× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৫ মে ২০২১, শনিবার, ২ শওয়াল ১৪৪২ হিঃ

লকডাউনেও তীব্র যানজট, দুর্ভোগ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার
গতকালের নিউমার্কেট এলাকার চিত্র -ছবি : শাহীন কাওসার

চলছে সরকার ঘোষিত লকডাউন। কিন্তু রাজধানীর সড়কে যানবাহন ও পথচারীদের দেখে তা বুঝার উপায় নেই। সড়কে তীব্র যানজট। সকাল পেরিয়ে দুপুর, এমনকি গতকাল বিকাল পর্যন্ত একই অবস্থা ছিল ঢাকার বিভিন্ন সড়কের। মূল সড়কে দিনভর পিঁপড়ার গতিতে চলেছে যানবাহন। ট্রাফিক সিগন্যালে থেমেছে সেই গতিও। সিগন্যালে, যানজটে আটকা পড়ে বারবার সাইরেন বাজিয়েও সুবিধা করতে পারেনি এম্বুলেন্সগুলোও। চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, রোগাক্রান্ত ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী ও শিশুরা।
প্রখর রোদে যানজটের শিকার হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় থাকতে হয়েছে তাদের। বাধ্য হয়ে বাস ছেড়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছেছেন কেউ কেউ। তাদের একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রায়হান আহমেদ। মাতুয়াইল মেডিকেল সংলগ্ন বাসা থেকে বেলা ২টায় বের হয়ে তিনি ফার্মগেটে পৌঁছান বিকাল ৪টা ১৭ মিনিটে।

রায়হান জানান, রাস্তায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়েও বাস পাচ্ছিলেন না। তার মতো অনেকেই লাইন বেঁধে দাঁড়িয়েছিল। একপর্যায়ে রজনীগন্ধা পরিবহনের বাসে ওঠার সুযোগ পান তিনি। ওই বাসে গুলিস্তান হয়ে ধীর গতিতে, অনেকটা থেমে থেমে শাহবাগ পর্যন্ত যান। এরমধ্যে দীর্ঘ সময় কাটে সিগন্যালে। একদিকে অসহনীয় গরম, অন্যদিকে তীব্র যানজট। শাহবাগের পরে বাসের চাকা যেন চলছিল না কিছুতেই। বাধ্য হয়ে রায়হানসহ বাসের অনেক যাত্রীই নেমে হাঁটতে থাকেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিটে তিনি পৌঁছেন ফার্মগেটে।

যানজট ছিল ফ্লাইওভারেও। রামপুরার বাসিন্দা শরীফ সাব্বির জানান, রামপুরা থেকে মোটরসাইকেলযোগে সেগুনবাগিচা যেতে দীর্ঘ সময় কেটেছে মালিবাগ-কাকরাইলের ফ্লাইওভারে। তখন সকাল সাড়ে ১০টা। রামপুরা থেকে কাকরাইল পর্যন্ত পুরো রাস্তাজুড়ে ছিল যানজট। গাড়িগুলো চলছিল থেমে থেমে। এরমধ্যেই মোটরসাইকেলগুলো এগিয়ে যাচ্ছিলো ধীর গতিতে। আবুল হোটেল সংলগ্ন সিগন্যালে বেশ কিছুক্ষণ থামতে হয়। তারপর ফ্লাইওভার হয়ে কাকরাইলে যেতে সময় লেগেছে প্রায় আধাঘণ্টা। ফ্লাইওভারে উঠা ও নামার সময় ছিল যানজট। গাড়িগুলো নিচে নামতেই পারছিল না। একই অবস্থা ছিল রাজারবাগ-বাংলামোটর, তেজগাঁও, তেজগাঁও-বিজয় স্বরণী, গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে। মোটরসাইকেল যাত্রীরা তুলনামূলক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছালেও গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

মিরপুরের বাসিন্দা আসিফ ইকবাল জানান, মিরপুর-১০ থেকে বাসযোগে প্রায় দুই ঘণ্টায় মতিঝিলে যান তিনি। যাত্রীরা মাস্ক ব্যবহার করলেও বাসে উঠার সময় ঠেলা-ধাক্কার মধ্য দিয়ে বাসে উঠতে হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে পথে পথে দাঁড়িয়ে আছেন লোকজন। বাসের অপেক্ষায় থেকে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারেননি। মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, অফিসের কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। নেই নিজেরও। যে কারণে গণপরিবহনই ভরসা। লকডাউনের পর থেকে এজন্য ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তিনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে তবেই বাসে উঠার সুযোগ পান। অর্ধেক সিট ফাঁকা রেখে বাসগুলো চালানোর কারণে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আফজাল বলেন, প্রতি বাসে অর্ধেক যাত্রী কম নেয়া হচ্ছে। সে হিসাবে গণপরিবহন বাড়ার কথা থাকলেও তা বাড়ানো হয়নি। ভোগান্তির শিকার আফজালের মতো অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাধ্য হয়েই তারা সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে অফিসে যাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে বেতনের একটা বড় অংশই ব্যয় হয়ে যাবে যাতায়াতের ক্ষেত্রে।
বনশ্রীর বাসিন্দা এস এম মনির জানান, দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর স্বাধীন নামে একটি বাসে উঠতে পারেন তিনি। ওই বাসযোগে বনশ্রী থেকে মগবাজারের ইস্টার্ন ব্যাংকে যান। গিয়ে জানতে পারেন ব্যাংকের ওই শাখাটি করোনার কারণে বন্ধ। পরে তাড়াহুড়া করে রিকশা নিয়ে যাচ্ছিলেন ইস্টার্ন ব্যাংক কাকরাইল শাখায়। মগবাজার থেকে মৌচাক, শান্তিনগর এলাকায় প্রচণ্ড যানজট। শান্তিনগর সিগন্যালের থামতে হয় বেশকিছু সময়। তারপর কাকরাইলে ওই ব্যাংকে যখন পৌঁছান তখন দুপুর ১২টার বেশি। সারিবদ্ধভাবে ব্যাংকের কাউন্টার থেকে দরজা ও সিঁড়ি থেকে নিচতলার মূল সড়ক সংলগ্ন ফটক পর্যন্ত গ্রাহকদের অবস্থান। নিরাপদ দূরত্ব না রেখেই দাঁড়িয়েছিলেন তারা। এরমধ্যেই জানানো হয় সাড়ে ১২টার পর গ্রাহক সেবা বন্ধ। বাধ্য হয়েই ফিরে যান মনিরের মতো অনেকে। মনির জানান, তীব্র যানজট ও অব্যবস্থাপনার কারণে বেশ কয়েক ঘণ্টা অযথা কেটেছে তার। গত বুধবার থেকে সাতদিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করায় সাধারণ মানুষের অনেকে বাজার ও প্রয়োজনীয় কাজ সারতে বের হওয়ায় গতকাল সড়কে এমন তীব্র যানজট দেখা দেয়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঢাকার বাইরে থেকেও অনেক ব্যবসায়ী নানা মাধ্যমে ঢাকায় পণ্য কিনতে আসেন। এ ছাড়া ব্যাংক থেকে টাকা তুলতেও ভিড় করেন অনেকে।
ঢাকা মেট্রোপলিটনের ট্রাফিক বিভাগের রমনা’র উপ-পুলিশ কমিশনার জয়দেব চৌধুরী বলেন, গতকাল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ার কারণে যানবাহনের চাপ বেশি ছিল। তাছাড়া জনকণ্ঠ পত্রিকার সামনে বাংলামোটর সড়কে ওই পত্রিকায় কর্মরতদের অবস্থান থাকায় বিভিন্ন সড়কে এর প্রভাব পড়ে। তবে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরতরা চেষ্টা করছেন সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। এজন্য তারা এই করোনাকালেও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর