× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৩ মে ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৩০ রমজান ১৪৪২ হিঃ

কাশ্মীরকে কাছে টানছে তুরস্ক

দেশ বিদেশ

অনলাইন ডেস্ক
৮ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার

বিশ্বে খিলাফত বা ইসলামপন্থী সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে তুরস্ক। এ লক্ষ্য পূরণে বিশ্বস্ততা অর্জন করতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত অঞ্চল কাশ্মীরের মুসলিমদের জয় করতে চাইছে দেশটি।

তুরস্কে সম্প্রতি গৃহীত ইসলামপন্থী পররাষ্ট্র নীতি কার্যকরের জন্য দেশটিকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ধর্মনিরপেক্ষ , পশ্চিমা ধারাভুক্ত হয়ে উঠেছে তুরস্ক। তবে ইদানিং তুরস্কে যেসব রাজনৈতিক দলের উত্থান হচ্ছে তার বেশিরভাগই ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ক নীতিতে বিশ্বাসী নয়। এ দলগুলোর মধ্যে তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের একেপিও (জাস্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) রয়েছে।

ভারতের ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউসানাস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা অভিনব পান্ড ইপোক টাইমসকে জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত তিনবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছেন এরদোয়ান। তার মেয়াদে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘এরদোয়ান যতই সামনে অগ্রসর হচ্ছেন ততই তুর্কির রাষ্ট্রশাসনব্যবস্থা থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার উপাদানগুলি ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে এবং ধর্ম ক্রমে শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। যা মূলত অটোম্যান খিলাফত অথবা অটোম্যান গৌরবের পুনর্জাগরন, যার সুবাদে তিনি নিজেকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন।’

আর ঠিক এসময়ে এসে তুরস্কের ইউরোপিয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেয়ার স্বপ্নটিও আর নেই। আর এ কারণেই ইইউর কাছে করুনা প্রার্থনার চেয়ে তারা কেনই বা অটোম্যানদের গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাইবে না। একেবারে ধর্মীয় শেকড়ে পৌঁছানোর মাধ্যমেই অটোম্যান গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে তুরস্ক। পান্ড আরো জানিয়েছেন, কোন সন্ত্রাসী সংগঠন পরিচালনাকারী ইসলামপন্থী চরমপন্থীর তুলনায়  গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত নেতা এরদোয়ানের খলিফা হিসেবে গ্রহনযোগ্যতা বেশিই হবে। তিনি জানেন যে তুরস্কের মতো একটি দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা তিনি, যে দেশের বিশাল সামরিক শক্তি অথবা ক্রমবর্ধমান পরাশক্তি রয়েছে, আছে মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠী, উন্নত অবকাঠামো এবং অটোম্যান সাম্রাজ্যের গৌরবময় ইতিহাস।’

তবে ভারত ও পশ্চিমাদের মধ্যে ইসলামভীতির কারণে মুসলিমদের মধ্যে অস্তিত্ব সংকটের ভয় সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আর এ কারণেই মুসলিমরা এখন বিকল্প ধরনের নের্তৃত্ব খোঁজছে , যার মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা ও উদ্দীপনা থাকবে। যা কিনা এরদোয়ানের মধ্যে রয়েছে। ফলে বিশ্ব উম্মাহর নেতা হিসেবে গৃহীত হওয়ার সব সুযোগই তার রয়েছে। আর এরদোয়ান যদি তা হতে পারে বিশ্বে তিনি বিশাল ক্ষমতাধর হয়ে উঠবেন।’
আর সব কারনেই দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে কাশ্মীর নিয়ে তুরস্কের আগ্রহ রয়েছে।

কাশ্মীর নিয়ে তুরস্কের আগ্রহ:
বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে নিজেদের নেতৃত্বের অধীনে নিয়ে আসতে চাইছে তুরস্ক, তবে একই প্রত্যাশা নিয়ে থাকা আরব বিশ্ব এক্ষেত্রে তুর্কীর লক্ষ্য পূরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এ প্রসঙ্গে পান্ড বলেন, ‘ইসলামিক বিশ্বে নের্তৃত্ব পাওয়ার আঞ্চলিক লড়াইটি ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে নয়। এটি মূলত তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে চলছে।’
দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের শক্তিশালী ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক  এবং ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে। আর এ কারণেই দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমরা আরব বিশ্বের মুসলিমদের তুলনায় এরদোয়ানের নের্তৃত্বের প্রতি বেশি আগ্রহী হবে।

পান্ড এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এরদোয়ানের দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের সমর্থন আদায়ের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উপায় কি? প্রথমত, ভারতের ইসলামিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সামনে নিয়ে আসা এবং সমাধানের চেষ্টা করা।’ এরদোয়ানেরও এ ধরনের কৌশল রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় কাশ্মীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এরদোয়ান বিষয়টি বোঝতে পেরেছেন। মুসলিম বিশ্বে আস্থা অর্জনের অংশ হিসেবে তিনি কাশ্মীর ইস্যুটি আন্তর্জাতিকিকরন করে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের মন জয় করতে চাইছেন। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমরা কাশ্মীরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার কারণে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ততটা গুরুত্ব দিতে পারে না।

কাশ্মীরে তুরস্কের কার্যক্রম:
গত চার থেকে পাঁচ বছরে কাশ্মীর নিয়ে তুরস্কের আলোচনা ও কার্যক্রম অনেক বেড়েছে। এখানে দেশটির কার্যক্রম বহুমাত্রিক। যারমধ্যে আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম তৈরি , নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যম চ্যানেলগুলো ব্যবহার করে কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে তথ্যযুদ্ধে সহযোগিতা করা উল্লেখযোগ্য।

ইন্ডিয়া টুডে’তে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুর্কির এসএডিএটি (একটি ছায়া সামরিক সংগঠন) কাশ্মীরে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও এ দাবিকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে জানিয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সাকির ওজকান তরুনলার।

গত বছর দ্য ওয়্যারকে দেয়া সাক্ষাতকারে ভারতের ফরেন ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সাবেক প্রধান এ.এস. দোলাত ‘উদ্বেগের’ সঙ্গে জানিয়েছিলেন, ৫০ জন স্বশস্ত্র ব্যাক্তি পাকিস্তান থেকে কাশ্মীরে প্রবেশ করেছে।

২০১৬ সালে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার আগে হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার বুরহান ওয়ানি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি সরাসরি বলেন, তিনি চান কাশ্মীর একটি ইসলামিক খিলাফত হয়ে উঠুক।

পান্ড বলেন, ‘ এরপরই পাকিস্তান কাশ্মীরের অভ্যন্তরে ভয়াবহ সহিংসতার সৃষ্টি হয়, আর এ জন্য পাকিস্তানের আইএসআই ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সরবরাহ করেছিলো।’ এক্ষেত্রে ইন্ডিয়া টুডের একটি অপারেশনের উল্লেখ করেন পান্ড। সেখানে ভিডিওরেকর্ডে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার স্বীকার করেন অরাজকতা সৃষ্টির জন্য পাকিস্তান তাদের অর্থ দিয়েছে। পরবর্তীতে তুরস্ক এই সহিংসতা ও প্রাণহানির খবর বিশ্বব্যাপি  ছড়িয়ে দিলেও এর পেছনের ঘটনাগুলো চেপে যায়। এক্ষেত্রে তুরস্ককে পাকিস্তানের কট্টর সমর্থক হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন কাশ্মীরের হিজবুল মোজাহিদিনকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, তখন তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে এমন ২০ ব্যাক্তির তালিকা প্রকাশ করে। এ তালিকায় বরসি জনসন, বার্নি স্যান্ডার্স এবং ইভাঙ্কা ট্রাম্পের নাম রয়েছে।

২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরকে সীমিত স্বায়ত্তশাসন নিয়ে সংবিধানের ৩৭০ আর্টিকেল  যুক্ত করলে কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্কের কণ্ঠ আরো দৃঢ় হয়ে উঠে। রাজনৈতিকভাবে পুনর্নগঠিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে জাতিসংঘের সধারন পরিষদে কাশ্মীর ইস্যুটি উপস্থাপন করেন এরদোয়ান এবং বিষয়টিতে গুরুত্ব না দেয়ায় তিনি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সমালোচনাও করেন।

এছাড়া ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান পার্লামেন্টে যৌথ অধিবেশনে কাশ্মীর ইস্যুটি উপস্থাপন করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে কাশ্মীরের ভাই ও বোনেরা নির্যাতিত হচ্ছে। সম্প্রতি গৃহীত কিছু একতরফা পদক্ষেপে তাদের এ দুর্দশার মাত্রা আরো বেড়েছে। বর্তমানে কাশ্মীর ইস্যুটি আপনাদের (পাকিস্তানি) কাছে যেমন আমাদের কাছেও তেমন।’
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গিয়েছে, সীমান্ত নজরদারি এবং কাশ্মীরে অস্ত্র দেয়ার জন্য তুরস্কের কাছে ড্রোন চেয়েছে পাকিস্তান। পান্ড এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি শুনেছি কাশ্মীরে বিভিন্ন জিনিস ফেলার জন্য অতি উচ্চমানের ড্রোন ব্যবহার করছে পাকিস্তান। জিনিসপত্র ফেলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এসব ড্রোন উধাও হয়ে যাচ্চে।’ পাকিস্তানের এ ধরনের ড্রোন তৈরির সক্ষমতা নেই। এগুলো চীন, রাশিয়া অথবা তুরস্ক থেকে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া তুরস্কের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় কাশ্মীরের শিক্ষার্থীদের জন্য আকষর্ণীয় স্কলারশীপের ব্যবস্থা রয়েছে। এই শিক্ষার্থীদের সেখানে মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং এমনকি ভালো ড্রোন ও যুদ্ধাস্ত্র তৈরির মতো প্রযুক্তিগত শিক্ষাও দেয়া হয়।

সূত্র: ইপোক টাইমস

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর