ নিয়ে সিলেটে নিজ দলের ভেতরেই ক্ষোভের অন্ত ছিল না। পরে বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর নেতৃত্বে সিলেট জেলা যুবদলের ১৮ ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গঠন নিয়ে কোম্পানীগঞ্জ, বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, গোয়াইনঘাটসহ কয়েকটি ইউনিটে টাকার খেলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গত দুই মাস ধরে পাপলুর কর্মকাণ্ড নিয়ে সরব নেতাকর্মীরা। তবে- কর্ণপাত না করে পাপলু তার মতো করেই জেলা যুবদলের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। পাপলুর বিরুদ্ধে গত সোমবার সিলেটের কোতোয়ালি থানায় আরেক যুবদল নেতা সালাহউদ্দিন রিমন চুরি, ছিনতাইসহ নানা অভিযোগে মামলা করেছেন। এই মামলায় পাপলু ছাড়াও আসামি করা হয়েছে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন মানিক ওরফে কালা মানিককে। সালাহ উদ্দিন রিমন সিলেট জেলা যুবদলের পদবিধারী নেতা না হলেও তার পরিচিতি রয়েছে। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরপর দুইবার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কোতোয়ালি থানায় গত সোমবার মামলা গ্রহণ করা হলেও ঘটনা ১৪ই ফেব্রুয়ারির। মামলার এজাহারে সালাহ উদ্দিন রিমন জানিয়েছেন- পাপলু ও মানিকের সঙ্গে তার পূর্ব থেকে পরিচয়। গত এক মাস ধরে নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে পাপলু ও মানিকের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি নগরীর নবারোডস্থ নিরাময় ক্লিনিকের সামনে যান। এমন সময় সেখানে সিদ্দিকুর রহমান পাপলু ও আনোয়ার হোসেন মানিক ওরফে কালা মানিকের নেতৃত্বে দেশি অস্ত্র, লোহার রড, স্টিলের পাইপ, কাঠের রোল নিয়ে তার ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে সিদ্দিকুর রহমান পাপলু হাতে থাকা কাঠের রোল দিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লোহার রডসহ দেশি অস্ত্র দিয়ে অকথ্যভাবে পেটায়। এদিকে- ঘটনার সময় আনোয়ার হোসেন মানিক তার পকেটে থাকা নগদ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা ও সিদ্দিকুর রহমান পাপলু মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এদিকে- মারধরের একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা চলে যায়। পরে লোকজন তাকে প্রথমে নিরাময় পলি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে- মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে- এরই মধ্যে তারা খবর পেয়েছেন আসামি সিদ্দিকুর রহমান পাপলু বিদেশে চলে গেছে। মামলার তদন্ত চলছে। যুবদল নেতা সালাহ উদ্দিন রিমন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিদ্দিকুর রহমান পাপলু ও আনোয়ার হোসেন মানিক তাকে পরিকল্পনা করে ওই এলাকায় ডেকে নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এর আগেও ওরা একাধিক বার তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। ঘটনার পর পাপলু নিজেকে রক্ষা করতে লন্ডনে চলে যায়। সে দেশে বিতর্কিত ঘটনা ঘটিয়ে প্রতিবারই লন্ডনে পাড়ি জমায়। এর আগে একটি নারী নির্যাতন মামলার ঘটনা ঘটিয়ে সে লন্ডনে পালিয়েছিল। তবে- জেলা যুবদলের সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর বলয়ের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- মামলার বাদী সালাহ উদ্দিন রিমনের ওপর হামলা ও মামলায় আসামি দেয়ার বিষয়টি রহস্যময়। বিষয়টি নিয়ে তারা পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তারা।
 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর