× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৫ মে ২০২১, শনিবার, ২ শওয়াল ১৪৪২ হিঃ

নতুন কমিটি নিয়ে জুড়ী আওয়ামী লীগে ক্ষোভ

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে
১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার

জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগে নতুন কমিটিতে বিতর্কিতরা স্থান পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে। দলের নিবেদিতরা বঞ্চিত হয়েছেন। এ অভিযোগে ক্ষোভ ও দ্বন্দ্ব বাড়ছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের তরফে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে- ওই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন রাজাকার, বিএনপি, জামায়াত পরিবারের সন্তান, নব্য আওয়ামী লীগারও। জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর গঠন করা হয় মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। দলের ত্যাগীদের বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করায় নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ১২ই অক্টোবর জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে সভাপতি পদে একক প্রার্থী থাকায় বীরমুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেনকে সভাপতি এবং কাউন্সিল ছাড়াই ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক আহমদকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। সে সময় সাধারণ সম্পাদক পদের  অন্য প্রার্থীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এর প্রায় দেড় বছর পর চলতি লকডাউনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশিত হয়। ওই কমিটি দেখে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই কমিটি নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে নানা আলোচনা-সমালোচনা করে পোস্ট দিচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, ৭১ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটিতে সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত রয়েছেন ৪ জন। এর মধ্যে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন এমনও আছেন ১ জন। জামায়াতের আছেন একজন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেনের স্ত্রী শাহানা চৌধুরীকে করা হয়েছে শিক্ষা ও মানব সম্পদবিষয়ক সম্পাদক। তার ভাতিজা সাবেক যুবদল নেতা জাহেদ হোসেন তাজিনকে করা হয়েছে সদস্য। উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদের স্ত্রী শিরীন আক্তারকে করা হয়েছে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং স্ত্রীর বড় ভাই (সম্বন্ধী) শাহীন আহমদকে করা হয়েছে সদস্য। তিনি ছাত্রজীবনে সরাসরি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা যুবলীগের রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার পরও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে রিংকু রঞ্জন দাসকে। মাত্র দেড় বছর আগে ঘোষিত হওয়া (পূর্ণাঙ্গ কমিটি) উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আবদুস সাত্তারকে করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অপর সহ-সভাপতি শরদেন্দু দাস শেখুকে দেয়া হয়েছে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মামুনুর রশীদ সাজু, সদস্য জমসেদ আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক শেখরুল ইসলামকেও করা হয়েছে সদস্য। একই ব্যক্তি যুব সংগঠন এবং অভিভাবক সংগঠনে থাকার বৈধতা নেই আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের গঠনতন্ত্রে- এমনটি বলছেন অভিযোগকারীরা। সিনিয়র নেতা মহান মুক্তিযুদ্ধে পঙ্গুত্ব বরণকারী আবদুস শহীদ চৌধুরী খুশিকে করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক। অতীতে বিএনপি, জামায়াতের সঙ্গে মোকাবিলা করে আসা ত্যাগী নেতাদের অসম্মানজনক করে রাখা হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম কাজল গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কোন মাপকাঠিতে পদ-পদবি প্রদান করা হয়েছে তা কারো বোধগম্য হচ্ছে না।’ রাজনৈতিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বয়স ও মেধায় পিছিয়ে থাকা অনেককেই অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে। আবার তুলনামূলক যোগ্য ও অভিজ্ঞ অনেককে কম গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রদান করা হয়েছে। এটা সুস্থ রাজনীতিচর্চার লক্ষণ নয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাবেক সভাপতি গোপিকা অধিকারী গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ করে বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। সাবেক এমপি মরহুম তৈমুছ আলীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের দুর্দিনে সব সময় মাঠে ছিলেন। অথচ জীবনের শেষ সময় তাকে সদস্য পর্যন্ত রাখা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, একটা সিন্ডিকেট তাদের নির্দিষ্ট লোকজন দিয়ে কমিটি করেছে। কমিটিতে ত্যাগী, পরীক্ষিত অনেককে বাদ দেয়া হয়েছে। যুবলীগের পদধারী নেতাদের আওয়ামী লীগে না এনে তৃণমূল থেকে নেতা বানানো যেত। কিন্তু নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সে সুযোগ দেয়া হয়নি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, কাউন্সিলের সময় ভোট না দিয়ে গ্রুপিং কমিটি করা হয়েছিল। সে সময় ভোট দিলে তিনি ১২ আনা ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক হতেন। সেই গ্রুপিং বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাকে ২নং সাংগঠনিক করা হয়েছে অথচ তার কর্মীদেরকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ অনেককে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, সাবেক এমপি মরহুম তৈমুছ আলীর পুত্র পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবের হাসান জেবলু বলেন, কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত ছিল উপজেলার ঘোষিত সভাপতি ও সম্পাদক ৬ ইউনিয়নের সভাপতি এবং সম্পাদককে নিয়ে বসে কমিটি করবেন অথচ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে সে সিদ্ধান্ত হয়েছে উপেক্ষিত। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদ মুঠোফোনে জানান, জেলা কমিটি এবং মন্ত্রী মহোদয় যে তালিকা করেছেন তা দিয়েই কমিটি হয়েছে, এর বাইরে আমি কিছু মন্তব্য করতে পারবো না। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মিসবাহুর রহমান মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক যে কমিটি জমা দিয়েছেন আমরা সেটা অনুমোদন করেছি। জেলায় বসে তো দেখতে পারি না জুড়ীতে কে কি করে? বরং কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে তো দেখছি সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বড় দল টুকটাক মান-অভিমান থাকতেই পারে। ভেদাভেদ ভুলে মাঠে কাজ করতে সবার প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর