× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার

মাদকে সয়লাব দৌলতদিয়া

বাংলারজমিন

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা
৭ এপ্রিল ২০২১, বুধবার

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ঘাটের দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীসহ চারপাশ এখন মাদক ব্যবসায় সয়লাব। গাঁজা, ইয়াবা-হেরোইনসহ এমন কোনো মাদক নেই যা দৌলতদিয়ায় পাওয়া যায় না। আর এই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। মাঝে আবগারিসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে চিহ্নিত ব্যবসায়ীরা।
দৌলতদিয়ার মাদক সম্রাজ্ঞী নামে পরিচিত পতিতাপল্লীর গাঁজা ব্যবসায়ী মুন্নি ফরিদ স্থানীয় প্রশাসনের তোয়াক্কা করেন না। তিনি দিনে কয়েক কেজি গাঁজা বিক্রি করেন। এ ব্যাপারে মুন্নি বলেন, আমার বিরুদ্ধে নিউজ করে লাভ নেই, আমি গাঁজা বিক্রি করবোই। পরোয়া করি না জেল-জুলুম-মামলার।
মাদক ব্যবসায়ী নয়ন বলেন, আমি সকলকে ম্যানেজ করেই গাঁজা বিক্রি করছি। দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ওয়ার্ড সামসু মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোতালেব বিগত সময়ে মাদক ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছেন। তবে এখন আড়ালে থেকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, জিরো থেকে হিরো হওয়া মাদক ব্যবসায়ী মোতালেব এবং তার ছেলে নাজমুলের দাপটে এলাকাবাসী তটস্থ। আরেক ইয়াবা সম্রাট শহীদ আম্বিয়া ১০-১২টা মামলা মাথায় নিয়ে হরহামেশাই বিক্রি করে যাচ্ছেন ইয়াবা। বারবার গ্রেপ্তার হলেও থেমে নেই তার মাদক ব্যবসা। সামসু মাস্টারপাড়ায় আরেক বাসিন্দা নাসিরের পরিবারের সবাই এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে নাসির বলেন, আগে আমরা বেশি ইয়াবা বিক্রি করতাম। এখন অল্প অল্প বিক্রি করি। পতিতালয়ের আয়ুব কাকুলি এখন দৌলতদিয়ায় পাইকারি ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদক বিক্রির নির্ভরযোগ্য স্থান দৌলতদিয়া পোড়াভিটা। এখানে হরহামেশাই বিক্রি হয় হেরোইনসহ, সব ধরনের মাদক। হেরোইন বিক্রেতা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে সাথী, বেবি, রহিমা বুড়ি, ওসমান, রোজি আরিফ, লাইলি ইব্রাহিম, শাহনাজ সুবান। এরা জনসমক্ষেই হেরোইন বিক্রি করেন। বারবার এদেরকে গ্রেপ্তার করা হলেও মাদক ব্যবসায় ভাটা পড়েনি তাদের।
এ ব্যাপারে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ধনঞ্জয় মণ্ডল বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়ালন্দ ও দৌলতদিয়ায় মাদক কারবার চলছেই। আমরা নিয়মিতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক সেবনকারী ও বিক্রয়কারীকে জেল-জরিমানা করছি। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল তায়েরির জানান, আমরা মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর