× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২১, শনিবার, ১৩ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ
রাজনীতি

পাড়ি দিতে হবে আরও পথ

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী

মহিউদ্দিন আহমদ
২৬ মার্চ ২০২১, শুক্রবার

ব্যক্তির জীবনে পঞ্চাশ বছর অনেক সময়। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে এ সময়ের মধ্যেই একজন মানুষ তার সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রেখে যেতে পারেন এবং এরপরও তা অব্যাহত থাকতে পারে।

কিন্তু একটি জাতির জীবনে পঞ্চাশ বছর কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ? একটি জনগোষ্ঠী যদি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলে তাহলে তা এগিয়ে যায় নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে। এই অগ্রযাত্রা কখনো কখনো সরলরেখায় চলে। আবার কখনো তাকে নানান খানাখন্দ পেরোতে হয়।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির বয়স এখন পঞ্চাশ। পঞ্চাশে দাঁড়িয়ে যদি আমরা পেছনে ফিরে তাকাই, তাহলে অনেক জিজ্ঞাসার মুখোমুখি হতে হয়। আমরা কি যথেষ্ট এগিয়েছি? আমরা কি আরও অনেক দূর যেতে পারতাম? কিংবা আমরা তো অনেকটা পথই পেরিয়ে এসেছি। কী ছিলাম, এবং কী হয়েছি, তার হিসাব কষলেই বোঝা যায় কতটা পরিবর্তন হয়েছে।

আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে ভাবতে পারি, যেভাবে এতদিন চলেছি, সেভাবেই কি আগামী দশকগুলো পার হবো? আমরা কি উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে পারবো, না কি বার বার হোঁচট খেতে হবে, যেমনটি হয়েছে গত পাঁচ দশক ধরে?

এসব প্রশ্নের কোনো সরল উত্তর নেই। দুনিয়ার প্রতিটি দেশ, প্রতিটি জনগোষ্ঠী স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
এদের মধ্যে নিক্তি ধরে তুলনা চলে না। তারপরও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানান সূচক ব্যবহার করে আমরা তুলনামূলক আলোচনা করি- আমরা কি অন্যদের চেয়ে ভালো আছি, না খারাপ। এখানে আরেকটি প্রশ্ন উঠতে পারে, তুলনা করবো কার সঙ্গে? ফিনল্যান্ড না বুরুন্ডি?

আমাদের জগৎটা অনেকাংশেই দক্ষিণ এশিয়াকেন্দ্রিক। এক সময় আমরা একই দেশের নাগরিক ছিলাম। এটা ভেঙে এখন তিন দেশ হয়েছে। ভাগাভাগির কারণেই অন্য শরিকদের সঙ্গে তুলনাটা সামনে চলে আসে। তাই নানান সূচকের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বলি, আমরা পাকিস্তানের চেয়ে ভালো আছি, কিংবা ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেছি। তখন এক ধরনের অনুভূতি হয়, সাফল্যের অনুভূতি।

আমাদের পরে স্বাধীন হয়ে ভিয়েতনাম (বিশেষ করে দক্ষিণ ভিয়েতনাম) নানা ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নতির চিহ্ন রাখছে। দক্ষিণ আফ্রিকা বর্ণবাদমুক্ত হয়েছে আরও পরে। আমরা অনেক সূচকে তার ধারে কাছেও নেই। তখনই চিন্তাটা মাথায় ঢোকে- আমরা কি আরও ভালো করতে পারতাম না?

এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তার নজির পৃথিবীতে বিরল। নিক্তির এক পাল্লায় কোটি কোটি মানুষের রক্ত, আর্তনাদ আর হাহাকার রেখে অন্য পাল্লায় অগ্রগতির ঝুলিটা রাখলে কোন পাল্লাটা বেশি ভারি মনে হবে, এটা নির্ভর করবে আমি কোন অবস্থান থেকে সেটি মাপছি। যারা বিলিওনিয়ার হয়েছেন এবং যারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন, তাদের পর্যবেক্ষণ এবং অনুভূতিটা একরকম হবে না। রাষ্ট্র হয়তো বলবে, আমরা সব সূচকে উড়াল দিয়েছি। কিন্তু ব্যক্তি-অনুভূতিতে ফারাক থাকবেই। এখানে গড় করা চলে না। আপনার মাসিক আয় দুই কোটি টাকা আর আমার দশ হাজার। গড় করলে আমাদের প্রত্যেকের আয় দাঁড়ায় এক কোটি পাঁচ হাজার টাকা। এভাবেই আমরা হিসাব করতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি।

তারপরও বলবো, আমরা একটা দেশ পেয়েছি। এ দেশের শতকরা নিরানব্বই ভাগ মানুষ একই নৃ-গোষ্ঠীর, একই ভাষায় কথা বলে। এরকম জাতিরাষ্ট্র পৃথিবীতে খুব বেশি নেই। তাই এটি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হওয়ার কথা ছিল। সেটি হয়নি। কেন হয়নি, তা আমাদের ভেবে দেখা দরকার। আমাদের মধ্যে যে সম্ভাবনা ছিল বা আছে, তা কাজে লাগানোর দায়িত্ব আমাদেরই। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজের অক্ষমতা ঢাকার সুযোগ নেই।

আমাদের আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। বিশ্বপরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ঘোলাটে আর অনিশ্চিত। অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। আছে অনেক ঝুঁকি। এগুলো সামলানোর সক্ষমতা তৈরি হলেই আমরা স্বস্তি পাবো। সামনের পথটা সহজতর হবে।

লেখক-গবেষক

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর