× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ৯ মে ২০২১, রবিবার, ২৬ রমজান ১৪৪২ হিঃ
লাল সন্ত্রাস বই থেকে

যে কারণে কাজের মেয়েকে বিয়ে করেন সিরাজ সিকদার

বই থেকে নেয়া

স্টাফ রিপোর্টার
২২ মার্চ ২০২১, সোমবার
সর্বশেষ আপডেট: ২:২১ অপরাহ্ন

সিরাজ সিকদারের জন্ম ১৯৪৪ সালে, শরীয়তপুর জেলার ভেদেরগঞ্জ উপজেলার লাকার্তা গ্রামে। শরীয়তপুর একসময় মাদারীপুরের অংশ ছিল। বরিশাল জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তিনি ১৯৬৩ সালে ঢাকায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কলেজে থাকা অবস্থায়ই তিনি ছাত্রসংগঠনের কাজে কিছুটা জড়িয়ে ছিলেন। হয়েছিলেন কলেজ ছাত্রসংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক। একই সংসদে ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ, যিনি পরে গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠেন।

‘লাল সন্ত্রাস: সিরাজ সিকদার ও সর্বহারা রাজনীতি’ শীর্ষক বইতে এসব কথা লিখেছেন গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। বাতিঘর থেকে প্রকাশিত বইটিতে আরো লেখা হয়েছে, বুয়েটে পড়ার সময় সিরাজ সিকদার পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সংগঠক হন। ১৯৬৫ সালে সোভিয়েত ও চিনা লাইনে ছাত্র ইউনিয়ন বিভক্ত হলে তিনি চিনপন্থী অংশের সঙ্গে থাকেন।
ওই সময়ে তার মনোজগতে বড় রকমের বদল ঘটে। এ প্রসঙ্গে দুটি ঘটনার উল্লেখ করা যায়, যার মাধ্যমে তার ব্যক্তিমানস ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় মেলে।

সিকদারের উপলব্ধি হয়, মধ্যবিত্তসুলভ সনাতন ধ্যানধারণার খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ‘আমি’ শব্দের অহংবোধ ছাড়তে হবে। জীবনে তিনি যত ছবি তুলেছিলেন, যেসব ছবি তার সংগ্রহে ছিল, সব পুড়িয়ে ফেললেন। গোগ্রাসে গিলতে থাকলেন মাও সে তুংয়ের রচনা। সমাজের নানা অংশের মানুষের মধ্যে বৈষম্য তাকে পীড়িত করল।
সিকদার তখন পড়েন থার্ড ইয়ারে। ঈদের ছুটিতে গেছেন গ্রামের বাড়ি। তার মা ছিলেন সামন্ত পরিবারের মেয়ে। খুব দাপুটে। বাড়িতে অল্পবয়সী একটা কাজের মেয়ে। বয়স পনেরো-ষোলো হবে। নাম রওশন আরা। ওই গাঁয়েরই মেয়ে। আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে। ঈদের দিন ভোরবেলা থেকে কাজ করছে মেয়েটি। দুপুর হয়ে গেছে। মেয়েটির কাজে বিরাম নেই। দেখে সিকদারের খারাপ লাগল। মাকে বললেন, মেয়েটাকে তুমি সারা দিন খাটাচ্ছ কেন? মা যে জবাব দিলেন সিকদারের তা পছন্দ হলো না।

দুপুরের পর মেয়েটি আর নেই। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু একইগ্রামে বাড়ি, সবাই ভাবল হয়তো বাড়িতে গেছে বা অন্য কারও বাড়িতে গিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু তার ফিরতে এতো দেরি হচ্ছে কেন? সিকদারের মা বেশ বিরক্ত। তিনি চিন্তায় পড়ে গেলেন।

বিকেল গড়িয়ে যায়। সূর্য ডুবুডুবু। পশ্চিমের আকাশ লাল হয়ে গেছে। ঠিক এ সময়ে মেয়েটিকে নিয়ে হাজির হলেন সিকদার, ‘ মা, এই যে তোমার পুত্রবধূকে নিয়া আসছি। এখন তাকে ইচ্ছামতো খাটাও।’
সিকদার আসলে কী করেছেন? তিনি মেয়েটিকে নিয়ে চলে গেছেন শহরে, কাজী অফিসে। সেখানে তাকে বিয়ে করেছেন। এখন সে আর কাজের মেয়ে নয়, বাড়ির বউ।

ঈদের ছুটি শেষ। রওশন আরাকে নিয়ে সিকদার চলে আসেন ঢাকায়। তিনি ছিলেন কায়েদে আজম হলের (এখন তিতুমীর হল) আবাসিক ছাত্র। আজিমপুরে একটা বাসা ভাড়া নিলেন তিনি। স্ত্রীকে সেখানে রাখলেন। তিনি থাকতেন হলে। মাঝেমধ্যে বাসায় এসে থাকতেন।

১৯৬৫ সালের ১০ জুন কায়েদে আজম হলের ছাত্রসংসদের নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে সিরাজ সিকদার সহসভাপতি হন। ২-৩ জুন ১৯৬৬ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনি সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম বিভাগ পেয়ে পাস করেন সিরাজ সিকদার। ছাত্রজীবন শেষ। শুরু আরেক জীবন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
nasir uddin
২ মে ২০২১, রবিবার, ১:৫৫

A confused leftist and a confused politician. He killed as many of his people as many JRB killed. He very successfully brought divisions within left politics including his own party. We have to asses his output in Bangladesh left politics which to my opinion, is less than zero. A failed politician with no success story.

SJ
২৫ এপ্রিল ২০২১, রবিবার, ১১:২৫

হতে পারে ঐ গল্পের কিছু পূর্বাদ্যয় ছিলো যাহা লুকায়িত। সম্ববত সিরাজ সিকদার রওশন আরার প্রেমে হাবুডুবো খাচ্ছিলো যাহা রওশন আরাও জানতো ।

Dr.Md.Kabiruzzaman
৫ এপ্রিল ২০২১, সোমবার, ১২:১৬

ছাত্রজীবন শেষ। শুরু আরেক জীবন।

Noor Muhammed
২৯ মার্চ ২০২১, সোমবার, ৪:২২

Siraj Sikder Chey for Bangladesh

ইয়াসীন খান
২৮ মার্চ ২০২১, রবিবার, ৩:৫০

সিরাজ শিকদারের মৃত্যুর তদন্ত হওয়া চাই।। খুনীরা জীবিত থাকলে শাস্তি চাই, মারা গেলে মরণোত্তর বিচার চাই।

Masood chowdhury
২৫ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১১:৩২

A exceptional fighter. A true leftist.

Shadhin
২২ মার্চ ২০২১, সোমবার, ১১:০৬

Genuine leader...... Now a day you could not find like as Seraj Solder... Salute Boss...

Muquit Ahmed
২২ মার্চ ২০২১, সোমবার, ১১:২৪

Siraj Sikdar was a murderer and atheist . He killed so many innocent people

সৌম্যজ্যোতি ঘোষ
২২ মার্চ ২০২১, সোমবার, ৯:৫১

ভারতে 1964 সালে কমিউনিষ্ট পার্টি বিভাজিত হয়। চিন আর সোভিয়েত লাইন বিরোধে। ওপার বাংলাতে 1965 সালে একই মতপার্থক্য। ইতিহাসটা জানালে শিখতে পারি।

Rana
২২ মার্চ ২০২১, সোমবার, ৬:১২

স্যালুট এই বিপ্লবী মহাত্মাকে।

Md.Shamsul Alam
২২ মার্চ ২০২১, সোমবার, ৬:১০

Leader SIraj Sikder is greater than Mr.Sk Muzib who killed him . We honour Siraj Sikder very much . Public also like him very much.

মনিরা
২২ মার্চ ২০২১, সোমবার, ৩:০০

সেলুট বাম রাজনীতি,আর এখন সব টাকার কুমির,নকল বামদের নদীতে নিক্ষেপ করা হোক

এ,টি,এম,তোহা
২২ মার্চ ২০২১, সোমবার, ২:১৯

আদর্শ প্রচারের আগে নিজকেই সে আদর্শ ধারণ করতে হয়। এতদিন সিরাজ সিকদার সম্পর্কে যা জেনেছি তা ছিল সীমিত। এই একটি ঘটনাই প্রমান করে শ্রমজীবি মানুষের জন্য রাজনীতি করে ইনু-রাশেদ খানদের মত বুর্জোয়া বিলাসী জীবন যাপন করতেন না সিরাজ সিকদার। স্যালুট এই বিপ্লবী মহাত্মাকে।

অন্যান্য খবর