× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৫ মে ২০২১, শনিবার, ২ শওয়াল ১৪৪২ হিঃ

সিলেটে ৩০০ ছাড়ালো মৃত্যু

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার

সিলেটে ৩০০ পাড়ি দিলো মহামারি করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। থামছে না মৃত্যুর মিছিল। গত আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিলেটে কিছুটা স্বস্তি ছিল। ওই সময়ে প্রায় দিনই মৃত্যু ছিল শূন্যের কোঠায়। কিন্তু বছর ঘুরতেই ফের তাণ্ডব শুরু করেছে করোনা। এখন প্রতিদিনই আসছে মৃত্যুর খবর। এরপরও সতর্ক হয়নি মানুষ। স্বাস্থবিধি না মেনেই তারা ছুটছেন।
গত বছরের ১৫ই এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছিল করোনার মৃত্যুর মিছিল। এখনো সময়ের কাটায় এক বছর পূর্ণ হতে বাকি তিন দিন। কিন্তু এই সময়ে করোনায় সিলেটবাসী হারালো ৩০১ জনকে। মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছিল সিলেটের ডাক্তার মইনউদ্দিনকে দিয়ে। এর পরও একে একে চলে গেছেন অনেকেই। মৃত্যুর মিছিলে এসে শরিক হয়ে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন সিলেটের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম এ হককে। করোনায় সিলেটে চিকিৎসক, নার্সসহ ফ্রন্টলাইনের অনেকের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া করোনার তাণ্ডব এসে থেমেছিল আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে। মৃত্যু ও আক্রান্তের হার কমে এসেছিল। গত মার্চ মাসের প্রথম দিক থেকে ফের করোনার দাপট বেড়েছে। এবারের করোনা আরো বেশি ভয়ঙ্কর, শক্তিশালী। সিলেট বিভাগে করোনায় মারা যাওয়া ৩০১ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সিলেটে। এ জেলার ২৩২ জন মারা গেছেন করোনায়। গতকাল আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে ২৬ জন, হবিগঞ্জে ১৮ জন, মৌলভীবাজারের ২৫ জন মারা গেছেন। এদিকে সিলেটে করোনা পরিস্থিতি না কমলে আইসিইউ স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, সিলেট বিভাগে সিরিয়াস রোগীর জন্য এখন আইসিইউর সংখ্যা খুবই কম। এ কারণে গুরুতর রোগীদের জন্য আইসিইউ বাড়াতে হবে। বর্তমানে সিলেটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় করোনা রোগীর জন্য আইসিইউ সংকট চলছে। সিলেটের করোনার পরিস্থিতির খবর মোটেও স্বস্তিকর নয়। গতকালও সিলেট বিভাগে করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৩ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের বুলেটিন সূত্র জানিয়েছে, আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে ৭৬ জন হচ্ছেন সিলেট জেলার বাসিন্দা। এ ছাড়া হবিগঞ্জের ২৫ জন, সুনামগঞ্জে ৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ২২ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা প্রমাণিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৬ জন। এর মধ্যে শুধু সিলেট জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৭৫০ জন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৬৩১ জন, হবিগঞ্জে ২ হাজার ১৪৭ জন ও মৌলভীবাজারে ২ হাজার ১৪৮ জনের করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। করোনা থেকে লড়াই করে সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪৮ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১০ হাজার ৫৪১ জন।
স্বাস্থ্যবিধি পালন নিয়ে শঙ্কা: রমজানের দুদিন আগে থেকে সিলেট নগর পরিণত হয়েছে অচেনা শহরে। গোটা শহরেই গিজগিজ করছে মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে গ্রাম এলাকার মানুষও এসেছেন সিলেট নগরীতে। পাশাপাশি রমজানের সওদা করতেও মানুষের গন্তব্যও হচ্ছে সিলেট নগর। এখন সিলেট করোনার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শহর। স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে বাজারে করোনা সংক্রমণের বার্তাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ কারো কথা শুনছে না। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। আগের মতো মার্কেট ও কিংবা অফিসের সম্মুখে হাত ধোয়ার সামগ্রী রাখা হচ্ছে না। মাস্ক ব্যবহারেও মানুষের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করে রমজানের আগের তিনদিনের সিলেট নগরীর মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলা ও পৌর শহরগুলোতে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগামী ১৪ই এপ্রিল থেকে ফের লকডাউন ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছে। এ কারণে মানুষ রমজানের বাজার করতে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। আগামী দুদিন একই অবস্থা থাকবে বলে জানান তারা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর